চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কিয়েভের পথে ৪০ মাইল দীর্ঘ রুশ সেনাবহর

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ২, ২০২২ ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ অভিমুখে ৪০ মাইল দীর্ঘ একটি রুশ সেনাবহর এগিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে আমরা জিতবই। অন্যদিকে হামলা বন্ধের জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে রুশ বাহিনী। ৫ হাজার ৭১০ রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। চলমান সঙ্কট নিরসনে গত সোমবার বেলারুশে আলোচনায় বসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল। তবে কোনো সমাধান ছাড়াই তা শেষ হয়। তবে দুই পক্ষই দ্বিতীয় দফা বৈঠকে সম্মত । ইউক্রেনে ‘নো-ফ্লাই জোন’ তৈরির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি ও আলজাজিরা।


স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে বাংলাদেশ সময় সোমবার শেষ রাতের দিকে বিবিসি জানিয়েছিল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ অভিমুখে ১৭ মাইল দীর্ঘ একটি সেনাবহর এগিয়ে যাচ্ছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে নতুন আরেকটি ছবি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি জানায় বহরটি অন্তত ৪০ মাইল দীর্ঘ। ম্যাক্সার টেকনোলজির দেয়া স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, বহরটি কিয়েভের দিকে যাচ্ছে। এর আগে রোববার আরেকটি স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, রুশ সেনাবহরটি রাজধানী কিয়েভ থেকে ৪০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।


সেসময় ম্যাক্সার জানায়, সেনাবহরে অস্ত্র-সজ্জিত যান, ট্যাংক, গোলাবারুদ ও লজিস্টিক্যাল যান রয়েছে। প্রাইভেট এ মার্কিন কোম্পানিটি বলছে, ইউক্রেনের স্থানীয় সময় সোমবার বেলা ১১টা ১১ মিনিটে বহরটি আন্তোনোভ বিমানঘাঁটির কাছাকাছি টি-১০১০ হাইওয়েতে অবস্থান করছিল। রাজধানী থেকে আন্তোনোভের দূরত্ব কম করে হলেও ১৭ মাইল। বৃহস্পতিবার সেখানে তীব্র লড়াই হয়। ওই বিমানঘাঁটিতেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্গো উড়োজাহাজটি ছিল, যা রাশিয়ান হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে রাশিয়ান সৈন্যরা বিশেষ অভিযান শুরু করে। এরপর বিভিন্ন শহরে ইউক্রেনের সেনাদের সাথে রুশদের তীব্র লড়াই হয়। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনারা। চলমান সঙ্কট নিরসনে সোমবার বেলারুশে আলোচনায় বসে রাশিয়া-ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল। তবে কোনো সমাধান ছাড়াই তা শেষ হয়। দুই পক্ষই দ্বিতীয় দফা বৈঠকে সম্মত হয়েছে।


স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে জিতবই : জেলেনস্কি:
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে আমরা জিতবই। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জরুরি ভিত্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। এর ঘণ্টা কয়েক বাদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ চেয়ে আবেদনে স্বাক্ষরও করেন তিনি। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটাসোলা জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনে রুশ হামলার বিরুদ্ধে নিন্দাপ্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক বসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে। সেই বিতর্কেই অংশ নেন জেলেনস্কি। জেলেনস্কি বলেন, ‘অবরুদ্ধ হয়ে পড়েই ইউক্রেনের মানুষ তাদের স্বাধীনতা এবং জমি রক্ষার লড়াই চালাচ্ছেন। আমরা জয়ী হবোই।’ ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় রুশ হামলা প্রতিরোধে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে জেলেনস্কি বলেন, ‘প্রমাণ করুন সঙ্কটের ওই মুহূর্তে আপনারা ইউক্রেনের পাশে রয়েছেন।’


হামলা বন্ধে পুতিনের ৩ শর্ত:
ইউক্রেনে রুশ সামরিক বাহিনীর ব্যাপক হামলায় এই কয়েক দিনেই পূর্ব ইউরোপের ছবির মতো সুন্দর এই দেশটির অনেক এলাকাই পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। আবার হামলা শুরুর পর ইউক্রেন ও রুশ প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকেও মেলেনি সমাধান। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে হামলা বন্ধের জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে সোমবার ফোনালাপের পর রুশ প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। বিবৃতিতে ক্রেমলিন জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে রাশিয়ার ‘বৈধ’ উদ্বেগ বিবেচনায় নিলেই ইউক্রেন সঙ্কটের সমাধান সম্ভব। অন্য দিকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন করে ইউক্রেনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে অনুরোধ করেছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। একইসাথে ইউক্রেনে সবরকম হামলা, বিশেষ করে বেসামরিক লোকজন, সড়ক এবং অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি।


