গাংনী পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা সম্পন

66

গাংনী অফিস:
জনসম্মুখ এবং ফেসবুক লাইভের মধ্যদিয়ে দরপত্র বাক্স (টেন্ডার বক্স) খোলা এবং দরপত্রদাতাদের খাম খোলার স্বছ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে গাংনী পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা কার্যক্রম সম্পন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে পৌরসভা কার্যালয় এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা দুপুর দুইটায় পৌরসভা ভবনে রাখা দরপত্র বাক্সের তালা খালা হয়। এসময় পৌর মেয়র আহম্মদ আলী, কাউন্সিলরবৃন্দ, গাংনী প্রেসক্লাব সভাপতি রমজান আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজগর আলী, যুবলীগ নেতা আনোয়ার পাশাসহ বিভিন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলন। বাক্সের মধ্য পাওয়া যায় ১০টি মুখবন্ধ খাম। এর মধ্যে গাংনী হাটের (সবজি বাজার ও মৎস্য আড়ৎ) ৪টি, বাঁশবাড়ীয়া হাটের ৩টি এবং পর জবেহখানার ৩টি দরপত্র। দরপত্রগুলা আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভা কক্ষে খোলা হয়।
প্রথমে খোলা হয় গাংনী হাটের দরপত্র। দাখিলকত চারটি দরপত্রের মধ্য সর্বোচ্চ দরদাতা গাংনী কাঁচা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাহাদুল ইসলাম। তিনি দর দিয়েছেন ৪২ লাখ ৪২ হাজার টাকা। সিডি দাখিল করেছেন ২২ লাখ টাকার। এ হাটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা হলেন গাংনী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন। তিনি দর দিয়েছেন ৪১ লাখ টাকা। সিডি দাখিল করেছেন ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকার। তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা গোপালনগর গ্রামর কাওছার হামিদ। তিনি ৩০ লাখ টাকার দর দিলেও কোনো সিডি দাখিল করেননি। অপর দরপত্রদাতা গাংনী থানাপাড়ার ছাটন আলী। তাঁর দর ৪৫ হাজার টাকা। সিডি ছয় হাজার টাকার।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র নীতিমালার আলোকে দরদাতা যা দর দাখিল করবেন, তার ৩০ ভাগ টাকা ব্যাংকের সিডির মাধ্যম দরপত্রের সাথে দাখিল বাধ্যতামূলক। এদিকে, বাঁশবাড়ীয়া হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা সামসুদ্দীন শেখ। তাঁর দর ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা। সিডি দিয়েছেন ৮০ হাজার টাকার। শিশিরপাড়ার মাহমুদ হাসিব ও কুতুব উদ্দীন দরপত্র দাখিল করলেও তারা কোনো সিডি দাখিল করননি।
এদিকে গাংনী পৌর জবেহখানার জন্য তিনজন দরপত্র দাখিলকারীর মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন। তাঁর দর ৬৩ হাজার টাকা। সিডি দাখিল করেছেন ১৯ হাজার টাকার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা চৌঁগাছা গ্রামের ইণ্টুরাজ। তাঁর ৪০ হাজার টাকা এবং সিডি ৪ হাজার টাকা। অপর দরপত্রদাতা গাংনীর ভিটাপাড়ার হাসানুজ্জামান দর দিয়ছন ৪৫ হাজার টাকা এবং সিডি ৬০ হাজার টাকা।
দরপত্র কার্যক্রম মেয়র আহম্মদ আলী বলন, এর আগের বছর বিদায়ী মেয়র যে সিডি জমা নিয়েছিলেন, তা জালিয়াতি করা। এজন্য এবার সিডিগুলা ভালোভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ওই জাল সিডির বিষয় অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থার দিকে যাবে পৌর পরিষদ। দরপত্র কার্যক্রম কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে কাজটি করছে পৌর পরিষদ উল্লেখ কর তিনি বলেন, গত বছর গাংনী হাটের দর ৬৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও হিসেব পাওয়া যায় সাড় ২২ লাখ টাকা। তবে ওই হাটের রেজুলশন, সিডি ঠিক নেই। কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সই-স্বাক্ষরও নেই। তিনি বলেন, এর আগে পৌরসভার হাট-বাজার ইজারার বিষয় অনেক বদনাম আছে। তাই আমি স্বচ্ছতার মধ্যদিয় এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যাগ গ্রহণ করেছি। পৌরসভার সকল কাজ সহযোগিতা করার জন্য তিনি পৌরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।