চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘খালেদা জিয়ার ক্ষতি হলে জনগণ সরকারকে রেহাই দেবে না’

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ১, ২০২১ ১:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারকে রেহাই দেবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আপনারা (সরকার) বলেন, আইনের কারণে দেশনেত্রীকে বাইরে যেতে দিতে পারছি না। কেনো মিথ্যা কথা বলেন? আইনজীবীরা বলছেন, ৪০১ ধারাতে বলা আছে একমাত্র সরকার, সরকারই পারে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে। এখন দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগ সরকারের, শেখ হাসিনা সরকারের। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যদি সুচিকিৎসা না হয়, যদি তার ক্ষতি হয় এদেশের মানুষ কোনোদিন আপনাদের রেহাই দেবে না। দায় সব আপনাদেরকে বহন করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচির অংশ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বেলা ১টায় এই সমাবেশ শুরু হলেও সকাল ১১টা থেকে ঢাকা মহানগরের উত্তর-দক্ষিণের বিভিন্ন থানা থেকে নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দেয়। ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ শ্লোগানে শ্লোগানে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল মুখর করে রাখে। কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরা থেকে ফকিরেরপুল সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিলো না। সমাবেশ শুরুর আগেই নাইটিঙ্গেল-ফকিরাপুল একপাশের সড়ক পূর্ণ হয়ে অপর পাশেও অবস্থান নেয় নেতাকর্মীরা। আশপাশের গলিতেও লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাবেশের শুরুতে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের আহবায়ক শাহ নেসারুল হক খালেদা জিয়ার আশু সুস্থতা কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন।

সমাবেশে ৪টি ছোট ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিশাল আকৃতির ছবি সম্বলিত ব্যানারে লেখা ছিলো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে সমাবেশ। খালেদা জিয়াকে বিদেশে সুচিকিতসার দাবিতে রাজধানী ছাড়াও ৮ বিভাগীয় শহরেও একযোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, সোমবারও তার রক্তক্ষরণ হয়েছিলো। তবে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে তার বন্ধ করতে সমর্থ হয়েছেন। পরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, আমরা বেগম জিয়ার কাগজপত্র বিদেশে পাঠিয়েছি। কাদের সামনে বলছেন? কূটনীতিকদের সামনে, বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের সামনে। কেনো বলছেন? বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা, রাষ্ট্রদূতরা ইতোমধ্যে চাপ সৃষ্টি করেছে সরকারের ওপরে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে পাঠাও চিকিৎসার জন্যে। তার প্রমাণ আপনারা দেখেন। এই সরকারকে গণতন্ত্র সমস্ত দেশগুলোর সম্মেলন হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই। কেনো? বাংলাদেশ এখন আর গণতন্ত্রের দেশ নেই। শেখ হাসিনার অধীনে, এই সরকারের অধীনে নির্যাতন-নিপীড়নের কারনে, তাদের কর্তৃত্ববাদের, স্বৈরাচারের কারণে আজকে এই দেশ পুরোপুরিভাবে একটা কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের সম্পর্কে সরকারের এক মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কি দুর্ভাগ্য আমাদের, কি জাতি আমরা, আমরা এমন একটা সরকার পেয়েছি জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। একজন মন্ত্রী বলছেন, ডাক্তাররা সাহেবকে বিএনপি যা বলতে বলেছে তারা তাই বলছেন। ধিক্কার দেই, ধিক্কার দেই আমি সেই মন্ত্রীকে। এভাবে বিদ্রুপ করে কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রত্যেকটি মানুষ বাংলাদেশে এমন কোনো মানুষ নাই যে, তারা চায় খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিতসা হোক। আমাদের এখানে যেসব লোকজন আসছেন, আমার ডানে একজন রোজা রাখছে, নামাজ পড়ছে যে, আল্লাহ তার হায়াত বাড়িয়ে দাও তিনি যেন আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন। এই যে কোটি কোটি মানুষের আহজারি, এই যে কোটি কোটি মানুষের ফরিয়াদ আল্লাহ কাছে নিশ্চয় পৌঁছাচ্ছে।তিনি নিশ্চয়ই বেগম খালেদা জিয়াকে সুস্থ করবেন আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনবেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেখেন শুরু হয়েছে পতন। অর্ধেকের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হেরে গেছে আওয়ামী লীগ।
ঢাকা উত্তরের আহবায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের রফিকুল ইসলাম মজনুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, শাহিদা রফিক, তৈমুর আলম খন্দকার, আবদুল হাই, আফরোজা খানম রীতা, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবীর খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কামারুজ্জামান রতন, মীর সরফত আলী সপু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন আবদুস সালাম আজাদ, তাবিথ আউয়াল, অঙ্গসংগঠনের মধ্যে যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, সালাহউদ্দিন সরকার, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, ছাত্র দলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দারুসসালাম থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএ সিদ্দিক সাজু এর নেতৃত্বে মিরপুর, শাহ্আলী, দারুসসালাম, রূপনগর থানা ও কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপি সহ অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সমর্থকবৃন্দ অংশ নেয়। এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন হুমায়ন কবির রওশন, সাইদুল ইসলাম সাইদুল, হাজী দেলোয়ার হোসেন দুলু, মো. আরিফ মৃধা, মিজানুর রহমান মিজান, মোহাম্মদ আইয়ুব প্রমুখ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।