কুখ্যাত রেজাউল দালালের আশু মুক্তির গুজবে ভীত কোটচাঁদপুর বাসী

285

ঝিনাইদহ অফিস: পুলিশের খাতায় তালিকাভুক্ত দেশব্যাপি মাদক, স্বর্ণ ও অস্ত্র পাচারকারী চক্রের গডফাদার কোটচাঁদপুরের আলোচিত সন্ত্রাসী রেজাউল ওরফে রেজাউল দালালসহ তার ২ সঙ্গীসহ ঝিনাইদহ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৬ গ্রেফতার করে। এ সময় রেজাউল দালালের কোটচাঁদপুর আদর্শপাড়া বাসা থেকে ব্রাজিলের তৈরী ১টি অত্যাধুনিক পিস্তল, ৪০ রাউ- গুলি, ৫টি হাসুয়া, ফেনসিডিল,ইয়াবা, নগদ টাকা ও পুলিশের পোশাক উদ্ধার করে র‌্যাব। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছে। এদিকে রেজাউল দালাল জেল হাজতে থাকলেও তার সহযোগীরা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে প্রচার করছে রেজাউলের হাত অনেক লম্বা তাকে বেশী দিন জেল হাজতে আটকিয়ে রাখতে পারবেনা। দু’একদিনের মধ্যে সে বেরিয়ে আসছে। এমন প্রচারে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। রেজাউল দালাল গ্রেফতার হওয়ার পর এলাকাবাসী আশা করেছিলো তার অরক্ষিত অস্ত্র ভাণ্ডারসহ রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার হদিস পাবে। এ আশা এলাকাবাসীর কাছে ধোয়াশায় পরিণত হয়েছে। রেজাউল দালাল জেলে থাকলেও তার সহযোগী যশোরের ঝিকরগাছার চাকুরীচ্যুত দারোগা রাজিব, মহেশপুর উপজেলার সোনাইডাঙ্গা গ্রামে’র মৃত ফজলু সরকারের ছেলে ইমদাদুল হক মিলন, কোটচাঁদপুর আদর্শপাড়ার খালেক পাঠানসহ বেশ কয়েক জন সাগরেদ এখনো রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। রেজাউলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পৌর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী’র নিকট স্মারক লিপিও প্রদান করা হয়েছে। তার কুকৃত্তির বিষয় নিয়ে একাধীকবার বিভিন্ন পত্রিকায় ও টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। এমনকি সাবেক ডিসি শফিকুল ইসলাম কোটচাঁদপুর উপজেলাতে আইন শৃংখলা মিটিং-এ বলেছিলেন রেজাউল দালালের মত এমন কুখ্যাত সন্ত্রাসী বেচে থাকার কোন অধিকার নেই। তাকে গ্রেফতার করে আইনে সোপর্দ করার কথা বলেছিলেন স্থানীয় থানা পুলিশকে। তার পরও রেজাউল দালালের বিরুদ্ধে অদৃশ্য কারণে সে সময় কোন প্রকার আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং সে অপকর্ম চালিয়ে গেছে সমান তালে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ দিন পরে হলেও গত ২৬ জুন রাতে ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ রেজাউল দালালকে অত্যাধনিক বিদেশী পিস্তল, গুলি, দেশীয় বেশ কিছু ধারেেলা অস্ত্র, মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা, পুলিশের পোশাকসহ তাকে গ্রেফতার করে।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ কবির হোসেন জানান, সন্ত্রাসী রেজাউলের ১ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এ তথ্য যাচায় বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন বোধে পুনরায় রিমাণ্ডের আবেদন করা হবে। ইতি মধ্যে তার স্বীকারউক্তি অনুযায়ী মাদক মামলায় মহিলাসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দারোগা সৈয়দ আলী এ প্রতিবেদক বলেন, সহসায় রেজাউল দালালের জামিন না হওয়ার কথা। আমরা আইন অনুযায়ী এগোচ্ছি। তবে এলাকাবাসীর ভীতির কোন কারণ নেই।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে রেজাউল দালালের জামিনের জন্য তার সাগরেদরা উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করলে তা নাকচ হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুননেছা মিকি বলেন, রেজাউল দালাল অপরাধী, তার শাস্তি হওয়া দরকার। এটা সমাজের মানুষ চাই, দেশের মানুষ চাই তদরূপ আমিও চাই। তা নাহ’লে এ সমাজে তার মত মানুষের সংস্পর্শে অরো সন্ত্রাসী তৈরী হবে। পৌর আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান সেলিম রেজাউল দালালের অপরাধ অনুযায়ী দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করে বলেন, তার অপরাধের মাত্রা এতটায় বেশী হয়ে গিয়েছিলো যে, অতিষ্ট হয়ে কোটচাঁদপুর বাসী রাস্তায় নেমে রেজাউল দালালের গ্রেতারের দাবীতে মানববন্ধন করে সেই সাথে বর্তমান মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রি মহদয়ের নিকট গত বছর মে মাসে লিখিত অভিযোগও করতে বাধ্য হয়েছিলো।