চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১০ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাংনীর কসাই খানার মাংস খাওয়া কি নিরাপদ?

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ১০, ২০১৮ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মাহাবুব আলম:মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরের একমাত্র কসাই খানাটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। দীর্ঘদিনে ধরে মরা ছাগল ও গরু জবাইয়ের অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় কয়েকজনের জেল-জরিমানায় হয়েছে। কিন্তু এবার বাজারের মানুষের অভিযোগটি ভিন্ন। গতকাল মঙ্গলবার গাংনী হাটবার। দিনের বেলায় মাংস বেচাকেনা শেষে রাতে কসাইরা ফিরেছে বাড়িতে। অরক্ষিত ভাবেই রেখে গেছে মাংস চুরানোর কাঠটি। শুধু গতকাল নয় এভাবে প্রতিদিনই মাংস চুরানোর কাঠটি অরক্ষিত রেখে যান তারা। আর রাত হলেই একদল কুকুরের জায়গা হয় এই কাঠটিতে। কাঠে তারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা মাংসের টুকরা নিয়ে এসে খায় আবার খেলা করে। কাঠটি কুকুরের জিহবা দিয়ে চাটে আর সেখানে প্রসব করার অভিযোগও করেন একাধিক ব্যক্তি।
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে হাটবাজারের ব্যস্ততম সময়ে কয়েকজন লোক দেখে কসাই হাটে মাংস চুরানোর কাঠে কুকুর প্রর্সাব করছে ও চাটাচাটি করছে বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকজন হইচই করে।
গাংনী কাঠ শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি গোলাম হোসেন জানান, আমি বাজার করতে আসলে দেখি কয়েকটি কুকুর মাংস চুরানোর কাঠের উপর প্রর্সাব করছে এবং চাটাচাটি করছে।
গাংনীর হামিদুল স্টোর বলেন, কি হবে একথা বলে তার চেয়ে বরং এটাই ভালো। কুকুরের প্রর্সাবে তো কাঠটি পরিস্কারই হচ্ছে। কারন কাউকে কিছু বলা যাবে না।
এ ব্যাপারে গাংনীর কসাইয়ের নেতা হযরত আলী জানান, কুকুরের যে বিষয়টি বলছেন অবশ্যই এটা খারাপ। বিষয়টি আগে কেউ জানায়নি তবে আজ জানলাম একটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাংনী পৌর সভার প্যানেল মেয়র নবীর উদ্দীন জানান, পৌরসভা থেকে এরআগে বাশের রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। কিন্তু কসাইরা সেটা ভেঙ্গে ফেলে। এখন অরক্ষিত তাদের অসহযোগিতার কারনে এ অবস্থা।
মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, কুকুরে কামরানো ও কুকুরের একই ধরনের ক্ষতিকর। কুকুরের লালাযুক্ত মাংস কোন ব্যক্তি নারাচারা করলে তারও অনেক সময়ে ভ্যাকসিন দিতে হয়। তা না হলে তারও মারা যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবনু হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণু পদ পাল বলেন, এ বিষয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কসাইদের এই ধরনের কর্মকান্ড মেনে নেওয়া হবে না। যারা দোষি তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।