চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ৭ আগস্ট ২০১৭

খনন প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন হওয়া জরুরি

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৭, ২০১৭ ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

খুলনা ও যশোরের এক বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল ডাকাতিয়ার অবস্থান। ষাটের দশকের আগ পর্যন্ত আলোচ্য বিল ঘিরে অসংখ্য মানুষের জীবিকার সংস্থান হয়েছিল। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ষাটের দশক থেকে বিলটি তাদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়। মূলত উপকূলীয় অঞ্চলে পোল্ডার তৈরির রাষ্ট্রীয় ভুল নীতির ফলে এমনটি হয়েছিল। বলা বাহুল্য, উপকূলীয় অঞ্চলে পোল্ডার তৈরি করা হলে সেখানে ধীরে ধীরে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে বিলসংলগ্ন হাজার হাজার মানুষ। পানিতে তলিয়ে যায় কৃষিজমি। ফলে অচল হয়ে পড়ে মানুষের জীবন-জীবিকা। পরে ১৯৯২-৯৩ সালে পাউবোর ইমার্জেন্সি অ্যাকশন প্ল্যানের আলোকে খুলনা-যশোর নিষ্কাশন পুনর্বাসন প্রকল্পের (কেজেডিআরপি) অংশ হিসেবে বিল ডাকাতিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় কৈয়া নদী ও বিল ডাকাতিয়ার মধ্যভাগ দিয়ে আড়ংঘাটার শলুয়া থেকে ফুলতলার জামিরা পর্যন্ত ৮০ ফুট চওড়া খাল খনন করা হয়। এতে বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশন শুরু হলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে স্থানীয়রা। কিন্তু কৈয়া নদী এবং খননকৃত খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিল এলাকায় নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত বর্ষণে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছে বিলসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা। এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে টানা বর্ষণে এসব এলাকার প্রায় ১ হাজার ৮০০ চিংড়ি ও মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে। অপরিমেয় দুর্ভোগে পড়েছে বিলসংলগ্ন মানুষ। মূলত গত বছর সালতা ও ভদ্রা নদী খননে গৃহীত প্রকল্প বর্ষা শুরুর আগেই বাস্তবায়ন না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সন্দেহ নেই, জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হলে দ্রুত আলোচ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তা কাম্য।
পাউবো কর্তৃপক্ষের ভাষ্য হলো, বিল ডাকাতিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু করে বর্ষার আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপরই পর্যায়ক্রমে কৈয়া নদী খনন প্রকল্প গ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু দাপ্তরিক কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে নাকি সালতা ও ভদ্রা খননের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করতে বিলম্ব ঘটে। এরই মধ্যে বর্ষা চলে আসায় খনন শুরু করা যায়নি। এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। যে বিলের ওপর হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল,  সেটি নিয়ে কোনো রকম দীর্ঘসূত্রতা প্রত্যাশিত নয়। নিশ্চয়ই দ্রুততার সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্নপূর্বক সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা গেলে আজকের এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। কাজেই এর দায় সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারেন না।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।