চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৩ জুলাই ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাংনীর বামন্দীতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে প্রবাসীর বাড়িতে অভিযান

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ২৩, ২০১৭ ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গাংনীর বামন্দীতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে প্রবাসীর বাড়িতে অভিযান : মেলেনি গোলাবারুদ
জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে আটককৃতদের ছেড়ে দিল পুলিশ
01গাংনী অফিস: জঙ্গি আস্তানার গোপন সংবাদে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীতে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িসহ ওই এলাকা সকাল থেকে ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। স্থানীয় সড়কে জনচলাচল বন্ধ করে দিয়ে এলাকায় পযাপ্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। সারাদেশের ন্যায় এখানেও তৈরী করা হয় পযাপ্ত নিরাপত্তা বলায়ের। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের বামন্দী নামক স্থানের ওই দুই তলা বাড়িতে পুলিশ সুপার আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালায়।
সোদিপ্রবাসীর মেশকাত হোসেনের বাড়ি থেকে সন্দেহজনক দুই ভাড়াটিয়া মাবিয়া ও রোজিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তার আগে বাড়ি মালিক মেশকাতের ছেলে হাসিবুর রহমানকেও আটক করে পুলিশ। তবে জঙ্গি সন্দেহে অভিযান চালানো ওই বাড়ি থেকে বোমা অস্ত্র কিংবা জিহাদী বই পাওয়া যায়নি।
ভাড়াটিয়া আব্বাস আলীর বামন্দী বাজারে মা গামেন্টস নামের একটি ছিট কাপরের দোকান রয়েছে। তিনি গাংনী উপজেলার  ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল শনিবার দুপুরে অভিযানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান। পরে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ছেড়েদেওয়া হয়। এব্যাপারে গাংনী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনোয়ারহোসেন জানান, তাদের জঙ্গি সন্দেহে আটক করা হলেও তদন্তেতেমন কিছু না পাওয়ায় ছেড়েদেওয়া হয়।
আটককৃত রোজিনার স্বামী ভাড়াটিয়া আব্বাস আলী জানান, চলতি মাসের ৬ তারিখে নিজ গ্রাম ভবানীপুরথেকে আমাদের আত্বীয় সৌদিপ্রবাসী মেশকাতের বাড়িতে ভাড়া উঠি। নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে এখানকার স্থানীয় মানুষের সাথে তেমন চলাচল হতো না। সকালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে রাতে ফিরতাম। তাই হয়তো কোন মানুষ সন্দেহ করতে পারে।
বামন্দী এলাকার হোসেন আলী জানান, আব্বাস নতুন ভাড়াটিয়া। তবে তিনি দির্ঘদিন ধরে বামন্দী বাজারে ব্যবসা করে আসছে। পাচ ওয়াক্ত নামাজ-কালাম ও আর ব্যবসা-বানিজ্য নিয়ে থাকেন। তবে তার ভিতরে কোন খারাপ দিক দেখা যায়নি।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথমে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল জানতে পারে যে রাতে বহিরাগতরা ওই বাড়িতে অতিগোপনে যাওয়া-আসা করে। ওই ভাড়াটিয়াদের জীবন যাপন নিয়েও আমাদের সন্দেহ হয়। যার ফলে আমি উর্ধতন কর্মকর্তাদের এবিষয়ে অবহিত করি। উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রেখে শুক্রবার রাত থেকে আমরা ওই বাড়ি পুরো নজরে রাখি। সকাল হওয়ার সাথে সাথে ওই এলাকা আমরা পুলিশ বেষ্টুনিতে ঘিরে ফেলি।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানান, আমরা জানতে পারি এখানে যারা ভাড়াটিয়া উঠেছে তাদের চলাচল খুবই সন্দহজনক। সেই সুত্র ধরে গত কয়েকদিন আগে থেকে পুলিশের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা এখানে কাজ করছে। গতকাল শনিবার  সকালে আমাদের পুলিশের সদস্যরা এই এলাকা ঘিরে ফেলে। আমরা অভিযান চালিয়ে তাদের আত্মসমর্পনের কথা বলি। ওই দুই তলা বাড়ি থেকে শিশুসহ দুজন মহিলা বেরিয়ে আসে। বাড়ি তল্লাশী করে আমরা কোন ধরনের অস্ত্র ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পায়নি। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানা হেফজতে নিয়ে আসি দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করি কিন্তু কোন কিছু না পাওয়ায় তাদের স্ব-সম্মানে ছেড়ে দিই।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।