চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গুড়-পাটালি তৈরিতে ব্যস্ত তিতুদহের গাছিরা

আকিমুল ইসলাম:
ডিসেম্বর ১৩, ২০২১ ১:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শীতের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গায় খেজুরের রস দিয়ে গুড় ও পাটালি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও গাছিরা। কম খরচে মেশিন ছাড়াই গুড় ও পাটালি তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন তাঁরা। এখানকার তৈরি গুড় সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদাও ভালো। তবে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলে গুড় তৈরি সহজ ও সময় কম লাগতো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। খেজুরের রস থেকে গুড় ও পাটালি তৈরিতে বিখ্যাত চুয়াডাঙ্গা। জেলার তিতুদহ ইউনিয়ন গুড় ও পাটালি তৈরিতে বিখ্যাত হিসেবে পরিচিত। কারণ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের জমির আইল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য খেজুর গাছ। বিকেলে এসব গাছের খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য মাটির তৈরি হাঁড়ি (ভাড়) ঝুলিয়ে রাখেন গাছিরা। পরদিন ভোরে রস বোঝাই হাঁড়ি গাছ থেকে নামিয়ে আগুনের তাপে তৈরি করা হয় গুড় ও পাটালি। গাছিরা জানান, এক হাঁড়ি রস থেকে এক কেজি গুড় তৈরি হয়। আর প্রতি কেজি গুড় ও পাটালি বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২৭০ টাকায়।

এদিকে, ভেজালমুক্ত খেজুরের গুড় তৈরিতে গাছিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবায়ের মাশরুর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গুড়ের সবচেয়ে বড় হাট বসে চুয়াডাঙ্গায়। যার মধ্যে সর্বোচ্চ বেচাকেনা হয় সরোজগঞ্জ গুড়ের হাটে। এছাড়াও বেশকিছু জমকালো হাটও বসে জেলার কয়েকটি স্থানে। প্রতিটি হাটেই দিনে কোটি টাকারও কেনাবেচা হয়। গাছিদের প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা যেন কোনো পণ্যে ভেজাল না মেশায়।

তিতুদহ ইউনিয়নের ৬২ আড়িয়া গ্রামের কয়েকজন গুড় উৎপাদনকারী কৃষকের সাথে কথা হলে তাঁরা বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর খেজুর গাছ চাষিরা নিম্নচাপের কারণে গাছ প্রস্তুত করা হতে পিছিয়ে গেছে। তাই এখনও পরিপূর্ণভাবে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে পারেনি। তবে গাছ থেকে কিছুদিন পর পরিপূর্ণ রস পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন গাছ থেকে নামছে অল্প রস, তা দিয়ে অনেক গাছি তৈরি করছে গুড়ের পাটালি। কারণ, গুড়ের তুলনায় একটু বেশি পরিশ্রম করলে অধিক মুনাফা পাওয়া যায় পাটালিতে।

স্থানীয় কয়েকজন গুড় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তাঁরা বলেন, এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে গুড় পাওয়া যাচ্ছে না চাষিদের কাছে থেকে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে পুরোদমে বেচাকেনা। তবে এখন গুড়ের পরিবর্তে পাটালি তৈরি করার কারণে গুড়ের চাহিদা বেড়ে গেছে, যার ফলে গুড়ের দাম আগুন ছোঁয়া। তবে ১৫-২০ দিনের মধ্যে দাম কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।