ইউক্রেনের ৭০ সেনা নিহত:
রাশিয়ার সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের মধ্যে কামানের গোলা দিয়ে চালানো হামলায় ইউক্রেনের ৭০ সেনা নিহত হয়। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ওখতিরকা শহরে গত রোববার ভয়াবহ ওই হামলা চালায় রুশ সামরিক বাহিনী। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। ইউক্রেনের সামি অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান দিমিত্র ঝিভিতস্কি জানিয়েছেন, গত রোববার রুশ বাহিনীর চালানো ওই হামলায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর একটি ইউনিট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার পর থেকেই স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন। সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম টেলিগ্রামে তিনি জানিয়েছেন, ‘হামলায় বহু মানুষ মারা গেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন মৃত ইউক্রেনীয় সেনার জন্য কবরস্থানে স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে।’ এ ছাড়া এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় রুশ বাহিনীকেও পাল্টা জবাব দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দিমিত্র ঝিভিতস্কি। তার দাবি, ‘শত্রুদের যা পাওনা, সেটা তারা পেয়েছে। শহরে বহু সংখ্যক রুশ সেনার লাশ আছে। আমরা এখন সেগুলো রেডক্রসের হাতে তুলে দিচ্ছি।’ অবশ্য দিমিত্র ঝিভিতস্কির এই দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।


খারকিভে হামলা রুশ বাহিনীর:
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে রুশ বাহিনী। গতকাল শহরটির কেন্দ্রস্থল ফ্রিডম স্কয়ার ও বেশ কিছু সরকারি দফতর তছনছ হয়ে গেছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা এক টুইটে এ তথ্য জানিয়েছেন। খারকিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি ভিডিওচিত্র গতকাল টুইট করে তিনি বলেন, ‘বর্বর রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খারকিভের কেন্দ্রস্থল ফ্রিডম স্কয়্যাার ও সরকারি দফতরগুলোতে আঘাত হানছে।’ আয়তন, লোকসংখ্যা ও গুরুত্বের বিচারে ইউক্রেনে খারকিভের অবস্থান রাজধানী কিয়েভের পরেই। সাবেক সোভিয়েত আমলে ইউক্রেনের রাজধানী ছিল খারকিভ। প্রায় ১৬ লাখ মানুষ অধ্যুষিত এই শহরটি সদ্য স্বাধীন দেশ হিসেবে রুশ স্বীকৃতি পাওয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দোনেতস্ক ও লুহানস্কের সীমান্তের কাছেই অবস্থিত।


পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ার চেষ্টা করছে ইউক্রেন:
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক শক্তিধর হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। গতকাল জেনেভায় অনুষ্ঠিত নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক সম্মেলনে যুক্ত হয়ে এমন অভিযোগ করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে। এটি একটি ‘সত্যিকারের বিপদ’, যার জন্য রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন রয়েছে। সম্মেলনে দেয়া ভিডিও ভাষণে সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ‘কিয়েভ কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পরিকল্পনা নিয়ে বিপজ্জনক খেলা শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে জেলেনস্কির শাসন প্রতিবেশী দেশ এবং সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিপদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।’ তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের কাছে এখনো সোভিয়েত পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং এই ধরনের অস্ত্র সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। আমরা এই প্রকৃত বিপদে প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে পারি না।’ ওয়াশিংটনকে ইউরোপ থেকে তার পারমাণবিক অস্ত্র সরিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


