গাংনীর বামুন্দি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম শামীম হুসাইনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

143

গাংনী অফিস:
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনীর বামুন্দি জোনাল অফিসের এজিএম শামীম হুসাইনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে চরগোয়াল গ্রামের কৃষক গোলাম হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী। গতকাল শনিবার দুপুরে গাংনী প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন ভুক্তভোগী রুবেল।
তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ০৭-০৭-২০১৯ ইং তারিখে চরগোয়ালগ্রামে অগভীর নলকুপ স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা সেচ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৩৭টি স্কীমের অনুমোদন দেওয়া হয়। যার মেয়াদ ছিল ০৬ (ছয়) মাস। উক্ত তারিখের মধ্যে চরগোয়াল গ্রামের কায়েমুদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম উক্ত সংযোগ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় অনুমোদনপত্রের শর্তানুযায়ী ০৬-০১-২০২০ তারিখে তার স্কীমটি বাতিল বলে গণ্য হয়। ফলে আমার পিতা গোলাম হোসেন বিএডিসি উচ্চতর উপসহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ)-এর কার্যালয়ে ২৬-০৮-২০২০ তারিখে নতুন স্কীম নেওয়ার আবেদন করেন। যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। প্রস্তুতি চলাকালে হঠাৎ করে প্রায় ২০দিন পূর্বে স্কীম বাতিল হওয়া শহিদুল ইসলামকে তাড়াহুড়া করে পল্লীবিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে দিয়েছে। এবিষয়ে গাংনী উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আমার পিতা গোলাম হোসেন একটি লিখিত অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিটির সেচ কমিটির বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) শ্যামল হোসেনকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। শ্যামল হোসেন ২৯-১১-২০২০ তারিখে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে পল্লীবিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ বলে উল্লেখ করেছেন। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ ০১-১২-২০২০ তারিখে শহিদুল ইসলামের বিদ্যুৎ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করার লিখিত নির্দেশ দেন। কিন্তু অদ্যাবধি বিদ্যুৎ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন না করে বামুন্দি পল্লী বিদ্যুৎ এজিএম শামীম হোসাইন বিভিন্নভাবে তালবাহানা করে চলেছেন। এবিষয়ে দফায় দফায় উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বসেও পল্লী বিদ্যুৎ খোড়া যুক্তি দেখিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করছেন না। পল্লী বিদ্যুৎ এজিএম সংযোগটি বিচ্ছিন্ন না করায় অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসী। তবে গোলাম হোসেন এর একটি সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। সেচ কমিটির সিদ্বান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বামুন্দি জোনাল অফিসের এজিএম রয়েছেন বহাল তবিয়তে। উপজেলা প্রশাসন ও বিএডিসি’র সিদ্ধান্ত তিনি কেন উপেক্ষা করছেন এমন প্রশ্ন করা হলে এজিএম শামীম হুসাইস কোনো মন্তব্য করতে চাইনি।