কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত দামুড়হুদার কামারপাড়ার কারিগররা

348

দামুড়হুদা অফিস: আর মাত্র কয়েকদিন পরেই কোরবানির ঈদ। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ এলেই কামারশালার শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এই সময়ে রাত-দিন ব্যস্ত সময় কাটান কামাররা। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য বড় ছুরি থেকে শুরু করে চাপাতি, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি, রামদা, বটি, বিভিন্ন আকারের কাঁচি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দামুড়হুদার কামাররা। আগুনে পুড়িয়ে লাল করে লোহা পিটিয়ে বানানো হচ্ছে এসব যন্ত্রপাতি। লোহা পেটানোর শব্দে সরব সব কামারশালাগুলো। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস টুকরো করতে ধারালো অস্ত্রের প্রয়োজন।
আর এ জন্য বর্তমানে চাপাতি, দা, বটি, চাকু তৈরি ও পুরনো অস্ত্রে শান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন দামুড়হুদার কামাররা। দিনরাত চলছে তাদের এ কাজ। যেন ঢুং-ঢাং শব্দে মুখর কামারপাড়া। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কামার সম্প্রদায়ের কারিগররা লোহার তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় হাতিয়ার তৈরির মাধ্যমে পূর্ব পুরুষের পেশা আঁকড়ে ধরে থাকলেও লোহা ও কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে লাভ কম হচ্ছে বলে জানান অনেকে।
বুধবার সকালে দামুড়হুদার কামারপাড়া সরেজমিনে ঘুরে ও তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায় মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করতে কয়লার আগুনে লাল টকটকে তেতে ওঠা লোহার পাঁচ/সাত কেজি ওজনের হাতুড়ি দিয়ে দু’দিক থেকে ইচ্ছা মতো পেটাচ্ছেন দুই জন ব্যক্তি। এরমধ্যে তালে তাল মিলিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে যাচ্ছে আরেকজন। সঙ্গে বা পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে আইতনার (বাষ্প দেওয়ার স্থানীয় নাম) রশি টেনে কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছে আরেকজন।
তারা জানান, চাহিদা মোতাবেক এসব সামগ্রী তৈরিতে এখন কাজ করছেন দিন-রাত। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময় তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়, বাড়ে রোজগারও। তবে পর্যাপ্ত কয়লা না পাওয়া, উচ্চমূল্য আর পুঁজির অভাবে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছেন না তারা। চিৎলা গোবিন্দহুদা এলাকার সুধীর নামের এক অভিজ্ঞ কর্মকার জানান, দামুড়হুদা উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক কামার পরিবারের বাস। তারা এখন খুবই ব্যস্ত আসন্ন ঈদে কোরবানির পশু কাটার অস্ত্র-যন্ত্র তৈরিতে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা সাপ্তাহিক হাটের কামার দুলাল চন্দ্র কর্মকার বলেন, কামাররা মহাব্যস্ত সময় পার করছেন এখন। কোরবানিতে মাংস কাটা ও চামড়া ছাড়াতে চাহিদা বেড়েছে দা-ছুরির। তাই কামার সম্প্রদায়ও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ছোট দা, লম্বা দা, নেপালি ছুরি, জবাই ছুরি, বটি ও ধামা তৈরি এবং মেরামতের কাজে। তিনি জানান, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কামাররা। হাতে অতিরিক্ত কাজ থাকায় অনেকে ইতোমধ্যে নতুন কাজ নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কার্পাসডাঙ্গা এলাকার  উত্তম ও নরেন নামের দুই কর্মকার জানান, প্রতি বছরের চেয়ে এবার কাজ কিছুটা কম।