কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন চুয়াডাঙ্গার খামারিরা

551

জমে উঠেছে পশু হাটগুলো; দরপতনের শঙ্কা : অবৈধ পথে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধের দাবি
ফেরদৌস ওয়াহিদ: কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন চুয়াডাঙ্গার খামারিরা। জেলার ছোট-বড় ৭ শতাধিক খামারে গরু পরিচর্যারও প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু না এলে খামারিরা লাভবান হওয়ার আশা করছেন। পশু হৃষ্টপুষ্ট করায় কোন প্রকার ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে না বলে দাবি প্রাণিসম্পদ বিভাগের। বিভিন্ন জেলায় যখন এক শ্রেণির খামারিরা কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নিষিদ্ধ সকল ক্ষতিকর উপাদানে গরু মোটাতাজা করনে ব্যস্ত সেখানে চুয়াডাঙ্গার খামারিরা গরু লালন-পালনে কাঁচা ঘাস, খড়, ভূষি ছাড়া তেমন কোন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করছেনা। এ জেলায় প্রয়োজনের তুলনায় এবার অধিক পশুর যোগান রয়েছে। তারপরেও চুয়াডাঙ্গাতে সারা বছরই শহর এবং গ্রামীণ হাট বাজারগুলোতে দেখা মিলে ভারতীয় গরুর। চুয়াডাঙ্গা ভারতীয় সীমান্তবর্র্তী জেলা হওয়ায় রাতের আধারে দেশে প্রবেশ করে ভারতীয় গরু। এতে করে দেশীয় খামারীরা গরুর ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়। আর ঈদ এলে তা আরো বেড়ে যায়। খামারিদের দাবি, নিজেদের পূঁজি টিকিয়ে রাখতে অবৈধ পথে ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ করা। কোরবানি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় চাহিদার তুলনায় বেশি গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে এবং সে সকল গরুর খামার থেকে বাজারে বিক্রয় পর্যন্ত যথাযথ মান ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।.
চুয়াডাঙ্গা জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এএইচএম শামিমুজ্জামান বলেন, আমরা কৃষকদের খামার, উঠানে যেয়ে বৈঠক এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের উৎসাহী করছি তারা যেন স্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার না করে গরু মোতাতাজা করণের ক্ষেত্রে।
তবে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ জানিয়েছে, গতবারের মতো এবারও বর্ডার এলাকায় গরু চোরাচালান যেন না হয় সে ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। এবারও ভারত থেকে গরু আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে কিছু গরু ট্যাক্স দিয়ে আসে। সেগুলো সংখ্যায় খুব কম। সেটা হিসাবের মধ্যে পড়ে না। তিনি জানান, আমরা ১৬ কোটি মানুষ। আর কোরবানির চাহিদা ১ কোটি ১৬ লাখ। আমাদের দেশীয় পশু দিয়ে আমাদের কোরবানি চাহিদা পূরণ সম্ভব।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, গেলো কোররবানির ঈদে ১ কোটি ৪ লাখ পশু বেচাকেনা হয়েছে। এবার কোরবানিতে গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল মিলে ১ কোটি ১৬ লাখ মজুদ আছে। এগুলো কোরবানির ঈদে বেচাকেনার জন্য প্রস্তুত। এছাড়াও নিজেরাই পালন করে কোরবানি দেবে এমন পশুর সংখ্যা তিন লাখ।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত বছরের শুরুতে দেশি প্রজাতির প্রতিটি বাছুর ১২-১৫ হাজার টাকায় কিনে পালন করতে থাকে। সারা বছর খাবার হিসেবে কাজের ফাকে বিল থেকে কাচা ঘাস কেটে এনে খাওয়ানো হয়। এবং ঈদের ২ মাস পূর্বে খড়, খৈল, কুড়া, ও ভুষি খাওয়ানো হয়। বছরে যে খাবার লাগে অধিকাংশ খাবারই বিলের কাচা ঘাষ। এই ঘাস কিনতে হয়না তাই খরচ অনেক কম হয়। একটি বাছুর ১২-১৫ হাজার টাকায় কিনে সারা বছর পোষার পরে ঈদের সময় আকার ভেদে ৪৫-৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। কৃষকেরা প্রতিটা গরু থেকে বছর শেষে আকার ভেদে ৪৫-৫০ হাজার টাকা লাভ করে।
খামারিরা জানান, গত বছর দেশের বাইরে থেকে বেশি বিদেশী গরু নড়াইলের কোন হাটে আসেনি তাই দেশী গরুর চাহিদা ছিল অনেক বেশি। আমরা খামারিরা ও স্থানীয় কৃষকেরা নিজেদের গরু ভাল দামে বিক্রি করতে পেরেছি। লাভ খুব ভাল হয়েছিল। আশা করছি সরকার এবছর ও বিদেশী গরু আমদানী করবেনা। সরকার যদি বিদেশী গরু আমদানি না করে তাহলে আমরা খামারিরা ভাল দাম পাব।
চুয়াডাঙ্গা সদরের সরোজগঞ্জ এলাকার কৃষক খাজা মিয়া জানান, আমি গত বছর কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে একটি বাছুর ১৮ হাজার টাকায় কিনে ১১ মাস পালন করে কোরবানীর আগে ৫৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। খরচ বাদে আমার একটি গরু থেকে ৩২ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবছর আমি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ২টি এড়ে বাছুর কিনে পালছি। গরু দুটি অনেক বড় হয়ে গেছে। আশা করছি কোরবানী সামনে রেখে ২টি গরু এক লাখ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারবো।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গার পশুর হাটগুলোতে ইতোমধ্যে কোরবানির পশু নিয়ে ভিড় করতে শুরু করেছেন খামারিরা। ক্রেতারাও ছুটছেন পশুর হাটে। অনেকে গরু-ছাগল কিনে কোরবানির জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। কিন্তু পশুর ব্যাপক আমদানির ফলে দর পড়ে যাওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ঘোড়ামারা ব্রিজের নিকট পৌর পশুর হাট প্রতি রোববার, বদরগঞ্জ পশুর হাট শনিবার, সরোজগঞ্জ গরুর হাট শুক্রবার এবং ছাগলের হাট সোমবার বসে। এছাড়া আলমডাঙ্গা পৌর পশুর হাট প্রতি বুধবার, জামজামি ও ঘোষবিলা পশুর হাট সোমবার, পারলক্ষ্মীপুর পশুর হাট রোববার, গোখুলখালী পশুহাট শুক্রবার, হাটবোয়ালিয়া পশুহাট শনিবার, ডুগডুগি পশুহাট সোমবার এবং শিয়ালমারী পশুর হাট প্রতি বৃহস্পতিবার বসে।
সরেজমিনে ডুগডুগি পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানি সামনে রেখে দূর-দূরান্ত থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা ট্রাক, নসিমন, করিমন, পাওয়ারট্রিলারে গরু ও ছাগল নিয়ে আসছেন। জেলার বিভিন্ন হাটে গত সপ্তাহে বেচাকেনা জমে উঠলেও এবার দরপতনে বিক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। জেলার সবচেয়ে বড় এই পশুর হাটে ব্যাপক আমদানি হওয়ায় প্রতিটি গরুর দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে গেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। মৌসুমের সর্বোচ্চ পশু আমদানি হয় এ ডুগডুগি হাটে। বাজারের নির্দিষ্ট স্থানে পশু রাখার জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় হাট ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের সড়ক ও খোলা স্থানে। তবে আমদানির তুলনায় বিক্রি হয়নি।
আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ গ্রামের গরু ব্যাপারী আবুল হাসেম ডুগডুগি হাটে ৫টি গরু এনেছেন। হাটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানা উপায়ে চেষ্টা করেও আশানুরূপ দর না মেলায় গরুগুলো বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন।
আবুল হাসেম জানান, গত হাটে ৬০ হাজার টাকার গরু ৫০ হাজার টাকা, ৫৫ হাজার টাকার গরু ৪০ হাজার টাকা ও ৯০ হাজার টাকা দরের গরুর ৮৫ হাজার টাকা দর উঠেছে। এত কমে বিক্রি করতে হলে ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে যাবে। শেষ মুহূর্তে বেশি দরের আশায় তারা চড়া দরে গরু কিনে এখন চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
এদিকে, হাটে চোখে পড়ার মতো ৯টি গরু তুলেছিলেন জীবননগর উপজেলার গরু ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী। তিনি প্রতিটি গরুর দাম হাঁকিয়েছেন দেড় লাখ টাকা করে। কিন্তু ১ লাখ টাকার ওপরে দর ওঠেনি। তাই নিরাস মনেই ফিরে যান তিনি। একই সঙ্গে ঢাকার হাটে গরুগুলো বিক্রির চেষ্টা করবেন বলে জানালেন লিয়াকত আলী।
তবে এখনো চুয়াডাঙ্গা জেলার আশেপাশের জেলাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে গরু-ছাগল রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি ভারতীয় গরু আমদানি হয়, তাহলে পশু পালনকারী ও ব্যবসায়ীদের দুর্দশার শেষ থাকবে না বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন কয়েকজন ব্যাপারী। গরু-ছাগলের ব্যাপক আমদানিতে শুধু ব্যাপারীরা নয় পালনকারীরাও বিক্রি নিয়ে শঙ্কিত। পশু পালনের খরচ বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় এ খাত আস্তে আস্তে লোকসানের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেক খামারী।
এদিকে, ছাগলের বাজারেরও একই অবস্থা। ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ছাগলের দাম এখন ১৫ হাজার টাকা। দর নিয়ে ছাগল পালনকারী ও ব্যাপারীরা হতাশায় পড়লেও স্বল্প মূল্যে ছাগল কিনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ক্রেতা।

