চাকরি বাঁচাতে চরম ভোগান্তি নিয়েই যাত্রা

21

গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার খবরে লকডাউন উপেক্ষা করে ঢাকা ছুটছে মানুষ
ঝিনাইদহ অফিস:
চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যে কলকারখানা খোলার ঘোষণায় মহাসড়কে বেড়েছে মানুষের চলাচল। গতকাল শনিবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে ভিড়। বিভিন্ন স্থান থেকে ইজিবাইক, ভ্যান-রিকশাযোগে টার্মিনালে এসে হাজির হতে থাকেন তাঁরা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন হাজারো কর্মজীবী মানুষ। কাজে যোগ দিতে ইজিবাইক, মাহেন্দ্রসহ ছোট ছোট যানে ঢাকায় ফিরতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পৌঁছে সেখান থেকে নতুন বাহনে ঢাকা অভিমুখে ছুটছেন তাঁরা। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন যানবাহন মালিকরা। কয়েকগুন বেশি ভাড়া দিয়ে চাকরি বাঁচাতে ঢাকায় ছুটছেন মানুষ। যানবাহন না পেয়ে অনেককে বসে থাকতে দেখা গেছে।
যশোর থেকে ঢাকাগামী যাত্রী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যশোর থেকে আসছি, ঢাকা যাব। আগামীকালকে (আজ) থেকে তো অফিস খোলা। চাকরি বাঁচাতে অফিসে যেতেই হবে। সেই কারণে বাঁচ্চা-কাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্ট-দুর্ভোগ সহ্য করে সিএনজি, অটোরিকশা করে ঝিনাইদহ পর্যন্ত পৌঁছেছি।’
আব্দুল্লাহ নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘আমি আসছি অভয়নগর যশোর থেকে। এখন যাব ঢাকা। আমার সঙ্গে স্ত্রী সন্তান আছে। এখন কী করে ঢাকা যাব, তা নিয়ে ভাবছি।’ তিনি বলেন, ১০ টাকার ভাড়া ১ শ টাকা নিচ্ছে। তাও গাড়ি পাচ্ছি না। খুবই বিপদে আছি।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে আসা নাজমুল হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের কথা কখনো চিন্তাই করে না। আমাদের কথা যদি ভাবত, তাহলে গাড়ি চালু করতো। গাড়ি বন্ধ করে গার্মেন্টস খুলে দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এভাবে ভোগান্তি দেওয়া ঠিক না।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ ট্রাফিট ইন্সপেক্টর সালাহউদ্দিন বলেন, সকাল থেকে টার্মিনালে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। তাঁরা ছোট ছোট যানবাহনে গন্তব্যে যাচ্ছেন।