গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ১০ দফা দাবিতে বিএনপির পদযাত্রা ও সমাবেশ

সমীকরণ প্রতিবেদন:
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ১০ দফা দাবিতে রাজধানীর বাড্ডা থেকে মালিবাগের আবুল হোটেল পর্যন্ত সোয়া চার কিলোমিটার পথ নীরব পদযাত্রা করেছে বিএনপি। গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটায় বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনের সড়ক থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে বিকেল ৪টার দিকে মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে এসে শেষ হয়। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল সরকার পদত্যাগ, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে লেখা বিভিন্ন প্লাকার্ড এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা। তবে নেতাকর্মীদের মুখে ছিল না কোনো স্লোগান।
এই পদযাত্রা কর্মসূচির উদ্বোধন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে আমরা এক নতুন আন্দোলন শুরু করলাম। এই নীরব প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে এই ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে সরে যেতে বাধ্য করব। তিনি বলেন, এই পদযাত্রার মধ্য দিয়ে এই সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই- আর কাল বিলম্ব না করে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন এবং নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে তার ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবার ক্ষমতা দিন। অন্যথায় আপনাদের অত্যন্ত ভারাক্রান্তভাবে চলে যেতে হবে, আপনারা পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। পথযাত্রাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক বক্তব্য রাখেন। পরে মহাসচিব নেতাদের নিয়ে পদযাত্রা শুরু করেন। পদযাত্রায় বিএনপি নেতা মীর সরাফত আলী সপু, নাজিম উদ্দিন আলম, তাবিথ আউয়াল, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, সাইফুল আলম নিরব, মীর নেওয়াজ আলী, বাবুল আহমেদ, আবদুল আলিম নকি, এজিএম শামসুল হক, মোনায়েম মুন্না, এসএস জিলানি, রাজিব আহসান, জাকির হোসেন রোকন, আবদুর রহিম, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ নেতারা অংশ নেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে বেলা ২টায় উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনের সড়কে বিএনপির নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে এই পদযাত্রা শুরু করে। শেষ হয় মালিবাগের আবুল হোটেলের কাছে। মহানগর উত্তর বিএনপি, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্র দলসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ‘নীরব’ পদযাত্রার এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। পদযাত্রাটি বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, চৌধুরী পাড়া প্রভৃতি স্থান অতিক্রম করে বিকেল ৪টায় মালিবাগ আবুল হোটেলের কাছে এসে শেষ হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আরো বলেন, চাল ডাল ডিম তেল ও লবণের দাম বেড়ে গেছে। রিকশাশ্রমিক, কারাখানার শ্রমিক ভাইয়েরা তারা এখন জীবনযাপন করতে পারছে না। তারা চাল-ডাল-তেল লবণ কিনতে পারছে না। বাচ্চাদের ডিম দিতে পারছে না। শুধু তাই নয়, আজকে কথা বলতে গেলে গ্রেফতার করা হয়, প্রতিবাদ করতে গেলে মামলা হয়, মিথ্যা মামলা-গায়েবি মামলা দিয়ে সমস্ত বিরোধী দলকে আটক করে রাখা হচ্ছে। সমগ্র দেশকে এরা (সরকার) একটা কারাগারে পরিণত করেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের ভোটের অধিকার কি আছে? আমাদের ভোটের অধিকার নাই। সেই অধিকার আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে, আমাদের কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি এ দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন-লড়াই করেছেন, তিনি এখনো গৃহবন্দী হয়ে আছেন, তাকে মুক্ত করতে হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। যারা কারাগারে আছেন তাদেরকে মুক্ত করতে হবে, দেশে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনো দিন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। সেই কারণে আওয়ামী লীগ সরকারকে, শেখ হাসিনার সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, এই সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। মহানগর বিএনপি রাজধানীতে যে চারটি স্থানে পদযাত্রার কর্মসূচির ঘোষণা করেছে এটি ছিল তার প্রথমটি। আগামীকাল সোমবার হবে যাত্রাবাড়ী থেকে শ্যামপুর, মঙ্গলবার গাবতলী টার্মিনাল থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এবং বুধবার মুগদা থেকে মালিবাগ। সবগুলো কর্মসূচি শুরু হবে বেলা ২টায়। পদযাত্রার এই কর্মসূচি উপলক্ষে গতকাল বাড্ডা-মালিবাগ সড়কে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শুধুমাত্র সভা করে ফ্যাসিবাদীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না : শুধুমাত্র সভা করে, কথা বলে এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ সরকারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণকে সাথে নিয়ে রাস্তায় নেমে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে। গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, মূল কথা হচ্ছে অনেক হয়েছে এবার বিদায় হও। জনগণের রক্ত শোষণ করে খেয়েছো এবার বিদায় হও। পদত্যাগ করে সংসদকে বিলুপ্ত করুন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন কমিশন গঠন করবে, সেই নির্বাচনের জনগণ তাদের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচন করবে। ‘পদযাত্রা নয়, মরণযাত্রা শুরু হয়েছে বিএনপির’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, অদ্ভূত, এ ধরনের কথাবার্তা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এগুলো জনগণের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- জাগপা সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, বিকল্পধারার চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বেপারি, সাম্যবাদী দলের চেয়ারম্যান কমরেড নুরুল ইসলাম, গণদলের চেয়ারম্যান এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, মাইনরিটি পার্টির চেয়ারম্যান সুকৃতি মণ্ডল, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান শাওন সাদেকী, এনপিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য বেলাল হোসেন, নবী চৌধুরী, মো: ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।