ঘরে বসেই গ্রেনেড তৈরি করছে জঙ্গিরা

324

fddffসমীকরণ ডেস্ক: রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিং ও গাজীপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া গ্রেনেডের মতো আশকোনার গ্রেনেডগুলোও হাতে তৈরি। গোয়েন্দাদের ধারণা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ জঙ্গিরা এসব ঘরে বসেই তৈরি করে তা বড় ধরনের হামলার জন্য মজুদ করে। এসব গ্রেনেড যথেষ্ট শক্তিশালী এবং সেফটি পিনও অত্যন্ত মজবুত বলে নিশ্চিত হয়েছেন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটি) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আশকোনা থেকে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি ফিরোজ, সুমন ও সেলিমথ এ তিনজনের মধ্যে যে কেউ একজন গ্রেনেড তৈরির দক্ষ কারিগর। সে-ই আশকোনার আস্তানায় বসে এসব গ্রেনেড তৈরি করেছেন। তবে তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দলের অন্য কেউও এ গ্রেনেড তৈরি করতে পারে। গোয়েন্দাদের ধারণা, শুধু আশকোনাতেই নয়, অন্যান্য আস্তানাতেও জঙ্গিরা এ ধরনের গ্রেনেড তৈরি করে তা মজুদ করতে পারে। যা তাদের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি বিক্ষিপ্তভাবে সংগ্রহ করে ঘরে গ্রেনেড তৈরি করা হলে তা ঠেকানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত কঠিন হবে। এদিকে কাউন্টার টেররিজমের অপর একজন কর্মকর্তার ধারণা, প্রতিবেশী দেশ থেকে বিস্ফোরকসহ গ্রেনেড তৈরির অন্যান্য সরঞ্জাম এবং অস্ত্র আসছে। সে দেশে বসেই মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জেএমবি নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি (৩৮), জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান (৩৫) এবং সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ দেশে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের নির্দেশে দেশে অস্ত্র ও বোমার মজুদ করছেন মুসা। এছাড়া বেশ কিছু জঙ্গি সদস্য পুলিশের অভিযানে মারা যাওয়ায় নতুন করে সদস্য সংগ্রহ ও দলকে শক্তিশালী করার দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুর থেকে আদালতে নেয়ার পথে ময়মনসিংহের ত্রিশালে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি এবং রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ ও যাবজ্জীবন কারাদ-ে দন্ডিত জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। এরপর সানি ও মিজান প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রাকিবুল। সানি ও বোমারু মিজানের অবর্তমানে সংগঠন পরিচালনা করেন তামিম চৌধুরী। জঙ্গি কর্মকা-ের মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর নব্য জেএমবির হাল ধরেলিলেন তানভীর কাদেরী। আজিমপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে তিনিও মারা যান। এরপর আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে মারা যান আরেক শীর্ষ জঙ্গি সারোয়ার জাহান। ভারতে পালিয়ে যান শীর্ষ জঙ্গি মামুনুর রশিদ রিপন। নূরুল ইসলাম মারজান, বাশারুজ্জামান চকলেট ও রাজীব গান্ধী দেশেই লুকিয়ে আছে বলে ধারণা গোয়েন্দাদের।
ডিএমপির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মুসার সঙ্গে সোহেল মাহফুজের যোগাযোগের তথ্য তারা পেয়েছেন। আর তা থেকে তারা সন্দেহ করছেন, তার মাধ্যমে অস্ত্র-বিস্ফোরকের চালান প্রতিবেশী দেশ থেকে পাচার করেছিলেন মুসা। যা তিনি আশকোনার আস্তানায় মজুদ করেন এবং পরে ওই বিস্ফোরক দিয়েই হ্যান্ডমেইড গ্রেনেড তৈরি করা হয়।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাসহ নব্য জেএমবির নেতৃত্বে বিভিন্ন হামলায় এই সোহেল মাহফুজ অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করে বলে জানতে পারেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। গুলশান হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৃথক অভিযানে নব্য জেএমবির ‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিমসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হন। এরপর নব্য জেএমবির হাল ধরে মাইনুল ইসলাম ওরফে মুসা ওরফে আবু মুসা। রাশেদুর রহমান ওরফে সুমন, ফিরোজ ও সেলিম নামে তিন সঙ্গীকে নিয়ে আবারও ‘বড় হামলা’র পরিকল্পনা করেন তিনি। এ কারণে তিনি সোহেল মাহফুজের সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন।