কোভিড-১৯ তাণ্ডবে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ

22

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গে ১৫ জনের মৃত্যু
সারা দেশে আরও ২১৮ জনের প্রাণহানি, শনাক্ত ৯ হাজার ৩৬৯ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩৬৯ জনের শরীরে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাব থেকে কোনো ফলাফল পায়নি। তবে গতকাল জেলায় নতুন ৯ জন সুস্থ হয়েছেন। মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৩৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। এছাড়াও ঝিনাইদহে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ছয় জনের। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত পাঁচজন ও উপসর্গে একজন। একই সময়ে ঝিনাইদহে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৭৫ জনের শরীরে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় একটানা প্রকোপ চালিয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাস। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে করে একদিনে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত দুজন ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। গতকাল শনিবার জেলায় করোনা আক্রান্ত দুজন, ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজন এছাড়াও উপসর্গ নিয়ে অন্য দুজনের মৃত্যু হয়েছে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৫২ জনের শরীরে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৬ জনে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত ২১৪টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৫২টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ১৬২টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ২৪.২৯ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৫২ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ১৯জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৮ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ১১ জন ও জীবননগর উপজেলার ১৪ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও ২৩ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৯২৬ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ১৯৭টি নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত দুজন ও উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর নিহতদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। উক্তা নমুনাগুলি কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হবে। গতকালই করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে জেলায় আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৬৩ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৭ জনের। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়েছেন বাকী ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২২ হাজার ৪৬০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২২ হাজার ১০১টি, পজিটিভ ৬ হাজার ৪৬ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৮৪৯ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৭৬৫ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৮৪ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৮০ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৬৩ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৩৪ জনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের। গতকাল নতুন আক্রান্তদের ৩৪ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৪ জন, গাংনীতে ২২ জন, মুজিবনগর ৮ জন রয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ পিসিআর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত আরও ১৯৩টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৩৪টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন আাক্রান্ত ৩৪ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৭৭ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮৭ জন, গাংনী উপজেলায় ২৯৪ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৯৬ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩৭ জনের। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার ৬১ জন, গাংনী উপজেলার ৪৬ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩০ জন।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৫ জনের শরীরে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জন ও উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আরও ১ জনের। এ নিয়ে ঝিনাইদহে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছুঁয়েছে ২০০ জনে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ২৯৯টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৭৫টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকী ২২৪টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ২৫.০৮ শতাংশ।
সারা দেশ:
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সারা দশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬৮৫ জনে। এর আগে ২৭ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ৩৬৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ হাজার ৯৭৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ হাজার ৯৮০টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ১৭ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৭৮ হাজার ২১২ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২১৮ জনের মধ্যে ১০০ বছরের বেশি বয়সী দুইজন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে চারজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৬৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৩৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছয়জন ও ১০ বছরের কম বয়সী একজন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১৩৪ জন ও মহিলা ৮৪ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৩ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ জন, খুলনা বিভাগে ২৭ জন, বরিশাল বিভাগে ১০ জন, সিলেট বিভাগে ৯ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।