চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৫ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গুজবে দিনভর উত্তেজনা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
নভেম্বর ২৫, ২০২১ ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজপথের রাজনীতিতে ছিল কার্যত ‘রাতের নিস্তব্ধতা’। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সুযোগের দাবিতে বিএনপির সরবতা, গণপরিবহনে হাফ ভাড়া করে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন-বিক্ষোভ, সিটি কর্পোরেশনের গাড়ির চাকায় নটরডেম কলেজের ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মতিঝিলে সড়ক অবরোধ, বেগম জিয়ার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিটে বাড়তি সতর্কতা, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধীদল বিএনপির নেতাদের উত্তপ্ত বক্তব্যে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েও দিনভর গুজবের ডালপালা ছড়াতে থাকে। তার বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে এর মধ্যেই বিএনপি ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আইনজীবীরা আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। দেশের ২ হাজার ৫৮২ সাংবাদিক বেগম জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সাথে নিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার মতো বিএনপির মুখ নেই, তাই তারা আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে নতুন নতুন ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে।

খালেদা জিয়া বিদেশে চিকিৎসা :

বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলন জোরদার হয়েছে। গতকাল এ দাবিতে ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, মৌন মিছিল, দোয়া মাহফিল। এর আগে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা ক্রিটিক্যাল। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম গুরুতর অসুস্থ। প্রথম থেকেই বলে এসেছি তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, এটিই অ্যাপ্রোপ্রিয়েট। তার অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল (সংকটাপন্ন)। তাকে বিদেশে অ্যাডভান্স সেন্টারে পাঠানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, এটা চিকিৎসকদের কথা। সুনির্দিষ্টভাবে তারা দেশের নামও বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানি এ তিনটি দেশের যে কোনো জায়গায় হতে হবে।’

অতপর মধ্যরাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও ম্যাডামের শরীর যথাযথভাবে সাড়া দিচ্ছে না। তার শরীর ওষুধ গ্রহণ করতে পারছে না।’ এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ব্লগ, টুইটারে ‘বেগম জিয়া মরা গেছেন’ এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে সারাদেশ থেকে উদ্বিগ্ন বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের প্রিয় নেত্রীর খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। এভারকেয়ার হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির কিছু নেতাকর্মী। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে খালেদা জিয়ার হিমোগ্লোবিন ও রক্তচাপ কমে গেছে। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত। রক্তও দিতে হচ্ছে। ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। তখন থেকে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়াতে থাকে। গতকাল সবখানে খালেদা জিয়ার অবস্থা কেমন সেটাই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গত ১২ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সি খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনা থেকে ভাল হলেও তিনি আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

গতকাল নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডামের চিকিৎসার ব্যাপারে বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তার অবস্থা আগের মতোই আছে। ডাক্তারদের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। মৃত্যুর গুজবের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি এসব গুজবের কোনো ভিত্তি নেই। আপনারা সরাসরি আমাকে ফোন করবেন। সুকৌশলে কোনো মহল এ গুজবগুলো ছড়াচ্ছে। সমাজে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে চাপ সৃষ্টি শুরু হয়েছে। সব পরিস্থিতি বুঝেই আমাদের কর্মসূচিগুলো দিতে হয়। আমরা কখনোই কোনো হঠকারী কর্মসূচির দিকে যেতে চাই না। সারা দেশে রেড এলার্টের বিষয়ে তিনি বলেন, রেড এলার্ট কোথায়, হোয়্যার। এগুলো আপনারা কোথায় পান? সরকার কি কোনো বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে?

সংবাদ সম্মেলন করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি খালেদা জিয়াকে হত্যা করা হচ্ছে। খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তিনি কতক্ষণ, কয় মিনিট, কয় দিন বাঁচবেন সেটা বলতে পারব না। তবে এটা বলতে পারি তিনি চরম ক্রান্তিকালে আছেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না দিয়ে তাকে হত্যা করা হচ্ছে। ওনার মুখ দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে। ব্লাড প্রেসার ১০০ নিচে নেমে এসেছে। আমি সেখানে দেখেছি খালেদা জিয়াকে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। ওনাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দিলে হত্যা করা হলে আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হুকুমের আসামি হবেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসুস্থ রাজনীতি না করার জন্য বিএনপিকে অনুরোধ জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়াকে অসুস্থ রেখে বিএনপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। এতে করে তাকে অসম্মান করা হচ্ছে। অতীতেও আমরা দেখেছি খালেদা জিয়ার হাঁটুতে ও গায়ের তাপমাত্রা বেড়ে গেলেও তাকে বিদেশ পাঠানোর দাবি তোলা হয়েছে। কিছু হলেই বিদেশ পাঠাতে হবে এই জিকির তোলার কারণ কী? এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।