চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৫ নভেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কেমন আছেন অনুপমপুরের তাঁত শিল্পীরা

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২৫, ২০২০ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
ইতিহাস ঐতিহ্যের তাঁতশিল্প অনেক বড় ভূমিকা রেখেছিল ভারত বর্ষের ঐতিহ্যে। এদেশের অর্থনৈতিক খাতেও রেখেছিল অনেক বড় ভুমিকা। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের অনুপমপুরের এই তাঁতিরা একসময় ছিল আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বি। কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যাচ্ছে তাদের এই ঐতিহ্য। অনেকটা ক্ষোভ আর লজ্জায় তারা ত্যাগ করছে তাদের এই আদি পেশা। সুতা রঙিন হলেও তাদের জীবন রঙিন নয়। কালীগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পথ গেলেই এই অনুপমপুর। সেখানে আজও মুখরিত হয় সেই তাঁত বুননের শব্দে।
অনুপমপুরের এক সময়কার স্বচ্ছল তাঁত মালিক জামাত আলির অধিনে চলত ১০টি তাতঁ। পারিবারিকভাবে ছিল তাঁর এ ব্যবসা, পরিবারের সদস্যসহ আশেপাশের লোকজন নিয়ে তার এইখানেই বুনন হতো শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, ধুতিসহ নানান ধরনের পরিধেয় বস্ত্র। এখন মাত্র ৪টি তাঁত নিয়ে চলছে তাঁর এ ব্যবসা। তার পরিবারের অনেকেই আজ ত্যাগ করেছে এ পেশা। অনুপমপুরের এই সম্প্রদায় এখন টিকে আছে কোনোরকমে। এই গ্রামে এখন ১৮টি পরিবারের মধ্যে এ তাঁতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখনও তারা চেষ্টা করছে চরকার চাকা ঘুরিয়ে ভাগ্যের চাকা সচল রাখতে।
রফিকুল ইসলাম নামের আরও একজন জানান, তার আছে ২টা তাঁত। পারিবারিকভাবে স্ত্রী, পুত্র ও পুত্রবধু নিয়ে এই কাজই করছেন। একটি তাঁতে প্রতিদিন ৪ থানে গামছা হয় ৮টা, যার পাইকারি মুল্য ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। এই গামছা তৈরীর সুতা আনতে হয় কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া থেকে। নিজেদের পরিশ্রম, সুতা, রং, চরকা, মাকুর খরচ দিয়ে পোশানো অনেক কষ্টের। পৈতৃক কাজ ছাড়তে পারছেন না বলেই তারা এ ব্যবসা আজও ধরে রেখেছেন।
একই গ্রামের তাজুল রহমান জানান, এখন শাড়ীর কাজ হয় না বললেই চলে, কারণ শাড়ীর খরচ পুুশিয়ে মূল্য পাওয়া কষ্ট। তাঁতের একটি শাড়ী তৈরীতে সময় লাগে প্রকারভেদে এক থেকে দু-দিন। খরচও লাগে প্রকার ভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। যা বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা। তাঁতের শাড়ী থেকে মেশিনে তৈরি শাড়ির চাকচিক্য থাকে বেশি। সময়ের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে ব্যবসায়ীক ও অর্থনৈতিক সাহায্য প্রয়োজন। যা তাঁত শিল্পীরা পাচ্ছেন না। এ পেশার সাথে জড়িত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পেশাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। পরিবর্তীত রুচি ও পছন্দের সাথে সংগতি রেখে তাঁত বস্ত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় সামর্থ তাঁতী সমাজের কাছে নেই, ফলে তারা সনাতন পদ্ধতিতে সেই সনাতনী মানের কাপড় উৎপাদন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অবস্থায় তাঁতশিল্পের বিকাশ অনেক কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। সরকারি সহায়তা ও কম সুদে ঋন পেলে তাদের এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে পারবে। যান্ত্রিকতার এই যুগে আজ অসহায় হয়ে পড়েছে অনুপমপুরের তাঁতী শিল্প।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।