গাংনীতে ঢিলেঢালা লকডাউন

17

প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
চলমান লকডাউনেও মেহেরপুর জেলার গাংনীতে সবকিছুই চলছে স্বাভাবিকভাবে। লকডাউন মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পায়ে হেটে ও মোটরসাইকেলেযোগে ঘোরাফেরা করছে অনেকেই। অটো রিকশায় যাত্রী পরিবহনও চলছে আগের মতোই। প্রথমদিকে লকডাউন মেনে চলতে পুলিশের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও উপজেলা প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করেন অনেকেই। এতে করোনা সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
গাংনীর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, কাঁচা বাজারের পাশা-পাশি খুলতে শুরু করেছে বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মার্কেটের শার্টার বন্ধ রেখে ভেতরে অভিনব পন্থায় কেনাবেচা শুরু হয়েছে বিভিন্ন কাপড়ের দোকানে। গতকাল সোমবার বামন্দী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সেই পুরোনো চিত্র। সবজির হাট, মাছের হাটসহ অন্যান্য হাটেও নেই লকডাউনের ছাপ। এমনকি পশুর হাটও চলছে আগের মতো কেনা বেচা। ওষুধ এবং মুদি দোকান ব্যতীত এই মুহূর্তে অন্যান্য দোকান খোলা রাখতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইলেক্ট্রনিক্স, কসমেটিক্স, হার্ডওয়্যারসহ অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। শহরাঞ্চলে সরকারের নির্দেশনা কিছুটা মানা হলেও গ্রামাঞ্চলে কেউই তা মানছেন না। সরকারিভাবেও প্রচারণা নেই। ফলে গ্রামের মানুষ লকডাউনের গুরুত্ব তেমন বুঝতে পারছে না।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, ‘দোকান খোলা না রাখলে আমাদের সংসার চালাবো কি করে। আমরা চাইতে পারি না তাই দোকান খোলা ছাড়া উপায় নেই। মাস্ক পরেন নি কেন? এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, পকেটে আছে। বেশি ভিড় দেখলেই পড়ি। আমরা আগে কখনও মাস্ক ব্যবহার করেনি। করোনা আসাতে মাস্ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
গাংনী থানার ওসি বজলুর রহমান বলেন, ‘প্রথম থেকেই পুলিশ কঠর অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে চলাচল করছে। আমাদের লোকবলের সমস্যা। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছি। উপজেলা প্রশাসনকে পুলিশ সবসময় সহযোগীতা করবে। এছাড়া আমাদের যে লোকবল আছে তা দিয়ে সর্বাত্বকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, ‘হাট বন্ধের ব্যাপারে সরকারি কোন নির্দেশনা না থাকায় ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তারপরেও সেখানে উপজেলা সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) পুলিশ যাওয়ার কথা আছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’