চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণ, ৮০ হাজার টাকায় রফা!

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ২, ২০২১ ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহ অফিস:
মায়ের জন্য পান আনতে গিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারটি হতদরিদ্র হওয়ায় ডাক্তার ও থানা পুলিশের পরিবর্তে স্থানীয় চেয়ারম্যানের দারস্ত হন বিচারের আশায়। কিন্তু চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মণ্টু শিশুটির যৌনাঙ্গে হাত দিয়ে অভিনব পরীক্ষা করে বলেন তেমন কোনো আলামত নেই। এদিকে অভিযোগ ওঠায় অভিযুক্ত সেলিমকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর রাখালগাছি ইউনিয়নের সুবিতপুর গ্রামে। ইতোমধ্যে এই ধর্ষণ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত সেলিম হোসেন। সেলিম ওই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভিকটিমের মা গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ‘গত শুক্রবার (২৮ মে) পান আনার জন্য আমার শিশুকন্যাকে পাশের বাড়ির সেলিম চাচার বাড়িতে পাঠাই। মেয়ের আসতে দেরি দেখে আমি এগিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরতে দেখে তাকে জিজ্ঞাসা করি। দেখি তার পায়জামাটি রক্তে ভেজা।’ ভিকটিমের মা আরও জানান, ‘পাড়া প্রতিবেশীর কথা মতো পরে আমি বিষয়টি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মণ্টুর কাছে বলি। তিনি আমার বাড়িতে এসে শিশুকন্যাটিকে ঘরের মধ্যে নিয়ে যৌনাঙ্গে হাত দিয়ে বলেন, কোনো আলামত নেই। পরে ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে এক সালিশে প্রথমে অভিযুক্ত সেলিমকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু তিনি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে শেষমেষ ৮০ হাজার টাকায় রফা হয়।’
অভিযুক্ত মোহাম্মদ সেলিম হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, সালিশে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মণ্টুর কাছে ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। বাকি ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য সময় নিয়েছি। ধর্ষণ না করেও কেন জরিমানা দিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম জানান, এ নিয়ে থানা পুলিশ করার কথা ওঠে। তাছাড়া চেয়ারম্যানের কথা আমি ফেলতে পারিনি, তাই টাকা দিয়েছি।
সুবিতপুর গ্রামের মেম্বার আবুল হাসেম জানান, ‘ঘটনাটি গ্রামের মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পাড়ার কারণে মঙ্গলবার সকালে আমি শুনেছি যে একটি শিশু ধর্ষিত হয়েছে। কিন্তু পরিবারটি অসহায় হতদরিদ্র হওয়ায় থানা পুলিশের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে।’
বিষয়টি নিয়ে রাখালগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মণ্টু গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জানান, ‘কী হয়েছে, তা একমাত্র আল্লাহ পাকই জানেন। তবে আমি এমন অভিযোগ পেয়ে সুবিতপুর গ্রামে গিয়েছিলাম। শিশুটির মা যখন বলছিল রক্ত আসছে, তখন আমি বলেছিলাম কই রক্ত তো আসছে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি ধর্ষকের কাছ থেকে কোনো টাকা গ্রহণ করিনি। তবে ভিকটিমের পরিবার যদি আইনগত সহায়তা চায়, তবে আমি দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’ চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভিকটিমের পরিবার ডাক্তারি পরীক্ষা বা থানায় যেতে রাজি নয়।’
বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, এমন কোনো অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। তবে ভিকটিমের পরিবার যদি মামলা করতে ভয় পায়, তবে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। তাও অপরাধীকে কোনো ছাড় দেবে না পুলিশ। ওসি ভিকটিম ও অভিযুক্তের নাম ঠিকানা সাংবাদিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।