গণপিটুনিতে চোরের মৃত্যু : স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা

223

চুয়াডাঙ্গা রেলবাজারে গভীর রাতে ৯টি দোকানের টিন কেটে চুরি : দুই চোর আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের রেলবাজারে ৯টি দোকানের টিন কেটে চুরি করে পালানোর সময় গণপিটুনিতে ওমর ফারুক (২২) নামে এক চোর নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে শহরের রেলবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় নিহত চোরের অপর দু’সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- সাগর (৩৪) ও হৃদয় (২১)। নিহত ওমর ফারুক শহরের থানা কাউন্সিলপাড়ার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। এদিকে হাতে নাতে চোর আটক হওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। নিহত ফারুক চোর সিন্ডিকেটের মূলহোতা বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের রেলবাজার এলাকায় ৯টি দোকানের টিন কেটে চুরি করে পালানোর সময় দোকানের পিছনে একজন চোরকে দেখে চিৎকার শুরু করে স্থানীয়রা। এসময় তাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে আরো কিছু লোক জড় হয়ে ধাওয়া দেয় ওই চোরকে। পরে পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকা থকে চোর ফারুককে তাড়িয়ে ধরে গণপিটুনি দেওয়া শুরু করে তারা। উত্তেজিত জনতার হাতে দীর্ঘক্ষণ চলা গণপিটুনির একপর্যায়ে চোর ফারুক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে গণপিটুনির শিকার আহত চোর ফারুককে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেই। সদর হাসপাতালে পৌছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আগে চুয়াডাঙ্গা শহরের কয়েকটি চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে সে।
এছাড়াও হাসপাতালে যাওয়ার পথে চুরির সাথে জড়িতদের নামও বলে চোর ফারুক। পুলিশ তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক শহরের হকপাড়ায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে একই এলাকার সালামের ছেলে সাগর ও মুনছুরের ছেলে হৃদয়কে তাদের নিজ বাড়ি থেকে আটক করে থানা হেফাজতে নেই। এ ঘটনায় রুবেল নামে রেলবাজারের এক ব্যবাসয়ী বাদি হয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা করলে গতকাল বিকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত থেকে গতকালই তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। অপরদিকে, নিহত ফারুকের লাশ গতকালই ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তার করে থানা পুলিশ। গতকাল বাদ এশার পর জান্নাতুল মওলা কবরস্থানে নিহতের লাশ দাফন করা হয়।
এদিকে, শহরের একাধিক চুরির ঘটনায় লাখ লাখ টাকাসহ দোকানের মালামাল খোয়ানোর পর অবশেষে রেলবাজারে হাতেনাতে চোর আটক হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তির ভাব দেখা গেছে। তারা বলছে, এবার হয়তো কমবে এ ধরণের চুরির হিড়িক। এছাড়াও শুক্রবার দিবাগত রাতে তা-ব চালানো রেলবাজারে জুয়েল সাজঘরের দুটি দোকান, মেসার্স তাজ এ্যালুমিনিয়ামের দুটি দোকান, ক্রোকারিজ গার্ডেন, রুবেল কসমেটিকস, সোহেল ফটোকপি, সালাম স্টোর, সুচনা স্টোর, রুমা স্টোরের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে এসকল ব্যবসায়ীদের মধ্যে অধিকাংশই বলেন, গত কয়েক মাসে চুয়াডাঙ্গা শহরে যে হারে চুরি বেড়ে গিয়েছিলো, তাতে তারাও শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। এক দু’দিন পর পর কোথাও না কোথাও চুরি সংঘটিত হচ্ছিলো। দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরে স্বস্তি ছিলো না তাদের। গতকাল চুরির ধরণ দেখে তারা আরো বলেন, এসকল প্রশিক্ষত চোর। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যে পর পর ৯টি দোকানের টিন কেটে চুরি করা সম্ভব নয়। এসময় তারা এও বলেন, স্থানীয়রা চোর ফারুককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শহরের একাডেমি মোড় কোর্টপাড়া, বড়বাজরসহ এ ধরণের একাধিক চুরির সাথে সে জড়িত বলে স্বীকার করে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খানের সাথে কথা হলে তিনি সময়ের সমীকরণ’কে জানান, চোর আটকসহ গণপিটুনির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায়। এসময় স্থানীয়দের হাত থকে গণপিটুনির শিকার এক চোরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয় পুলিশ। হাসপাতালে পৌছানোর আগেই ওই চোর তার সাথে বিভিন্ন সময় চুরির সাথে জড়িতদের নাম বলে। তাছাড়াও শহরের কয়েকটি চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে সে। পরে তাকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো দু’জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হলে গতকালই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।