চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২১ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্ষমা নেই মোদির

বিশ্ব প্রতিবেদন:
নভেম্বর ২১, ২০২১ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভারতের কৃষকদের দাবির কাছে নতি স্বীকার করে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক বছর পর বিক্ষোভ, সহিংসতা, কৃষকদের হত্যার পর মোদির এই অবস্থান পরিবর্তনের ঘোষণাকে অবশ্য কৃষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। তাদের বিশ্বাস শুধুমাত্র নির্বাচনী কৌশল হিসেবে কৃষকদের মন জয় করতে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু কৃষকদের সাফ বক্তব্য, ‘ক্ষমা নেই মোদির।’ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষকদের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিতর্কিত তিন কৃষি আইন পাস করে মোদি সরকার। এর প্রতিবাদে লাখ লাখ কৃষক দিল্লির প্রবেশপথগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে গেছেন। প্রবল শীত আর ভীষণ গরমের মধ্যে, এমনকি করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেও তারা রাস্তায় তাঁবু টানিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। সরকারি বাহিনীর হাতে প্রায় ৭০০ কৃষক আন্দোলন চলাকালে মারা গেছে। কৃষকদের বিক্ষোভে সবচেয়ে বড় অংশটি ছিল পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশের। এই দুটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। রাজ্য দুটিতে কৃষকদের ভোট বিরুদ্ধে চলে গেলে বিজেপির জয় অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই কৃষকদের মন জোগাতে তিনটি বিতর্কিত আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজধানী নয়া দিল্লি থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পূর্বে জনবহুল উত্তর প্রদেশের গ্রাম মোহরানিয়া। এই গ্রামের বাসিন্দা গুরু সেবক সিং জানিয়েছেন,  তিনি ও অন্য কৃষকরা মোদি ও তার দলের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী মোদি বুঝতে পেরেছেন তিনি সব নষ্ট করেছেন। কিন্তু এটা বুঝতে তার এক বছর সময় লেগেছে এবং শুধু এ কারণেই বুঝতে পেরেছেন যে, কৃষকরা আর তার দলকে ভোট দেবে না।’ তরুণ কৃষকদের কাছে ব্যাপারটি অবশ্য আরও ব্যক্তিগত।  গত অক্টোবরে বিক্ষোভের সময় কৃষকদের ওপর সরকারের এক মন্ত্রীর ছেলে গাড়ি উঠিয়ে দিয়েছিল। ওই ঘটনায় নিহত আট জনের মধ্যে সেবক সিংয়ের ভাইও রয়েছে। এ ঘটনার জেরে কৃষক বিক্ষোভের আগুন আরও ফুঁসে ওঠে। সেবক সিং বলেন, ‘আজ আমি আমার ভাইকে শহীদ ঘোষণা করতে পারি। সরকার কৃষি অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য আইন প্রয়োগ করছে সেটা প্রমাণ করতে আমার ভাই তার জীবন উৎসর্গ করেছে।’ উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া কৃষকদের ছয়টি ইউনিয়নের নেতারা বলেছেন, সরকার কৃষকদের সন্ত্রাসী ও জাতীয়তাবাদবিরোধী তকমা লাগিয়েছিল। তারা এই সরকারকে ক্ষমা করবে না। উত্তর প্রদেশে কৃষকদের ইউনিয়নের নেতা সুধাকর রায় বলেন, ‘ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করা কৃষকদের লাঠি, রড দিয়ে পেটানো হয়েছে, আটক করা হয়েছে… মন্ত্রীর পরিবারের একটি দ্রুতগামী গাড়ি দিয়ে কৃষকদের চাপা দেওয়া হয়েছে … সব কী করে ভুলব বলুন তো?’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।