কী ঘটছে সৌদি রাজপরিবারে?

451

বিশ্ব ডেস্ক: ‘সে শেষ হয়ে হয়ে গেছে’, ‘সে খুবই বিপজ্জনক’, ‘আমরা তাকে ভালোবাসি’, ‘তিনি আমার হিরো’- সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে জনমত একেবারেই বিভক্ত। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সাংবাদিক জামাল খাশোগি খুন হবার পর পশ্চিমা দেশগুলোতে ‘এমবিএস ব্র্যান্ড’ এখন আরও বিপজ্জনক হয়ে গেছে। যদিও সৌদি আরব বারবার বলছে, ওই খুনের ঘটনার সাথে প্রিন্স সালমানের কোন যোগাযোগ ছিল না- কিন্তু এ অস্বীকৃতি দেখা হচ্ছে গভীর সন্দেহের চোখে। কারণ কি? এক কথায় – যে দেশে ওপরের নির্দেশ ছাড়া প্রায় কিছুই হয় না, সেখানে কিছু নিয়মভঙ্গকারী এজেন্ট মিলে জামাল খাশোগিকে খুন করেছে, এটা শুনতে প্রায় অসম্ভব মনে হয়। আরব দেশগুলোতে একটা ‘তত্ব’ বেশ চলছে। সেটা হলো এই রকম: খাশোগি সৌদি সরকারের কড়া সমালোচক ছিলেন এবং তাই এমবিএস চেয়েছিলেন তার ব্যাপারে ‘কিছু একটা করা হোক’- কিন্তু তিনি কখনো খুনের অনুমতি দেননি। বরং তার অফিস যিনি চালান সেই সাউদ আল-কাহতানি এমবিএসের নির্দেশের বাইরে গিয়ে হত্যাকারীদের বলেছিলেন যে ‘যুবরাজ সব কিছুরই অনুমোদন দিয়েছেন।’ সমস্যা হলো সৌদি আরবের বাইরে প্রায় কেউই এ কথা বিশ্বাস করে না। কারণ এ খুনের ঘটনা নিয়ে প্রথম থেকেই সৌদি আরবের দিক থেকে একেক বার একেক রকম কথা বলা হচ্ছিল। তাই এটাই অনুমান করে নেয়া যায় যে – প্রিন্স সালমান তার মোটা-বেতন-পাওয়া মিডিয়া উপদেষ্টাদের কথা কানে শুনলেও পাত্তা দেননি। ফলে এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে এমবিএস এখন বিশ্বজনমতের কাঠগড়ায় -এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যে তার সাথে কোন সংস্রব আছে এটা আর তারা দেখাতে চাইছে না। কিছু পশ্চিমা সংস্থা এবং মার্কিন কংগ্রেসম্যান এখন দাবি করছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক। এখন সৌদি আরব দাঁড়িয়ে আছে এক মোড় বদলকারী মুহূর্তে। কি করতে পারে দেশটি? এখন কি সৌদি রাজপরিবারের সিনিয়র প্রিন্সরা মিলে এমবিএসের ক্ষমতা কিছু কমিয়ে দেবেন- যাতে এই বিক্ষুব্ধরা খুশি হয়? নাকি তাকে যুবরাজের পদ থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দিয়ে একটা নামমাত্র এবং অর্থহীন পদোন্নতি দেয়া হবে? নাকি তারা এই ঝড় কেটে যাবার জন্য অপেক্ষা করবেন?