৫ হাজার ৭১০ রুশ সেনা নিহতের দাবি:
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৭১০ রুশ সেনা নিহত হয়েছে। গতকাল হামলার ষষ্ঠ দিনে এমন দাবি করেছে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী। এ খবর জানিয়েছে স্কাই নিউজ। সেনাদের প্রাণহানি ছাড়াও একই সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে ১৯৮টি রাশিয়ান ট্যাংক, ২৯টি এয়ারক্রাফট, ৮৪৬ সাঁজোয়া যান এবং ২৯টি হেলিকপ্টার হারিয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তরফে নিরপেক্ষভাবে ইউক্রেনের এমন দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে রোববার রাশিয়ার পক্ষ থেকেও তাদের ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করা হয়েছে। এর আগে দেশটি দাবি করে আসছিল, সংঘর্ষে কোনো রাশিয়ান সেনা নিহত হয়নি। এ দিকে ক্রেমলিন দাবি করেছে, রাশিয়া ইউক্রেন দখলের পর ইউক্রেনীয়রা ‘স্বাধীনভাবে’ ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারবে। তবে তার আগে দেশটির ক্ষমতা থেকে বর্তমান ‘নাৎসি’ নেতাদের অপসারণ করা হবে।


বেলারুশের আরো সেনা মোতায়েন:
ইউক্রেন সীমান্তে আরো সেনা মোতায়েন করছে বেলারুশ। গতকাল বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বেল্টা এ খবর জানিয়েছে। লুকাশেঙ্কো বলেন, এই সেনারা খুব ভালো প্রশিক্ষিত দ্রুত মোতায়েন দলের সদস্য। বেলারুশের বিরুদ্ধে যেকোনো উসকানি এবং সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে এই দলটি প্রস্তুত। প্রতিবেশী ইউক্রেনে রুশ হামলায় সমর্থন জানাচ্ছে বেলারুশ। কিয়েভ অভিযোগ করে আসছে, রুশ সেনারা বেলারুশের ভূমি ব্যবহার করে ইউক্রেনে হামলা চালাচ্ছে। তবে গতকাল কিয়েভের এই অভিযোগ অস্বীকার করেন লুকাশেঙ্কো। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে রুশ অভিযানে যোগ দেয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
‘নো-ফ্লাই জোন’ তৈরির আবেদন প্রত্যাখ্যান:


ইউক্রেনে রুশ প্লেনের জন্য ‘নো ফ্লাই জোন’ তৈরি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আহ্বান জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও নো-ফ্লাই জোন তৈরির প্রস্তাবে সাড়া দেবে না ওয়াশিংটন। তাদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সঙ্ঘাত শুরু হয়ে যেতে পারে। সোমবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে রুশ বাহিনী বোমা হামলা শুরু করলে নো-ফ্লাই জোন তৈরির আহ্বান জানান জেলেনস্কি। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর গত কয়েক দিনে রাশিয়া ইউক্রেনে ৫৬টি রকেট হামলা এবং ১১৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সোমবার হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জেন পিসাকি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট খুব স্পষ্ট করে বলেছেন তিনি রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ করতে কোনো সেনা পাঠাবেন না।’


ইউরোপে প্রস্তুত কয়েক হাজার মার্কিন সেনা:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, ইউরোপে নির্দেশ পাওয়া মাত্র মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা। তারা ন্যাটোর রেসপন্স ফোর্সে যোগ দিতে পারবে। বহুজাতিক এই বাহিনীকে যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুত মোতায়েন করতে পারে ন্যাটো। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক এ খবর জানিয়েছে। ইউক্রেনে রুশ হামলা ন্যাটোর রেসপন্স ফোর্সকে (এনআরএফ) প্রথমবারের মতো সক্রিয় করা হয়েছে। ন্যাটো জোটের সদস্যদের সহযোগিতার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়। রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ১২ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জন কিরবি জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বহুমুখী মিশন ইউনিটের অনেক সদস্যকে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রেখেছে। এর ফলে এনআরএফ-এ ধারণার চেয়ে কম সময়ে আমাদের সেনারা যোগ দিতে পারবে। তিনি আরো বলেন, এনআরএফকে সহযোগিতার জন্য ন্যাটো আহ্বান জানালে আমরা প্রস্তুত। তবে এনআরএফে কতজন মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে তা জানানো হয়নি। ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার সৈন্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে, ১২ হাজার সেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মানি, ইতালি ও গ্রিসে ২ হাজার সেনা অবস্থান করছে। মিলিটারি টাইমস এসব তথ্য জানায়।


৩৬ দেশের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করল রাশিয়া:
ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোসহ ৩৬ দেশের জন্য আকাশসীমা নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া। তবে ত্রাণসামগ্রীবাহী বিমান ও কূটনৈতিক মিশনের বিমানগুলোর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। পশ্চিমের দেশগুলো রুশ বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা জারির পরই এই সিদ্ধান্ত নিলো রাশিয়া। ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পরদিনই ব্রিটেন নিজেদের আকাশসীমায় রুশ বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তারপর একে একে যুক্তরাজ্যকে অনুসরণ করে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও পর্তুগালের মতো ইউরোপের অনেক দেশ।


