চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৬ মে ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : উদ্বেগ-আতঙ্কে দেশ

সমীকরণ প্রতিবেদন
মে ২৬, ২০২১ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি, বাঁধ ভেঙে অনেক এলাকা প্লাবিত, নৌ চলাচল বন্ধ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’র গতিপথ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরে উড়িষ্যার দিকে চলে যাচ্ছে। প্রবল বেগে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বঙ্গোপসাগরসহ দেশের নদীগুলোয়। পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলোচ্ছ্বাস এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোয়ও এর প্রভাব পড়ছে। এরই মধ্যে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা পস্নাবিত হয়েছে। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে চলেছে। এদিকে চূড়ান্ত আঘাতের সময় ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিতে পারে ইয়াস। পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় আঘাতের সময় বাংলাদেশের উপকূলে ৮০-১০০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, হতে পারে জলোচ্ছ্বাস। দেশের উপকূলীয় এলাকায় এর প্রভাব তীব্রভাবেই পড়বে। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এলাকাগুলোয় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজার উপকূলকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পাঁচটার দিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং জয়েন টাইফুন অ্যান্ড ওয়ার্নিং সেন্টারের পূর্বাভাসে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার উপকূলে আঘাত হানতে পারে। উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার হতে পারে। অর্থাৎ এটি অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে বাতাসের গতিবেগ ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার হতে পারে।
এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বলেন, ইয়াস অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ভারতে আঘাত করতে পারে। তবে বাংলাদেশের খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার এবং ঝড়ো বাতাসের মুখে পড়বে। আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও একই সঙ্গে পূর্ণিমা হওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৪ ফুট বেশি উচ্চতার জোয়ার হতে পারে। সাগর উত্তাল রয়েছে। এরই মধ্যে ঝড়টির প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলাগুলোয় ঝড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনার নিচু এলাকা এবং চরাঞ্চলগুলোয় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ টপকে ও ভেঙে ওই পানি প্রবেশ করছে। সুন্দরবনের দুবলার চরসহ জেলেপলস্নীগুলোর অধিকাংশ এলাকা এরই মধ্যে ডুবে গেছে।
দেশের উপকূলীয় জেলাগুলো থেকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রাসহ কয়েকটি উপজেলায় আগে থেকেই বেড়িবাঁধগুলো ভাঙা ছিল। সেখান দিয়ে এখন বসতি এলাকা এবং মাছের ঘেরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়ছে। ঝড়ো হাওয়ার কারণে অনেক স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে। এসব এলাকার অধিবাসী নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এসব এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে দিকে ছুটে আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো উপকূলবাসীকে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে।
নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ:
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’র কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলো থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিস্নউটিএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মঙ্গলবার বিকাল থেকে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়ে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৬৫ থেকে ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। এদিকে ঢাকার আবহওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি:
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি, মাঠ পর্যায়ের সব সরকারি কর্মকর্তাদের সার্বিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন স্থানীয় সরকার, পলস্নীউন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অনলাইনে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক এক জরুরি সভায় মন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিবিড় সম্পর্ক থাকে। এ কারণে জনপ্রতিনিধিরা মানুষকে দুর্যোগ সম্পর্কে সতর্ক এবং সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সব স্তরের জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বসে করণীয় ঠিক করে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিলে যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব।
মো. তাজুল ইসলাম জানান, ‘ইয়াস’ মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি তদারকি এবং সমন্বয়ের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে (কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর ৯৫৪৫৪১৫)। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সহযোগিতায় এই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে খোলা অন্যান্য কন্ট্রোল রুমের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে জলোচ্ছ্বাস হওয়ায় ওইসব এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। জরুরি পানি সরবরাহ করতে হয়। স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে স্থানীয় ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেয় মন্ত্রী। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ইতোমধ্যে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট পস্নান্ট, ওয়াটার পিউরিফাই ট্যাবলেট, স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রস্তুত রেখেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
প্রস্তুত বিমান বাহিনী:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিমান ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।