চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২১ নভেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোটালী দর্শনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে বেগমপুর বিল লিজ গ্রহনের অভিযোগ আজগারের প্রতারণায় বাব-দাদার পেশা ছেড়ে অনাহারে অনেক মৎস্যজীবি!

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২১, ২০১৬ ২:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

zdfbনিজস্ব প্রতিবেদক: বিখ্যাত লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসে শত শত কুবের ও গণেশের রক্ত চুসে হোসেন মিয়ারা ফুলে ফেঁপে দন্ডায়মান বটবৃক্ষে পরিণত হওয়ার এক করুণ কাল্পনিক কাহিনী তুলে ধরেছেন। কিন্তু সেটা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস মানে কল্প কাহিনী। কিন্তু বেগমপুর ও তিতুদহ ইউনিয়নের প্রকৃত মৎস্যজীবিদের করুন জীবনযাত্রার মান এই কল্প কাহিনীকে হার মানায়। প্রকৃত মৎস্যজীবিদের বাইপাস করে ভূয়া মৎস্যজীবিদের নামে সরকারী জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোটালী দর্শনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নাম দিয়ে বেগমপুর বিল লিজ নেওয়ার কথা বলে কোটালী গ্রামের আজগার আলী শত শত মৎস্যজীবিদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও নতুন নয়। যার কারণে এই অঞ্চলের প্রকৃত মৎসজীবিরা তাদের পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনযাপন করছে। তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বঞ্চিত প্রকৃত  মৎস্যজীবিরা।  বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কোটালী গ্রামের আলোচিত আজগর আলীর  বিরুদ্ধে ভূয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির রেজিষ্ট্রশন নিয়ে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন যাবত বেগমপুর বিল লিজ গ্রহন করে একক সুবিধাভোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গেজেটে প্রকাশিত দেশের খাস জলাশয় ও জনমহালসমুহ প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অনুকূলে বন্দোবস্ত প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং রাজস্ত আয়ের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিসহ জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে সরকার জনস্বার্থে “ সরকারী জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি,২০০৯ প্রণয়ন করেছেন। যেখানে সরকারী জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি,২০০৯ নং ভূঃমঃ/শা-০৭/বিবিধ (জল)/০২/২০০৯-১৯১ এ ২এর (ক) ধারায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যিনি প্রাকৃতিক উৎস হতে মাছ শিকার এবং বিক্রয় করেই প্রধানতঃ জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি প্রকৃতি মৎস্যজীবি বলে গন্য হবেন। তারাই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার প্রকৃত মৎস্যজীবিদের যাচাই বাচাই পূর্বক স্মাটকার্ডের আওতায় নিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে একই সংজ্ঞার (খ) ধারায় উল্লেখ আছে,   প্রকৃতি মৎস্যজীবিদের সংগঠন স্থানীয় পর্যায়ে সমবায় অধিদপ্তরের বা সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হলে স্থানীয় জলমহাল ব্যবস্থাপনা বা ইজারায় অংশগ্রহন করতে পারবেন। তবে কোন সমিতিতে যদি এমন কোন সদস্য থাকেন যিনি প্রকৃত মৎস্যজীবি নহেন, তবে সে সমিতি কোন সরকারি জলমহাল বন্দোবস্ত পাওয়ার যোগ্য হবে না। কোন ব্যক্তি বা কোন অনিবন্ধিত সমিতি সরকারী জলমহাল ব্যবস্থাপনায় আবেদন করতে পারবেন না। সেই হিসেবে সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলার উপজেলা নিবার্হী অফিসার এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যর কমিটি যাচাই বাচাই পূর্বক প্রকৃত মৎস্যজীবিদের পরিচয় পত্র প্রদান প্রকল্প এর চুড়ান্ত তালিকায় বেগমপুর ও তিতুদহ ইউনিয়নে প্রকৃতি মৎস্যজীবির সংখ্যা যথাক্রমে ১০৫+১২৮ অর্থ্যাত ২৩৩জন। সুচতুর আজগর আলী প্রকৃত মৎস্যজীবিদের বাদ দিয়ে ১২ বছর পূর্বে কোটালী দর্শনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি: নামে মৎস্যজীবি সংগঠন খূলে বসেন। যার রেজিঃ নং- চুয়া/১৪, তারিখ:১৮/১২/২০০৪। এই সমিতির নির্বাচনী এলাকাভূক্ত দর্শনা, হিজলগাড়ী ও নলবিলা গ্রামে প্রকৃতপক্ষে কোন মৎস্যজীবি নেই। অন্যদিকে এই সমিতির নির্বাচনী এলাকা কোটালী গ্রামে ০২জন, হরিশপুর গ্রামে ০১জন ও শৈলমারী গ্রামে ০৭জন প্রকৃত মৎস্যজীবি রয়েছে যারা কোটালী দর্শনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্য নয়। এছাড়াও এই মৎস্যজীবি সংগঠনের রেজিষ্টারে যে ২০জন সদস্যকে মৎস্যজীবি হিসেবে উল্লেখ করে  বেগমপুর বিল লিজ নেওয়া হয়েছে তাদের কেউ নিবন্ধিত স্মাটকার্ড প্রাপ্ত মৎস্যজীবি নয়। সমবায় সমিতি আইন,২০০১( সংশোধন) আইন,২০০২,২০১৩ এর ১৮(৮) ধারা মতে ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত সদস্য হিসাবে একাদিক্রমে তিনটি মেয়াদ পূর্ন করিয়াছেন এমন কোন সদস্য উক্ত মেয়াদের অব্যবহিত পরবর্তী একটি মেয়াদের নির্বাচনে প্রার্থী হইবার যোগ্য হবে না বলে উল্লেখ থাকলেও কোটালী দর্শনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিতে পরপর ১২ বছর সভাপতি পদে থেকে সকল সুযোগ সুবিধা এককভাবে ভোগ করছেন কোটালী গ্রামের আলোচিত আজগর আলী। সরকারী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী প্রদর্শন করে সুচতুর আজগর আলী কিভাবে বেগমপুর বিল লিজ গ্রহন করেছে তা সচেতন মহলের বুঝে আসে না। আজগর আলীর এমন প্রতারণার ফলে প্রকৃত মংস্যজীবিদের অনেকেই বাপ দাদার আদি পেশা ছেড়ে অন্য কাজ করে কোন মতে অর্ধহারে অনাহার জীবিকা নির্বাহ করছে। এবিষয়ে এলাকার প্রকৃত মৎস্যজীবিরা সুষ্ট তদন্তপূর্বক কোটালী দর্শনা সমবায় সমিতির রেজিষ্ট্রশন বাতিল পূর্বক শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রনের জন্য জেলা সমবায় অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।