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় জামায়াত
ডেস্ক রির্পোট: নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলেই আলোচনা জামায়াত ঘিরে। ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেয়ার চাপ বাড়ছে বিএনপির উপর। নেতাদের দাবি, সিলেট সিটি নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে জামায়াত ছাড়াই বিএনপি চলতে পারে। একইসাথে জামায়াতকে বাদ দিলে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের চেষ্টা সহজ হবে বলেও মনে করেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের সাথে, গেল শুক্র ও শনিবার ধারাবাহিক বৈঠক করেন, বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। এসব বৈঠকে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন, নির্বাচন ও রাজনৈতিক জোট নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তৃণমূল নেতারা। তাদের বেশিরভাগই মনে করেন, কার্যকরি আন্দোলন ছাড়া দলীয় চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা সম্ভব হবে নয়। আবার তাকে জেলে রেখেও নির্বাচনে যেতে চাননা তারা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনায় সামনে আসে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জামায়াতে ইসলামের সাম্প্রতিক ভূমিকা। বিশেষ করে সিলেট সিটি নির্বাচনে, বিএনপিকে সমর্থন না দেয়ার ক্ষোভ জানান তৃণমূল নেতারা। তাদের দাবি, জোটে জামায়াত না থাকলে, বিএনপির জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া দেবে অনেক দলই। বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও মনে করেন, সময় এসেছে জামায়াতের সাথে নির্বাচনি ঐক্য নিয়ে নতুন করে ভাবার। জামায়াতবিহীন বিএনপি নির্বাচনের মাঠে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে, বাড়বে সমর্থনও-এমন মত বিএনপির অনেক নেতাদের।