খতিবের দায়িত্ব ও কর্তব্য

373

ধর্ম ডেস্ক: আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নিরক্ষর সাধারণ বান্দাদের হেদায়েত, রহমত, নাজাত লাভের উপায় শিক্ষা দেয়ার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। হজরত মুহম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী। তার পর আর কোনো নবী ও রাসূল আসবেন না। হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর হজরত আবুবকর সিদ্দিক (রা.), হজরত ওমর ফারুক (রা.), হজরত ওসমান গণী (রা.), হজরত আলী (রা.) হয়ে সময় সময়ে যুগের বুজুর্গ, ইমাম, আলেম, ফেকাহবিদ, মুফাসসিরসহ আরো অনেকে ধর্মের বিভিন্ন বিষয় মানুষের সামনে আলোচনা করেছেন। আমাদের বর্তমান সমাজের খতিবদের দায়িত্ব হলো, যে সব দুস্থ মুসল্লি কিংবা প্রতিবেশীর মেয়ে যৌতুকের জন্য বিয়ে হচ্ছে না, অর্থের অভাবে দুস্থ মুসল্লির চিকিৎসা হচ্ছে না, উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের ভয়ে পাশের দুর্বল মুসল্লির মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না, গরিব ছাত্রছাত্রীরা অর্থাভাবে বই কিনতে পারছে না, জলাবদ্ধতার জন্য মুসল্লিরা মসজিদে আসতে পারছে না এসব বিষয়ে কোরান-হাদিসে কী নির্দেশনা রয়েছে সে সব বিষয়ে জুমার দিন খুতবাপূর্ব বয়ানে আলোচনা করা। নামাজ বেহেশতের চাবি এই বলে বয়ান করলেই একজন খতিবের দায়িত্ব শেষ হয় না। কোনো নামাজি ব্যক্তি যদি অপরাধ করে, অন্যায় করে, নামাজ সম্পর্কে উদাসীন থাকে, তাহলে ওই নামাজির ক্ষেত্রে কোরানে কী ঘোষণা রয়েছে তা মুসল্লিদের অবগত করতে হবে। পবিত্র কোরানে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘দুর্ভোগ ওই নামাজিদের জন্য, যারা নিজেদের নামাজ থেকে উদাসীন। তারা কাজকর্মের বেলায় শুধু প্রদর্শনী করে।’ আলেম সমাজ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওয়ারিশ। মহানবী (সা.) তার প্রিয়তমা স্ত্রী যিনি আরবের সবচেয়ে ধনাঢ্য মহিলা, তার সব সম্পদ গরিবদের বিলিয়ে দিয়েছেন। নবী (সা.) উম্মতদের কতটা ভালোবেসেছেন, হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত ওমর (রা.) তার মুসল্লিদের কতটা ভালোবেসেছেন, খতিব সাহেবদের সেই আদর্শ সমাজ জীবনে প্রতিফলনের চেষ্টা করা দরকার। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করার জন্য আদেশ করেছেন। খতিব সাহেবদের কাছে প্রত্যাশা, নামাজের পাশাপাশি ইমানের অন্যান্য শাখার প্রতি অর্থাৎ সৎকর্মের প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবেন। আমরা আলোকিত ইমাম চাই। যে সব ইমাম সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করতে মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন, যিনি মুসল্লিদের মধ্যে পারস্পরিক মমত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন, মুসল্লিদের সামাজিক সমস্যা নিয়ে ভাবতে পারবেন এমন আলোকিত খতিব ও ইমাম চাই।