খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে যা বললেন পরিচালক

265

সমীকরণ প্রতিবেদন:
চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেয়া হয়েছে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। গতকাল সোমবার বেলা ১২টা ৩৬ মিনিটে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িবহর বিএসএমএমইউর মূলফটক দিয়ে প্রবেশ করে। এর পর তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কেবিন ব্লকে নিয়ে যাওয়া হয়। তার চিকিৎসার জন্য নতুন চিকিৎসা বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ড খালেদার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। মেডিকেল বোর্ডের ওপর খালেদা জিয়ার আস্থা আছে। এদিন দুপুরে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ব্রিফিং করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার হাতে ও পায়ের জয়েন্টে ব্যথা আছে। তার ডায়াবেটিসের মাত্রা কিছুটা বেশি। খাওয়ায় অরুচি আছে। তার ঘুমও কম হচ্ছে। তিনি নিজে হাঁটাচলা করতে পারেন না অন্যের সাপোর্ট নিয়ে তাকে হাটতে হয়।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসার জন্য গঠিত আগের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান আবদুল জলিল অবসরে যাওয়ায় গত ২৮ মার্চ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক জিলান মিয়া সরকারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডকে সহায়তার জন্য খালেদা জিয়ার দুজন ব্যক্তিগত চিকিৎসকও রয়েছেন। তাকে ৬২১ নম্বর কেবিনে রাখা হয়েছে। এছাড়া ৬২২ নম্বর কেবিনে তার ব্যক্তিগত লোকজন আছে। পরিচালক বলেন, আজ নতুন করে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তা দেখেছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করেছেন। খালেদা জিয়ার কাছে রোগের বিস্তারিত শুনেছেন। তারা সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস আগেই ছিল। এটি বেড়েছে। আজকে খাবার পর র‌্যানডম ১৪ এসেছে। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসায় একজন চিকিৎসক প্রতিদিন নিয়োজিত থাকবেন। তিনি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেয়ার পাশাপাশি তার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবেন। খালেদা জিয়া মেডিকেল বোর্ড সদস্যদের সামনে বসে কথা বলেছেন। খুব ভালোভাবে কথা বলেছেন। মেডিকেল বোর্ডের কাছ থেকে সুন্দরভাবে চিকিৎসাপত্র নিয়েছেন। বোর্ডের প্রতি ওনার আস্থা আছে। তাকে দেখেছি, উনি হ্যাপি।
বিদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নেওয়ার দরকার আছে কি না এই প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, আমরা এখনো এমন কিছু পাইনি যার জন্য তার বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন আছে। এখানেই সব চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। কবে তিনি এখান থেকে আবার কারাগারে ফিরে যাবেন জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে তিনি চলে যাবেন। এর আগে গত মাসের শুরুর দিকেও খালেদা জিয়াকে একবার বিএসএমএমইউতে নেয়ার কথা ছিল। তখন হাসপাতালের কেবিনও ঠিক করা হয়েছিল। হাসপাতাল ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়া রাজি না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দ-িত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। কারাবন্দি খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। তারা খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউয়ে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়ে আগ্রহী নয়। বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। তবে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল তাকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়ে বারবার বলে আসছে।