কোটচাঁদপুর বলরামনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোট নেয়ার অভিযোগ : ভুক্তভোগীদের হস্তক্ষেপ কামনা

270

sdffggd

কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি: কোটচাঁদপুর বলরামনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। জানা যায়, গত ২ অক্টোবর কোটচাঁদপুর বলরামনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ১১ জন। যার মধ্যে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, তহমিনা আক্তার, আইরিন নেসা, পারভিন সুলতানা, সাইফুল ইসলাম, মোমিন হোসেন, শিফালী খাতুন, জাহানারা খাতুন, হায়দার আলী, মতিয়ার রহমান, আমিনুর রহমান। এর মধ্যে সদস্য হায়দার আলীকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একপক্ষ। তাদের দাবী হায়দার আলী অপরপক্ষের সাজানো ভোটার। এ ব্যাপারে কথা হয় সভাপতি প্রার্থী শেফালী খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, হায়দার আলী এ স্কুলের কেউ না। তাঁর পিতা স্কুলের দাতা সদস্য। সে অনুযায়ী তাঁর পিতা হারেজ আলী একজন ভোটার। এদিকে অপরপক্ষ প্রধান শিক্ষকের যোগসাজসে হারেজ আলী ভোট দিতে আসতে না পারায় হায়দার আলীকে ভোটার সাজিয়েছেন। আর এ কারনে ভোটের পর বাকবিতন্ডতা ঘটে হায়দার আলীর সঙ্গে। পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলাও করেছে তারা। কথা হয় মেম্বর মতিয়ার রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন ভোট নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিল না। ভোট ঠিকমত হয়েছে। তবে বিপত্তি ঘটেছে দাতা সদস্য ভোটার হায়দার আলীকে নিয়ে। সে তার পিতার ভোট দিতে আসায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সবার মনে। হায়দার আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন আমার পিতা ওই স্কুলের দাতা সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ্য থাকায় স্কুলে আসতে পারেন না। এ কারনে আমার পিতা ও ভাইয়েরা সবাই বসে আমাকে দাতা সদস্যের ভোটার করেছে। হায়দার আলী অভিযোগ করে বলেন আমি তাদের ভোট না দেয়ায় তারা আমাকে বেধড়ক পিটিয়েছে। এছাড়া ভুয়া ভোটারের অভিযোগও তুলেছে তারা। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। মারামারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমি ওই সময় স্কুলের ভিতরে ছিলাম। কিভাবে মারামারি হয়েছে তা আমি জানিনা। ভুয়া ভোটার প্রসঙ্গে তিনি বলেন হায়দার আলী ভুয়া ভোটার না। সে তাঁর পিতার ভোট দিতে এসেছিল। তাঁর পিতা হারেজ আলী এ স্কুলের দাতা সদস্য। সে ভোট দিতে না পারায় উত্তরসূরী হিসেবে সে ভোট দিতে পারে। এছাড়া তাঁর পিতা গত ৩০-০৮-১৬ তারিখে তাঁর দাতা সদস্যের পদ প্রত্যাহার করে তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ ব্যাপারে নির্বাচন অফিসার আব্দুল হান্নান বলেন, নির্বাচন দেখার জন্য আমাকে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান লিখিতভাবে জানান। বিষয়টি আমার উর্দ্ধতন কর্তাব্যক্তিদের অনুমতিক্রমে আমি নির্বাচন স্থলে যায়। ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। পরে ভুয়া ভোটার নিয়ে গোলযোগ হয়েছে বলে আমিও শুনেছি। তবে পিতা দাতা সদস্য হলে পুত্র ভোট দিতে পারে কিনা আমার জানা নেই। এছাড়া প্রতিপক্ষ যদি ভোট গ্রহনের সময় অভিযোগ করতো তাহলে আমি ভোট গ্রহন বন্ধ করে দিতাম। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জহির উদ্দিন বলেন, ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে গোলযোগের কথা আমি শুনেছি। পিতা দাতা সদস্য হলে পুত্র ভোট দিতে পারবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিপত্রে বলা আছে কমিটিতে একজন দাতা সদস্য থাকবেন। জমিদাতা/উত্তরাধিকারী একাধিক হলে তাদের মধ্য থেকে মনোনীত একজন অথবা নিজেরা মনোনীত করতে না পারলে উপজেলা পরিষদ সভার সিদ্ধান্তক্রমে জমি দাতা সদস্য মনোনীত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে এ নির্বাচনে যে ভোটার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আইনে তাঁর কোন ব্যতয় ঘটে না।