খুলনা বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফলের লক্ষে মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান

প্রতিবেদক, আন্দুলবাড়ীয়া:
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি, ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-নিপীড়ন, বিদ্যুত, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো সহ ১০ দফা দাবিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির খুলনা বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষে জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় জেলা বিএনপির আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হাসান খান বাবুর আন্দুলবাড়ীয়াস্থ বাসভবনে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, জীবননগর উপজেলা সমন্বয় টিমের প্রধান ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান খোকনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সাংগঠনিক ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. শরীফুজ্জামান শরীফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে ফেলেছে। তারা এখন এখন প্রশাসন, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রযন্ত্র এমনকি গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। কিন্তু এসব করে আওয়ামী লীগের শেষ রক্ষা হবে না। তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি সকল বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ সফল করবেই। যেখানে বাঁধা আসবে সেখানে প্রতিরোধ করা হবে। বিএনপির ঘাটি চুয়াডাঙ্গার মাটি, আগামীদিন বিএনপি’র দিন। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এভাবে হামলা, মামলা আর হত্যা করে আন্দোলনকে দমানো যাবে না।
বিএনপি নেতা শরীফ নেতা বলেন, ‘আমরা কারো শত্রু নই, আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। কারো সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব নেই। আমরা শান্তির্পূণ ও সুশৃংখল পরিবেশে সমাবেশ করতে চাই। এ জন্যে আমরা প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সংবিধানের সবটুকু অধিকার আমরা পেতে চাই।’ তিনি জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা সব বাঁধা অতিক্রম করে নিজ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হোন।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সমন্বয় টিমের সদস্য ও সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাজাহান আলী, উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোকাররম হোসেন ও আবু বকর সিদ্দিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সমন্বয় টিমের অন্যতম সদস্য আরিফুজ্জামান আরিফ, মুন্সী আবুল কাশেম, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয় টিমের সদস্য ইনামুল হক শাহ মুকুল, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুজ্জামান মিশা, চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাজেদুল আলম মেহেদী, জীবননগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জামরুজ্জামান কামরুল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু তালেব, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, উথলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ জাহিদ, ইউপি মেম্বার আলতাফ হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আজিম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, অন্যতম সদস্য রফু উদ্দীন, কেডিকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনোয়ার হোসেন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক রফিউল আলীম, সাংগঠনিক মাহফুজুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা তানভীর হেসেন রাজীব, মনোহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান স্বপন, সিনিয়র সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ মাস্টার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান খান, বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক, বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আবুল বাসার, হাসাদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাজাহান আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, সীমান্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. ওসমান গণি, সাধারণ সম্পাদক বদর উদ্দীন বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক আয়ুব আলী বিশ্বাস, দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা ইকবাল হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পল্লব খানসহ আটটি ইউনিয়নের সুপার ফাইভ নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন সীমান্ত ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আয়ুব আলী বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।