কালীগঞ্জে ১০৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধ!

177

ঝিনাইদহ অফিস:
সদ্য জাতীয়করণ হওয়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বৈধ অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এক আদেশে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজিদ ম-লের স্বাক্ষরে বেতন না দিতে রূপালী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপককে চিঠি দেন। ফলে গত মাস থেকে কলেজের ১০৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী বেতন তুলতে পারছেন না। গতকাল বুধবার দুপুরে মুঠোফোনে এ খবর নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রানী সাহা। এদিকে, বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা ফুঁসে উঠেছেন। কয়েকদিন ধরেই তাঁরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজিদ ম-লের কক্ষে হৈ চৈ করছেন। ফলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজিদ ম-ল এখন জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের এড়িয়ে চলছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহাকারী পরিচালক আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত (কলেজ-৩) চিঠি সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের রিট পিটিশন ১০৩২/১৬ রায় মোতাবেক কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের সাময়িক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমানের বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু অধিদপ্তরের সেই আদেশ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজিদ ম-ল প্রতিপালন না করে টালবাহানা করেন। এ কারণে মজিদ ম-লের স্বাক্ষরে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর কোনো বেতন না দিতে রূপালী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপককে চিঠি দেন। শাখা ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, গত মাসে সরকারি মাহতাব উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের কোনো বেতন শিট আসেনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রানী সাহা জানান, ‘বেতন বন্ধ হয়নি। অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির কাছে একটি আবেদন করেছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ডিজি অফিস থেকে বলেছে মজিদ ম-লের স্বাক্ষরে যেন বেতন না দেওয়া হয়। সে কারণে চেকে স্বাক্ষর করেও কাজ হচ্ছে না। এ জন্য আমরা স্বাক্ষরও করছি না। ডিজির চিঠির বাইরে ব্যাংক ম্যানেজারও কাজ করতে পারছে না। এখন সব কিছুই বন্ধ আছে।’
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ১০৭ শিক্ষক কর্মচারীর বেতন সাময়িক বন্ধের পর সদ্য জাতীয়করণকৃত এ কলেজটি নানাবিধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। খুব শিগগিরই দুদক থেকে আর্থিক দুর্নীতিসহ জাল পত্রিকা তৈরি করে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে ১৫ জনের চাকরি প্রদানের বিষয়টি তদন্তে নামছে। আব্দুল মজিদ ম-লকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে, এমন আভাস দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র। বিষয়টি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ ম-লের কাছে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন দিয়েও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।