রাশিয়ার শীর্ষ ক্ষমতাধরদের নিষেধাজ্ঞা ইইউর:
ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার শীর্ষ কতক ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সোমবার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ২৬টি নামের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এ তালিকার মধ্যে রয়েছেন, ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ, মস্কোর শেরেমেতিয়েভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চেয়ারম্যান আলেকজান্ডার পোনোমারেঙ্কো, রাষ্ট্রীয় মালিকানাভুক্ত তেল কোম্পানি রোসনেফটের সিইও আইগর শেশ্চিন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের পাইপলাইন কোম্পানি ট্রান্সনেফটের সিইও নিকোলাই তোকারেভ। এ ছাড়াও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি টিভি চ্যানেলের কয়েকজন উপস্থাপক নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার একটি গ্যাস ইনস্যুরেন্স কোম্পানিও এ তালিকায় রয়েছে।
রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান ন্যাটোর:
আলজাজিরা জানায়, মস্কোকে ইউক্রেনে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট ন্যাটোর প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ। একই সাথে সব রুশ সেনা ফিরিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি। রাশিয়ার হামলা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডুদার সাথে বৈঠকের পর ন্যাটো প্রধান রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অংশ হতে চায় না ন্যাটো। তিনি আরো বলেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, তারা রাশিয়ার সাথে সঙ্ঘাত চান না।
ন্যাটো প্রধান বলেন, রাশিয়ার অবশ্যই দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করা দরকার। ইউক্রেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করার পাশাপাশি রাশিয়াকে কূটনৈতিক সমাধানে যুক্ত হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকাতে ইউক্রেনে সেনা পাঠাবে না ন্যাটো, আগেই তা পরিষ্কার জানিয়ে দেন জেনস স্টলটেনবার্গ। ন্যাটো প্রধান বলেন, ইউক্রেনের ভেতরে কোনো ন্যাটো সেনা নেই। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, ইউক্রেনে ন্যাটো সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনাই আমাদের নেই। ইউক্রেন পশ্চিমা প্রতিরক্ষা জোটের অংশীদার হলেও ন্যাটোর সদস্য নয়। তবে তারা দীর্ঘ দিন থেকে পশ্চিমা এই সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। ন্যাটোর পক্ষ থেকেও ইউক্রেনকে বহুবার আশ্বস্ত করা হয়েছে। অন্য দিকে সাবেক সোভিয়েত দেশটির ন্যাটো সদস্য হওয়াকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছে রাশিয়া। আর তা ঠেকাতেই মূলত কিয়েভ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে মস্কো।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ জব্দ করছে জাপান:
ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও সম্পদ জব্দের কৌশল নিয়েছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে জাপানও। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যদের মতো মস্কোর ওপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে টোকিও। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার নেতাদের ও তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করবে দেশটি। আলজাজিরার এক রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়। জানা গেছে, এবার জাপান রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রমসভিয়াজব্যাংক ও ভেনেশেকোনমব্যাংকের সম্পদ জব্দ করবে। এর আগে বিশ্বের প্রধান আর্থিক লেনদেন পরিষেবা সুইফট থেকে রাশিয়াকে বাদ দিতে সম্মত হয় জার্মানি ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এ ছাড়া ধনী রাশিয়ানদের গোল্ডেন পাসপোর্টও সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে তৃতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া চলছে। ইউক্রেন আক্রমণ ও তার জেরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা টের পেতে শুরু করেছে রাশিয়া। বৈশ্বিক ব্যাংকিং পেমেন্ট সিস্টেম সুইফট থেকে বাদ পড়ার পরপরই দেশটির মুদ্রা রুবলের রেকর্ড দরপতন হয়েছে। আর সেই ধাক্কা সামলাতে সুদের হার দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তন হবে না:
তবে পাশ্চাত্যের নিষেধাজ্ঞা ইউক্রেন বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থানে কখনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান অনলাইনে দেওয়া লাইভ আপডেটে এই তথ্য জানানো হয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যদিও মস্কোর সাথে কিয়েভের সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে কিন্তু দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই। এ ছাড়া বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে রাশিয়া হামলা চালাচ্ছে এমন দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।