চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ১২ অক্টোবর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোনো কাজিই নিজ এলাকার বাইরে বিয়ে পড়াতে পারবে না

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ১২, ২০২০ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় ডিসি নজরুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘ ৯ মাস পর স্বাভাবিক নিয়মে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে কমিটির সদস্যদের স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সর্বশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয় গত মার্চ মাসে। গতকাল রোববার পুনরায় আগের মতো চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অক্টোবর মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে আমরা দীর্ঘদিন এভাবে সভা করতে পারিনি। সর্বশেষ সভা হয় মার্চ মাসে। তারপর কয়েকমাস সভা না হলেও, পরে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ সকল কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা থেমে ছিলাম না। প্রত্যেকটি কাজই অনলাইনের মাধ্যমে হয়েছে। সরকারি কেনো কাজ বন্ধ ছিল না। তবে ধীরে ধীরে করোনাভাইরাসের প্রভাব কমে আসছে। চুয়াডাঙ্গাতে এখন আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। মাঝেমধ্যে ফলাফলে নেগেটিভও আসছে। আমরা আরও বেশি সচেতন হলে, করোনাভাইরাস সামনের শীতেও মোকাবিলা করা সম্ভব।
সভার একপর্যায়ে ইজিবাইকের বিষয় উঠলে, জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, ইজিবাইক অবৈধ যান। মহাসড়কে উঠতে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত রঙ অনুযায়ী স্ব-স্ব উপজেলার মধ্যে চলাচল করবে। শুধুমাত্র রোগীবহনের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হবে, তা ছাড়া এক উপজেলার গাড়ি অন্য উপজেলায় চললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাখিভ্যান, লাটাহাম্বার যদি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা জনপ্রতিনিধিরা নিজের নিজের এলাকার মধ্যে চলতে না দেয়, সেক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। ওগুলোর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে। আর আস্তে আস্তে এসব যান চলতেই দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, রাস্তার ওপর কোনো বাজার বসবে না। প্রয়োজনে বাজার থাকবে না। কিন্তু রাস্তায় বাজার বসানো যাবে না। গরু কিংবা যাইহোক কোনো হাট-ই রাস্তায় বসবে না। গরুর বাজারে নাকি গাড়ি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। সেটা করা যাবে না। যারা গাড়িগুলো চালায়, তারা খুব একটা স্বচ্ছল নয়। তাই প্রথমবার নিষেধ করা হচ্ছে, এখন থেকেই এসব অভ্যাস বাদ দিতে হবে। তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।
বাল্যবিবাহের প্রসঙ্গে কথা উঠলে, জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, করোনার মধ্যে বেশ কয়েকটা বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। কাজিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কোনো কাজিই নিজ এলাকার বাইরে গিয়ে বিয়ে পড়াতে পারবে না। যদি এমন খবর পাওয়া যায়, তহালে কাজীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনোভাবেই ঝামেলা চাই না। কেউ যদি এমন কোনো পরিকল্পনা করে, তাহলে ছাড় দেওয়া হবে না। সুষ্ঠুভাবে প্রত্যেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেকটি দপ্তরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। সিসি ক্যামেরা থাকলে চুরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে সমাধান পাওয়া যাবে।
জেলা মৎস্য অফিসারের কথার সূত্র ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয় সবকিছু বন্ধ থাকবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের উদ্দেশ্যে বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে।
সভায় চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাদক এবং বাল্যবিবাহ, এই দুটির ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বদা সতর্ক। যেভাবেই হোক বাল্যবিবাহ ও মাদক শূণ্যের কোটায় আনতে হবে। নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু পরিবেশে হচ্ছে। বাকী আছে যেগুলো, সেগুলোও অনেক ভালো হবে। কেউ যদি উটকো ঝামেলা করতে চাই, তা কিন্তু মেনে নেওয়া হবে। গোয়েন্দা এবং পুলিশও বেশ সতর্ক। সুতরাং কেউ ঝামেলা করে ছাড় পেয়ে যাবে, তা হবে না। আমরা চিন্তা করি ভালোর জন্য। তাই খারাপ কিছু মেনে নেওয়া হবে না।
সভার শুরুতে গত সভার কার্যবিরণী পাঠ করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা পারভীন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ৫৮-বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল কামরুল আহসান, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, আলমডাঙ্গার মেয়র হাসান কাদির গণু, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলী, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, এনএসআই-এর উপপরিচালক জামিল সিদ্দিক, জেলা জজ আদালতের পিপি বেলাল হোসেনসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।