চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাংনীতে গৃহবধুর বিষপান : অপচিকিৎসার অভিযোগ

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭ ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গাংনী অফিস: মায়ের সাথে কলহের জের ধরে শান্তনা খাতুন (৩৫) নামের এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার নিজ বাড়িতে বিষপান করে সে। প্রথমে তাকে স্থানীয় চিকিৎক ফকরুজামানের কাছে বিষ তোলার পর ৩দিন তার বাড়িতে রেখে চিকিৎসাদেওয়া হয়। পরে শনিবার রাত ১২টার দিকে আলমপুর থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতভর চিকিৎসা দিয়েও কোন প্রকার উন্নয়ন না হলে। রোববার ভোরে কতব্যরত চিকিৎসক শান্তনার বাচার আশাছেরে দিতে বলে। তিনি বলেন,রোগিকেশেষ করে আমাদের নিকট আনা হয়েছে। পরেরোগির পরিবারের আকুতি-মিনতিশোনে পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।  পরে গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময়ে পথের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। গৃহবধু শান্তনা খাতুন গাংনীর গাড়াডোব গ্রামের সৌদি প্রবাসী রবিউল ইসলামের স্ত্রী। জানা গেছে, রবিউল ইসলাম সৌদি প্রবাসী। স্ত্রী শান্তনা তার মা জামেনা খাতুন, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে শান্তনা স্বামীর বাড়িতে বসবাস করেন। রবিউল ইসলাম বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতেন তার শ^াশুড়ীর নামে। এ নিয়ে মা- মেয়ের মধ্যে বেশ কিছুদিন যাবত মনমালিন্য দেখা দেয়। ঈদের আগের দিন নতুন পোশাকের জন্য আবদার করে শান্তনার ছেলে শামীম হোসেন। ছেলের আবদার পুরুণে মায়ের কাছে টাকা চায় শান্তনা। কিন্তু টাকা না দেয়ায় ঝগড়া বাধে। এক পর্যায়ে বিষপান করে শান্তনা।
এদিকে শান্তনাকে উদ্ধার করে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার ফকরুজ্জামানের কাছে নেয়া হয়। তিনিমোটা অংকের টাকা নিয়ে  বিষ তুলে নিজ হেফাজতে চিকিৎসা দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে শান্তনা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরেসেমেহেরপুরথেকে ভালো একজন ডাক্তার নিয়ে আসলে ফকরুজামানকেরোগি অন্যত্র সরিয়ে দিতে পরামর্শদেয়। তার পরামর্শে শনিবার রাতেই দ্রুত পরিবারেরলোকজনকে বুজিয়ে তিনি নিজেই মেহেরপুরের রমেশ ক্লিনিকের একটি এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেদেয়। এবং তিনিসহ তাদের পরিবার নিয়ে  কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। কোন রকম ভর্তি করিয়ে দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স করে বাড়ি ফেরেন। পরদিন সকালেই  কর্তব্যরত চিকিৎসক শান্তনাকে রাজশাহী মেডিকেলে প্রেরণ করলে পথেরমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাড়াযোব গ্রামের একজন জানান, বৃহস্পতিবার বিষখেলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফকরুজামানের নিকট তিনি বলেন, রোগির সমস্ত দায়িত্ব নিয়েনেয়। সন্ধ্যায় তার নিকট আমাদের কয়েকজন গিয়ে বলেন, বিষ খাওয়ারোগি আপনি চিকিৎসা দিতে পারবেন। তিনিজোর গলাই বলেনরোগির সমস্ত বিষবের হয়েগেছে এখন শুধু এন্টাসিডখেলেই হবে। তাই শান্তনাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার দরকারনেই আমার এখানথেকেই চিকিৎসা চলুক। পরে শনিবার অবস্থার অবনতি হলেমেহেরপুরথেকে একজন ভালো চিকিৎসক নিয়ে আসে। সেই ডাক্তার হাতুরী ডাক্তার ফকরুজামানকে দ্রুতরোগি অন্যত্র সরিয়ে নিতে পরামর্শদেয়। তা না হলে বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। তার পরামর্শসে কুষ্টিয়ায় নিজ দায়িত্বে নিয়ে যায়। এবং নামিয়েকোন রকম ভর্তি করিয়ে সটর্কে পরে।
গাংনী থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) কাফরুজ্জামান জানান, শান্তনার মৃত্যুর ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। মত্যুর কারণ নিয়ে কোন সংশয় না থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে দাফন করা হয়েছে। তাছাড়াও একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিকে হাতুড়ে ডাক্তার কিভাবে নিজ বাড়িতে ক্লিনিক খুলে বিষ উত্তোলনসহ চিকিৎসা করছেন তা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে। টাকার বিনিময়ে তিনি নানা সময়ে নানা ধরণের অপচিকিৎসা করেন বলেও জানিয়েছেন অনেকে। হাতুড়ে ডাক্তার ফকরুজ্জামানের কোন চিকিৎসকের সনদ নেই। ক্লিনিকেরও কোন অনুমতি নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। আবার কোন চিকিৎসকও নেই।
ফকরুজ্জামান জানান, গ্রাম্য ডাক্তারগণ তার ওষুধের দোকানে ক্লিনিক লিখতে পারেন এবং সব ধরণের চিকিৎসা করতে পারেন। তাছাড়া শান্তনার পরিবারের লোকজন তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসায় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।