গত দুদিনে চারজনের আত্মহত্যার চেষ্টা!

24

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় পৃথকস্থানে বিষপানে কিশোর-কিশোরী-যুবক, নারীসহ চারজনের আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গত দুদিনে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর, তিতুদহ, দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জে এই আত্মহত্যা অপচেষ্টার ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আত্মহত্যার অপচেষ্টাকারীরা হলো- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়নের যদুপুর গ্রামের আশরাফুল হকের ছেলে বদরুজ্জামান উৎস (১৭), দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের আজিজুল হকের মেয়ে ছন্দা খাতুন (১৫), সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের গবরগাড়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে সজিব হোসেন (১৮) ও আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ সোনাতনপুর গ্রামের আজাদ হোসেনের স্ত্রী সালমা বেগম (৪০)।
জানা যায়, গত শনিবার সকাল ৯টার দিকে পারিবারিক কলোহের জের ধরে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে বিষপান করে আত্মহত্যার অপচেষ্টা করে উৎস। বিষপানের বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা উৎসকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক উৎসকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়র্ডে ভর্তি রাখেন। বদরুজ্জামান উৎস ঝিনাইদহ পলিটেকনিট ইনস্টিটিউটের ছাত্র।
এদিকে, পারিবারিক কলোহের জেরে গতকাল সকাল ১০টার দিকে আত্মহত্যার অপচেষ্টা করে ছন্দা খাতুন নামের এক কিশোরী। নিজ বাড়িতে থাকা কৃষিখেতে ব্যবহৃত কীটনাশক বিষপান করে ছন্দা। পরিবারের সদস্যরা বিষপানের বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক ছন্দাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কবর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, প্রায় একই সময়ে এক কিশোর ও এক কিশোরীকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। উভয়ই বিষপান করে আত্মহত্যার অপচেষ্টা করেছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানায়। তাঁদেরকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। দুজনের মধ্যে কিশোরী ছন্দা গুরুতর অসুস্থ হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হতে পারে।
অন্যদিকে, গতকাল রোববার বিকেল ৪টার দিকে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে বিষপান করে আত্মহত্যার অপচেষ্টা করে যুবক সজিব হোসেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় সন্দেহ হলে দরজা ভেঙে সজিবকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সজিবকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সজিবের অবস্থার অবনতি হওয়ায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
সজিব হোসেনের নানী আমেনা বেগম জানান, ‘সজিবের লিভারের সদস্য রয়েছে। বিভিন্নস্থানে নিয়ে ডাক্তার দেখিয়েও ভালো হচ্ছে না। এরই মধ্যে আজ (গতকাল রোববার) বিকেল চারটার দিকে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে বিষপান করে। হঠাৎ যে কেন বিষ খেয়েছে কেউ কিছুই বলতে পারছে না।’
অপরদিকে, গতকাল সন্ধ্যায় ইফতারি করার সময় সাংসারিক অসান্তি নিয়ে স্বামীর ওপর অভিমান করে বিষপান করে আত্মহত্যার অপচেষ্টা করে সালমা বেগম। পরিবারের সদস্যরা সালমা বেগমের বিষপানের বিষয়টি জানতে পেরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন বলেন, বিকেল পাঁচটার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সজিব নামের এক যুবককে পরিবারের সদস্যরা জরুরি বিভাগে নেয়। পরিবারের সদস্যদের থেকে জানতে পারি সে ঘাষমরা বিষপান করেছে। তাকে দ্রুত তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের ভর্তি রাখা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।