চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১১ আগস্ট ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গুম-নির্যাতন বিচারবহির্ভূত হত্যা

বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিতে ৯ আন্তর্জাতিক সংস্থার আহ্বান
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
আগস্ট ১১, ২০২২ ৫:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিতে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটকে আহ্বান জানিয়েছে ৯টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। আগামী ১৪ থেকে ১৮ আগস্ট তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন। এক বিবৃতিতে সংস্থাগুলো বলেছে, মিশেল ব্যাচেলেটের এই সফরে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং গুমসহ গুরুতর সব নির্যাতন বন্ধে প্রকাশ্যে আহ্বান জানানো উচিত। গতকাল বুধবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ : ইউএন রাইটস চিফ শুড রেইজ কনসার্ন’ শিরোনামে ওই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সফরের সময় জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার সরকারি কর্মকর্তা এবং সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথাও রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই সফরে যদি তিনি পরিষ্কার ভাষায় এই নির্যাতনের নিন্দা না জানান কিংবা সংশোধনের আহ্বান না জানান, তাহলে শাসক দল আওয়ামী লীগ তার নীরবতাকে নিজেদের নিপীড়ন এবং অ্যাক্টিভিস্টদের দমনকে বৈধতা দিতে ব্যবহার করতে পারে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শত শত বাংলাদেশীকে জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন এবং হত্যার শিকার হতে হয়েছে। যদিও আগের সরকারগুলোর সময়েও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তবে জোরপূর্বক গুম গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার শাসনকালের ‘হলমার্কে’ পরিণত হয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। এর জন্য বাংলাদেশ সরকার ভিক্টিমদের স্বজন, মানবাধিকারকর্মী ও তাদের পরিবার এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়েছে। হাইকমিশনার ব্যাচেলেটের উচিত বাংলাদেশ সরকারকে এসব গুম, নির্যাতন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনে চাপ দেয়া। এ ছাড়া ভিক্টিম, তাদের পরিবার এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে কমিশন গঠনে নিজের সংস্থার সাহায্যও প্রস্তাব করা উচিত ব্যাচেলেটের। বাংলাদেশ সরকারের কাছে তার স্পষ্ট করে জানানো উচিত, নিরাপত্তা বাহিনী যদি অব্যাহতভাবে এই নিপীড়ন চালিয়ে যায় তাহলে তা জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশী সেনাদের মোতায়েনকে হুমকিতে ফেলবে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিবৃতিতে বলেছে, জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এমন এক সময়ে বাংলাদেশ সফর করবেন যখন দেশটির সুশীলসমাজের বিরুদ্ধে আক্রমণ বেড়েই চলেছে। সরকার অনেক সংস্থার তহবিল আটকে দিয়েছে এবং মানবাধিকারকর্মীদের কার্যক্রম বন্ধে চাপ দিচ্ছে। মানবাধিকার কর্মী এবং সংস্থাগুলো যাতে স্বাধীনভাবে এবং ভয়হীন পরিবেশে কাজ করে যেতে পারে সেটি নিশ্চিতে তাদের ওপরে চলমান সব হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানানো উচিত ব্যাচেলেটের। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিক এবং সরকার সমালোচকদের দমন এবং স্তব্ধ করতে ২০১৮ সালের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট এবং ২০০৬ সালের আইসিটি অ্যাক্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এসব আইনের অধীনে করা মামলাগুলো চলছে। ফলে এর অধীনে অভিযুক্তরা অব্যাহতভাবে হেনস্থা হয়ে চলেছেন। ২০১৩ সালের এক আন্দোলনে সরকার অত্যাধিক বল প্রয়োগ করছে বলে রিপোর্টের কারণে বিচারের মুখোমুখি করা হয় মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের আদিলুর রহমান খান এবং এএসএম নাসিরুদ্দিন এলানকে। ২০২২ সালে সরকার অধিকারের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করে দেয় এবং অভিযোগ তোলে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জোরপূর্বক গুম নিয়ে সংস্থাটির প্রোপাগান্ডা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের কারণেই র্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

হাইকমিশনার ব্যাচেলেটের প্রকাশ্যে উল্লেখ করা উচিত যে, সুশীলসমাজের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর এমন দমন-পীড়ন ২০২৩ সালে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনকে হুমকিতে ফেলছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান বিরোধী দলকে বৈঠক এবং সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় সরকার বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এ ছাড়া বিবৃতিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষের ওপরে চাপ দিতেও ব্যাচেলেটের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংস্থাগুলো বলেছে, সমালোচকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও প্রতিহিংসা এবং বাংলাদেশ সরকারের আরো স্বৈরাচারী ধারা বন্ধ করার আহ্বান জানানোর জন্য হাইকমিশনারের এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বাংলাদেশে অব্যাহত থাকা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সম্পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যাচেলেটের উচিত সরকারকে চাপ দেয়া। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা মানবাধিকার সংস্থাগুলো হচ্ছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এন্টি-ডেথ পেনাল্টি এশিয়া নেটওয়ার্ক, এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিজএপিয়ারেন্সেস, এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রোজেক্ট, ইলিওস জাস্টিস-মোনাশ ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিজএপিয়ারেন্স, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস এবং রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।