চাকরি প্রত্যাশীদের ভোগান্তি দূর করুন

422

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হচ্ছে না কিছুতেই। যে পরীক্ষাই হোক না কেন কোনো না কোনোভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষার মতো এখন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা হতাশ। একশ্রেণির অসৎ ও লোভী মানুষ প্রশ্নপত্র ফাঁস করে যাচ্ছে। অসাধু চক্র একের পর এক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জনতা ব্যাংকে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার এক মাস যেতে না যেতেই অগ্রণী ব্যাংকের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের খবর এলো। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গত ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ওই পরীক্ষা বাতিল না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আদালতে রিট করেন। এরপর আদালত ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশসহ পরবর্তী কার্যক্রমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন। অগ্রণী ব্যাংকে নিয়োগের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয় সকাল ও বিকেল দুই ধাপে। প্রথমে সকালে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ অবস্থায় বিকেলে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা না নিয়ে তা বাতিল করা হয়। পরে সকালের পরীক্ষাও বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ঘোষণা করে দুই শিফটে না নিয়ে এক শিফটেই পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অবস্থা যা তাতে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করাকালে যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবেন বলে মনে হয় না। দেশের আজকের তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু এরা ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে প্রথমেই যদি বাধার সম্মুখীন হয় তা হলে তারা হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষার অধিকাংশই অনুষ্ঠিত হয় ঢাকাতে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে হাজার হাজার বেকার ঢাকায় আসে পরীক্ষা দিতে। তারা কষ্ট করে ঢাকায় যেয়ে যখন শোনে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল। তখন তাদের কেমন লাগে? দরিদ্র পরিবারে ছেলে-মেয়েদের জন্য বিষয়টি আরো কষ্টের। পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় তাদের ভোগান্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় তাদের। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সমাজে অনৈতিকতার দিকটি নগ্নভাবে পরিস্ফুট। এ অনৈতিকতা ক্রমে বাড়ছে। এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রোধ করে চাকরিপ্রত্যাশি তথা তরুণ প্রজন্মের হতাশা ও ভোগান্তি দূর করতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সে সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে।