চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৭ অক্টোবর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খাদিজার জন্য অপেক্ষা

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ৭, ২০১৬ ১২:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

34745_khadija

সমীকরণ ডেস্ক: আশাবাদী বাংলাদেশ। অপেক্ষায়ও। দুঃসহ সময়ে ভালো সংবাদের অপেক্ষায় সবাই। সবারই প্রার্থনা জেগে উঠবেন খাদিজা আক্তার নার্গিস। চাপাতি নয়, জয় হবে মানুষের ভালোবাসার। খাদিজার অস্ত্রোপচারের পর ৭২ ঘণ্টা অতিবাহিত হচ্ছে আজ। শনিবার সকাল পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণ করবেন চিকিৎসকরা। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে প্রকৃত অবস্থা। স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা এখনো জীবন-মৃত্যুর সংকটে। প্রায় অপরিবর্তিত তার অবস্থা। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে না বললেও কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন চিকিৎসকরা। আশাবাদী খাদিজার ভাই এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্র শাহীন আহমদও। বলেন, ঘটনার পর খাদিজার অবস্থা যতটা ক্রিটিক্যাল ছিল তার থেকে পরিস্থিতি একটু ভালো। আমরা আশাবাদী। হোপফুলি ভালো কিছু হবে। স্কয়ার হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট মেডিকেল ডাইরেক্টর ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন বলেন, অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা শনিবার সকাল পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণ করব। পরবর্তীকালে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর থেকে আইসিইউতে নার্গিসকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে ভ্যান্টিলেশন দিয়ে। ৪ দফা দাবি, শিক্ষার্থীদের ১০ দিনের আলটিমেটাম: খাদিজার ওপর হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার চায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। টানা তিনদিনের আন্দোলন কর্মসূচি শেষে ১৭ই অক্টোবর পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়ে তারা চলমান আন্দোলন স্থগিত করেছে। গতকাল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে মামলাটি দ্রুত বিচার শুরু না হলে তারা ফের লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এরই মধ্যে তারা চার দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। এই চার দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রেরণ করেছে। চার দফা দাবি হচ্ছে- অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ, খাদিজার চিকিৎসা নিশ্চিত করা, খাদিজার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা ও ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবি সংবলিত স্মারকলিপি গ্রহণের পর সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিনুর রহমান জানিয়েছেন, বর্বরোচিত এ ঘটনার যাতে দ্রুত বিচার হয় সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওদিকে, খাদিজার ওপর হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনে উত্তাল এখন সিলেট। সিলেট নগরী ও আশপাশ এলাকায় গতকাল সকাল থেকে লোকজন নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। খাদিজার গ্রামের বাড়ি আউশাতে স্থানীয় লোকজন ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে হামলাকারী বদরুলের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। সিলেটের এমসি কলেজেও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলার প্রতিবাদে টানা তিনদিনের আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে ছিল। তাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম ছিলেন শিক্ষকরা। গতকাল সকাল ১০টায় সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা এ সময় হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি চৌহাট্রা কোর্ট পয়েন্ট হয়ে দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে পৌঁছে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে। এ সময় সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন শিক্ষা আমিনুর রহমান তার কার্যালয় থেকে নিচে নেমে এসে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
হাসপাতালে শিক্ষামন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে খাদিজা আক্তার নার্গিসকে নির্মমভাবে আহত করার ঘটনা সম্পর্কে গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখেন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন এটা একটা কাপুরুষোচিত, বর্বরোচিত ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন, বদরুল যেই দলেরই হোক না কেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন আমি ইতিমধ্যে সিলেটের পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে বদরুল এর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষামন্ত্রী গতকাল রাতে স্কয়ার হাসপাতালে খাদিজা আক্তার নার্গিসকে দেখতে যান ও তার চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তার চাচা কুদ্দুস-এর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার খাদিজার পরিবারের সঙ্গে আছে, থাকবে এবং তাদের নিরাপত্তা ও সব রকমের সহযোগিতা দেয়া হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসছে সিসিটিভি ক্যামেরা: সিলেটের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মো. আমিনুর রহমান। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো স্মারকলিপি গ্রহণকালে তিনি উপস্থিত সবাইকে এ তথ্য জানান। খাদিজাকে কোপানো বদরুলের শাস্তির দাবি সংবলিত স্মারকলিপি গ্রহণ করে তিনি আন্দোলনরত ছাত্রী, শিক্ষক এবং উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানান, আপনাদের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। মামলাটি দ্রুতবিচার আদালতে নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এব্যাপারে আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করবো।
শহীদ মিনারে মানববন্ধন: কলেজছাত্রী খাদিজার ওপর হামলাকারী বদরুলের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন সিলেটবাসী। বৃহস্পতিবার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি সংগঠন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সিলেট ইউনিট, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন,  জৈন্তা ছিন্নমূল সংস্থা (জেছিস) ও আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জেলা জোট, সিলেট। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ব্লাস্ট সিলেট ইউনিটের পক্ষ থেকে ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বনানী দাস ইভা প্রমুখ।
মুখপাত্রকে হুমকি: খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে আহত করা শাবি ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র ফজিলাতুন্নেসাকে মোবাইলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ফজিলাতুন্নেসা যখন তার সহপাঠীদের নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিল তখন তার মায়ের মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল দিয়ে ফজিলাতুন্নেসাকে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলে। অন্যথায় তাকেও খাদিজার মতো কোপানো হবে বলে হুমকি দেয়। এ হুমকির পর থেকে ফজিলাতুন্নেসার পরিবারের লোকজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎকণ্ঠা। এ খবর জানাজানির পর চাপা ভয় বিরাজ করছে মহিলা কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে এ ব্যাপারে ফজিলাতুন্নেসা বলেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে আমাদের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না। বদরুলের ফাঁসির আগ পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।