চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৪ জানুয়ারি ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘খালেদা জিয়াকে ফাঁসাতে জাল নথিপত্র তৈরি করা হয়েছে’

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ৪, ২০১৮ ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে গতকাল ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ যুক্তিতর্কে খালেদার আইনজীবী বলেন, ব্যক্তিগত ফান্ডকে সরকারি ফান্ড বানাতে এই মামলায় জাল নথি তৈরি করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে ফাঁসাতে এবং তাকে সাজা দিতে জাল নথিপত্র তৈরি করে এই মামলা করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে চলছে। গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তায় হাজির হন খালেদা জিয়া। বেলা পৌনে ১২টার দিকে শুনানি শুরু হয়ে মাঝখানে কিছুক্ষণের বিরতি শেষে বেলা ৩টার কিছু আগে শুনানি শেষ হয়। এরপরই আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। আজ আবারো শুনানি হবে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, আব্দুর রেজাক খান, জয়নুল আবেদীনসহ অন্য আইনজীবীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ দলের কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এই মামলার অনুসন্ধান, এজাহার, তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলে সময়ের বিষয়টি উল্লেখ করে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, দুদকের বিধিমালা অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করতে হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে কোনো কারণে তদন্ত সম্ভব না হয় তাহলে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন মঞ্জুর হলে আরো ১৫ দিন সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু এই মামলায় ৬০ কার্যদিবসের তদন্তকাজ ৩৯৫ দিনে শেষ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। কেন এটি করা হয়েছে? জাল নথি তৈরির জন্যই এ সময় নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই মামলার শুরু থেকে যা দেখছি, অনুসন্ধান তদন্ত থেকে যা বুঝা গেছে তাতে এই ফান্ডকে পাবলিক ফান্ড বানাতে জাল নথির মাধ্যমে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সাক্ষীদেরকেও সেভাবেই শেখানো হয়েছে এবং সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কোনো পাবলিক ফান্ড নয়। এটি প্রাইভেট ফান্ড। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এই অর্থ কুয়েতের আমীরের মাধ্যমে এসেছে। এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জাল নথি তৈরি করে এই মামলা করেছেন। আর এর পক্ষে তিনিসহ (হারুনুর রশিদ) বেশ কয়েকজন সাক্ষী আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, জাল নথির মাধ্যমে এই মামলা করা হয়েছে। আদালতে যেসব নথি দাখিল করা হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট। নথিপত্র সৃজন করে এই মামলা করা হয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার সাজা হতে পারে না। তিনি বলেন, যারা এই জালিয়াতি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা আদালতে আবেদন করবো।
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যারা কাজ করেছেন নথিতে তাদের স্বাক্ষর আছে। তারাই এখানে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। তারাই বলেছেন এটি তাদের নথি এবং ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে টাকাটা এসেছে এবং তা ট্রাস্টে জমা হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিপক্ষ যুক্তিতর্কের সময় অনেক কথাই বলেন। এখন তারা বলছেন নথি নাকি সৃজন করা হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি না আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরার মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে পেরেছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।