চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৮ আগস্ট ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্ষমাশীলতাই ধর্মের শিক্ষা

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ২৮, ২০১৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ধর্ম ডেস্ক: পবিত্র কোরানে কারিমে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তুমি ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন করো, সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদের উপেক্ষা করো’ -সূরা আরাফ : ১৯৯। বর্ণিত আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) কিছু বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে মূলত উম্মতকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে। আয়াতে তিনটি বিষয়ের শিক্ষা রয়েছে। এক. ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন করা। দুই. সৎ কাজের আদেশ দেয়া। তিন. অজ্ঞদের উপেক্ষা করা। ক্ষমা করা মহৎ মানুষের গুণ। এটা ধর্মের শিক্ষা। বর্ণিত আয়াতে ক্ষমাপরায়ণতা বোঝাতে আরবি আফ্উন শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। অধিকাংশ ইসলামী স্কলার এ শব্দের যে অর্থ নিয়েছেন তা হলো, আফ্উন বলা হয় এমন সব কাজকে, যা সহজে, অনায়াসে সম্পন্ন হতে পারে। সে হিসেবে শব্দটির অর্থ দাঁড়ায়, শরিয়ত নির্ধারিত কর্তব্য সম্পাদনে আপনি (নবী) সাধারণ মানুষের কাছে সুউচ্চমান দাবি করবেন না; বরং তারা সহজে যে পরিমাণ আমল করতে পারে, আপনি তা-ই গ্রহণ করে নিন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা আমাকে মানুষের আমল-আখলাকের ব্যাপারে সাধারণ আনুগত্য গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি প্রতিজ্ঞা করে নিয়েছি, যে পর্যন্ত আমি তাদের মধ্যে থাকব এমনটিই করব’  সহিহ বোখারি। বস্তুত মুসলমানদের যে গুণ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তার মধ্যে একটি হচ্ছে তাকে কোমল স্বভাবের, সহিষ্ণু ও উদার হওয়া। একজন মুসলমানকে হতে হবে নিজের সঙ্গী-সহযোগীদের প্রতি স্নেহশীল, সাধারণ মানুষের জন্য দয়ালু আর বিরোধীদের প্রতি সহিষ্ণু। আসলে ইবাদত, লেনদেন, সাহচর্য ও প্রতিবেশিত্বের ক্ষেত্রে ইসলাম উদারতা, কোমলতা ও ক্ষমার সুযোগ রেখেছে; যাতে মানুষের জীবনযাপন সহজ হয়। মানবিক দুর্বলতাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা এবং তাদের প্রতি দয়াপরবশ হওয়া এবং তাদের সঙ্গে উদারতা প্রকাশ করা মহৎ মানুষের গুণ। ধর্ম মানুষকে সে মহান আদর্শের শিক্ষাই দিয়ে থাকে। প্রতিশোধ নয় ক্ষমা; ঘৃণা নয় ভালোবাসা; কঠোরতা নয় কোমলতা প্রদর্শনই ধর্মের শিক্ষা। এ আয়াতে অজ্ঞদের উপেক্ষা করতেও বলা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলোÑ হে নবী, আপনি অত্যাচারের প্রতিশোধ না নিয়ে তাদের সঙ্গে কল্যাণকর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার করুন এবং একান্ত কোমলতার সঙ্গে তাদের সত্য ও ন্যায়ের বিষয় বলে দিন। আল্লামা ইবনে কাছির (রহ.) বলেন, ‘দূরে সরে থাকার অর্থ মন্দের প্রত্যুত্তরে মন্দ ব্যবহার না করা।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।