চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৭ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চার গণতন্ত্রকামীর মৃত্যুদণ্ড; বাংলাদেশের অস্পষ্ট মিয়ানমার নীতি

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২৭, ২০২২ ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

মিয়ানমারের জান্তা সরকার সে দেশের গণতন্ত্রকামী চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এদের মধ্যে একজন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমক্র্যাসির (এনএলডি) সাবেক আইন প্রণেতা ও জনপ্রিয় গায়ক ফিয়ো জেয়া থ, আরেকজন পরিচিত মানবাধিকার কর্মী কিয়াও মিন ইউ। এরা চলমান জান্তাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। বাকি দু’জনও সরকারবিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনাসহ নানা ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আটক করে সামরিক ট্রাইব্যুনালে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। জান্তা সরকার এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মধ্য দিয়ে তাদের স্বৈরাচারী নিপীড়নমূলক শাসনের শৃঙ্খলকে আরো জোরালো করার মহড়া দিলো।
মিয়ানমারে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করা হয়েছে। তার আগে থেকে বিদ্রোহী গ্রুপগুলো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দেশটিতে। এনএলডির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যের সরকার সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে জান্তার বিরুদ্ধে একটা ফ্রন্ট গড়ে তুলতে চায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে ইতোমধ্যে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। মিয়ানমারের জনগণের ব্যাপক অংশের পাশাপাশি এদের প্রতি নৈতিক সমর্থন রয়েছে গণতান্ত্রিক বিশ্বের। সে কারণে সামরিক সরকার গণতন্ত্রপন্থীদের মৃত্যুদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে একটি বার্তা দিতে চেয়েছে। আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা নেতাদের প্রতি কতটা নিষ্ঠুরতা অবলম্বন করা হবে এটি তারই নজির। মূলত গণতন্ত্রপন্থীদের হুমকি দিয়ে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিতে চায় সামরিক জান্তা। সংবাদ প্রচারের ধরনের মধ্যে সেটি স্পষ্ট বোঝা গেল। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গত সোমবার এ খবর ফলাও করে প্রকাশ করা হলেও মৃত্যুদণ্ড কখন কিভাবে কার্যকর করা হয়েছে তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। মানবাধিকার কর্মীরা সেখানে এ ধরনের আরো মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা করছেন। জান্তা সরকারের সামরিক আইনে তাদের সুবিধামতো ২৩ অপরাধ চিহ্নিত করেছে। বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখন এর শঠতাপূর্ণ ব্যবহার করা শুরু হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক বিশ্ব। অন্য দিকে, জান্তা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাকারী দেশগুলোর কেউ নীরবতা পালন করছে, কেউ ঘটনার ভিন্ন রকমের ব্যাখ্যা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা এই সামরিক সরকারকে মূলত আশকারা দিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনাকে মানুষের জীবনযাপন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও এর নিন্দা জানিয়েছে। চীন মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা এড়িয়ে গিয়ে বলছে, সংবিধানের মধ্যে থেকে মিয়ানমারের সব পক্ষকে সঙ্ঘাতের সমাধান করা উচিত। অন্য দিকে, দেশটি যখন পীড়নমূলক শাসনকে আরো কঠোর করছে, অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া দেশটির পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে এই ঘটনার কিছু দিন আগে। আরেকটি শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশ ভারতও গণতন্ত্রের ওপর এভাবে একের পর এক আঘাত করার পরও মিয়ানমারের জান্তা শাসকদের কোনো ধরনের নিন্দা বা সমালোচনা করে না। গণতান্ত্রিক বিশ্ব যদি সময়মতো মিয়ানমারের অন্যায় অনিয়ম বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে তাদের সাধ্যমতো ব্যবস্থা নিত তাহলে দেশটি আবারও হয়তো স্বৈরাচারী শাসনে নিপতিত হতো না।
মিয়ানমারের যেকোনো ধরনের অগণতান্ত্রিক শাসনে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, বাংলাদেশও মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে সুদৃঢ় নীতি গ্রহণ করতে পারেনি। দেশটির সামরিক নীতিনির্ধারকরা কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের সাথে একধরনের প্রতারণা করে যাচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মূল্যবোধ তারা রক্ষা করে না। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে চাপে পড়ে যখনই তারা অঙ্গীকার করে সুবিধাজনক সময়ে তারা সেটি আবার ভঙ্গ করে। এ ইস্যুতে তারা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অঙ্গীকারই রক্ষা করেনি। অথচ বাংলাদেশ এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখনো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেনি। বরং তারা বরাবর স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সামরিক জান্তার অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান নেয়া উচিত ছিল। সেখানে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড নিয়েও বাংলাদেশের একটি অবস্থান থাকা দরকার ছিল। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারক হিসেবে প্রতিবেশীদের ওপর চালানো যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। তাহলে আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে শক্ত নৈতিক ভিত্তি পাবো। কিন্তু আমাদের মিয়ানমার নীতি অস্পষ্ট থেকে গেছে।

Girl in a jacket

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।