কোরানের মর্যাদা

324

ধর্ম ডেস্ক: মহাগ্রন্থ আল কোরান আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত গ্রন্থ। এটি একমাত্র কিতাব, যার মধ্যে কোনো ভুল-ত্রুটি নেই। ইসলামের যাবতীয় আহকাম বা মূলনীতি কোরানে বলে দেয়া হয়েছে। এ জন্য কোরানকে মুসলমানদের সংবিধান বলা হয়। দীনের মৌলিক বিষয়গুলো সংক্ষিপ্ত ও পরিমিত আকারে কোরানে উল্লেখ আছে। কোরানের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই মহা গ্রন্থটির মর্যাদা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। আল কোরান পাঠ, অনুধাবন, এর নির্দেশনা অনুযায়ী চলা সবই ফজিলতের মাধ্যম। হাদিসে আছে, যতদিন পর্যন্ত মুসলমানরা কোরানকে আঁকড়ে ধরে রাখবে, ততদিন তারা বিভ্রান্ত ও বিপথগামী হবে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এই কোরান এমন এক ব্যবস্থাপত্র, যিনি অর্থ বুঝে তা পড়ে এর ওপর আমল করবেন, তিনি তো মুক্তি পাবেনই, যিনি না বুঝে কেবল তেলাওয়াত করবেন, আল্লাহ তাকেও প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে ১০টি করে সওয়াব দেবেন।’ কোরানকে মূল্যায়ন করলে মুসলমানের মর্যাদা ও সম্মান বাড়বে। কোরানের কারণে সম্মান বাড়ে। মক্কার এতিম বালকের ওপর কোরান অবতীর্ণ হওয়ার পর তিনি শ্রেষ্ঠ মানবের মর্যাদা পেয়েছিলেন। যে রাতে কোরান অবতীর্ণ হয়, সে রাতটি সবচেয়ে মর্যাদার রাত। কোরানের সান্নিধ্যে যারা এসেছেন, তারাই সোনার মানুষে পরিণত হয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম কোরানকে নিজের জীবনের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন বলেই সফল হয়েছেন। কেয়ামত পর্যন্ত যারাই কোরানকে আঁকড়ে থাকবে, এর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গঠন করবে, তারাই মুক্তির রাজপথের সন্ধান পাবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সর্বোত্তম ইবাদত হলো কোরান তেলাওয়াত করা।’ অন্য হাদিসে আছে, ‘কোরান তেলাওয়াতের বিনিময়ে প্রতি অক্ষরে ১০টি করে নেকি পাওয়া যাবে’। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত কোরানকে মূল্যায়ন করা। এর পদ্ধতি হলো প্রতিটি মুসলমান শিশুসন্তানকে কোরান শেখানো। শিশুদের ভেতরে কোরানের আলো ঢুকিয়ে দিতে পারলে কোনোদিন তারা বিপথগামী হবে না। প্রত্যেকের উচিত সহি-শুদ্ধ করে কোরান তেলাওয়াত শেখা। যাদের সুযোগ আছে তাদের উচিত, কোরানের মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করা। প্রতিটি কাজে কোরানের নির্দেশনা অনুসরণ করা মুসলমান হিসেবে সবার কর্তব্য। যারা কোরানের খেদমত করেন, তাদের প্রতিও থাকতে হবে সুনজর। নিজে কোরানের খাদেম হতে না পারলেও অন্তত এর খাদেমদের সহযোগিতার মনোভাব থাকতে হবে। সর্বোপরি কোরানভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মনোবাসনা সবার ভেতরে সজীব থাকা চাই।