চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৪ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খেলাপি ঋণ আড়াই হাজার কোটি টাকা কমানোর টার্গেট

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ১৪, ২০২২ ২:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন: চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংককে খেলাপি ঋণের স্থিতি প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার ব্যর্থতায় শিথিল করে এই সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর নিজ নিজ প্রাক্কলন অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৪৮ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৪৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাথে সম্পাদিত ব্যাংকগুলোর ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) আওতায় এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে এপিএর আওতায় খেলাপি ঋণ স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকগুলো। আলোচ্য বছরে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছর শেষে ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা বেশি ছিল। অর্থবছর শেষে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের স্থিতি বেড়ে যাওয়ার কারণে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ হাজার ৯০০ কোটি টাকা শিথিল করা হয়েছে। জানা গেছে, এপিএ চুক্তি অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের স্থিতি নির্ধারণে নতুন অর্থবছরে সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করা হয়েছে। অপর তিন ব্যাংকের মধ্যে জনতা ও বিডিবিএলের স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একমাত্র বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি আরো ৫০০ কোটি টাকা অধিক কমাতে বলা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণস্থিতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ১১ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণ স্থিতি ৪৫৮ কোটি টাকা কমিয়ে আনতে হবে।

Girl in a jacket

চলতি অর্থবছর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে রাখার টার্গেট দেয়া হয়েছে। সমাপ্ত অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণ স্থিতি ৪৮৭ কোটি টাকা কমিয়ে আনতে হবে। চলতি অর্থবছর শেষে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সমাপ্ত অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণের স্থিতি ২৭১ কোটি ১৬ লাখ টাকা কমিয়ে আনতে হবে। ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সমাপ্ত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল একই। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি ১২ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। সে হিসাবে, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণ বর্তমান স্থিতি ধরে রাখলেই হবে। চলতি অর্থবছর শেষে বিডিবিএলের খেলাপি ঋণ স্থিতি ৭০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সমাপ্ত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল একই। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে বিডিবিএলের খেলাপি ঋণ স্থিতি ৭২৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণ স্থিতি ২৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা কমিয়ে আনতে হবে।

চুক্তিতে একমাত্র বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ স্থিতি গত অর্থবছরের চেয়ে আরো ৫০০ কোটি টাকা বেশি কমাতে বলা হয়েছে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ স্থিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ স্থিতি ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ স্থিতি ৭ হাজার ৭২২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটিকে খেলাপি ঋণের স্থিতি এক হাজার ২২২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হ্রাসের টার্গেট দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা গতকাল জানান, করোনা পরিস্থিতি আবারো অবনতি হওয়ার কারণে চলতি অর্থবছরে খেলাপি ঋণ আদায়ের শিথিল লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে। তিন মাস পর এই বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।