গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের তুখোড় ছাত্রের পথে পথে বেড়ানোর খবর ভাইরাল

27

ঝিনাইদহ অফিস:
এক সময়ের তুখোড় ছাত্র মহেশপুর শহরের জলিলপুর মোল্লা পাড়ার আব্দুল গাফ্ফারের খবর প্রকাশের পর রীতিমতো ভাইরাল। দলে দলে মানুষ ছুটছেন স্যারকে এক নজর দেখার জন্য। টিভি ও পত্রিকার সাংবাদিকদেরও গতকাল শনিবার দিনভর আব্দুল গাফ্ফারের যাপিত জীবন নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে দেখা গেছে। অনেক সাংবাদিক তার এই পরণতির নৈপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করছেন। তবে আব্দুল গাফ্ফার কিছু কথা সাংবাদিকদের সঙ্গে বলেছেন। তিনি জমিজমা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছেন। তার ভাইয়েরা জমি লিখে নিতে চাই।
খালিশপুরের গোয়ালহুদা গ্রামের সিমেন্ট ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, গত ১০ বছর আব্দুল গাফ্ফার স্যার তাঁর বাড়িতে থাকেন। তিনি দিনে একবার খান। প্রায় সময় রোজা থাকেন। নিয়মিত ছাত্র পড়ান, কিন্তু কোন টাকা পয়সা নেন না। তবে কম কথা বলেন। অসুস্থ হলে প্রিয় ছাত্ররা তাঁকে দেখাশোনা করেন। ওষুধ কিনে দেন। বর্তমান শামিম রেজা নামে এক ছাত্র আব্দুল গাফ্ফারের দেখভাল করছেন।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা শহরে আব্দুল গাফ্ফারের মুল্যবান জমি রয়েছে। এই জমি নিতে চান ভাইয়েরা। এদিকে মাতৃকুল ও পিতৃকুল মিলে অনেক জমি পেয়েছেন তিনি। স্ত্রী-সন্তান না থাকায় এ সব জমি ভাইয়েরা রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। এ চিন্তায় তিনি ব্যাকুল। তবে এলাকাবাসির ভাষ্যমতে, তিনি পাগল বা মস্তিস্ক বিকৃত নয়। আগে তিনি গোসল করে পরিপাটি পোশাকে চলাফেরা করতেন। গত এক বছর আব্দুল গাফ্ফার গোসল করেন না। গাফ্ফারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী (মায়ের তৃতীয় পক্ষ) ছিরবা আক্তার ঝর্ণা শুক্রবার দুপুরে জানিয়েছিলেন তার ভাসুর ইচ্ছা করেই এমন করে থাকেন। কারণ জমিজমা নিয়ে তিনি বেশি চিন্তা করেন। এছাড়া তার শ্বাশুড়ি বদরুন্নেছার জমিও প্রথম পক্ষের ৩ ভাই লিখে নিয়েছেন। ফলে শ্বাশুড়ির আরও দুই পক্ষের ৬ জনকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে ছিরবা আক্তার ঝর্ণা দাবি করেন। তবে এ সব বিষয়ে আব্দুল গাফ্ফারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন মৃত্যু পথযাত্রী। আমার সময় খুবই কম।