চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কালীগঞ্জে ফিলিপাইন জাতের গ্যান্ডারি আখ

সমীকরণ প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক আগে থেকেই ফিলিপাইন জাতের গ্যান্ডারি আখ চাষ হয়ে আসছে। কিন্তু ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে চলতি বছরের প্রথম চাষ হয়েছে। উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন অপু তাঁর ৬ বিঘা জমিতে চাষ করে সকলের নজর কেড়েছেন। তাঁর দাবি, এখানকার মাটি বিদেশি এ জাতের আখ চাষের শতভাগ উপযোগী। সারা দেশের বাজারে চাহিদা, ফলন, দাম সবই বেশি। তাই অধিক লাভজনক।
সরেজমিনে তাঁর রায়গ্রামের মাঠের গ্যান্ডারি খেতে গেলে দেখা যায়, খয়েরি রংয়ের কমপক্ষে ১২-১৪ ফিট লম্বা মোটা মোটা আখগুলো সারিবদ্ধভাবে সোজা দাঁড়িয়ে আছে। নুইয়ে পড়া ঠেকাতে প্রত্যেক সারির মাঝে মাঝে বাঁশের শক্ত খুঁটিতে মোটা জিআই তারে বাধা। প্রতিটি লাইনের মাঝখান দিয়ে ভালোভাবে চলাফেরা করা যাচ্ছে। খেতের এক পাশ থেকে বেশ সাজানো গোছানো দেখা যাচ্ছে।
সফল কৃষক আলী হোসেন অপু জানান, ‘ফিলিপাইনের এ জাতের আখ আমাদের দেশের বিভিন্ন জেলায় আগে থেকে চাষ হয়ে আসছে। কিন্তু এ এলাকার কোনো কৃষকই লাভজনক এ গ্যান্ডারি আখের চাষ বুঝতেন না। কেউ কোনো দিন চাষও করেননি। তিনিই ২০১৯ সালে চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার তিন্নাতপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার খেত থেকে প্রতিপিচ চারা ১ শ টাকা দরে ২০ হাজার টাকা দিয়ে শত চারা কিনে আনেন। পরের বছর ২০২০ সালে চারাগুলো বৃদ্ধি করতে মাত্র ৩ শতকের বীজতলায় স্বল্প পরিসরে চাষ করেন। সে বছর একটি আখ থেকে ২০-২৫টি চারা পান। এখান থেকে আরও কিছু চারা বাড়িয়ে নেন। যা চলতি বছরের প্রথম দিকে ২ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন। ৩৩ শতকের এক বিঘা জমিতে প্রায় ২৫’শ থেকে ২৮’শ চারা লাগে। সে হিসেবে নিজের ৬ বিঘার চারা রেখে বাকি চারা প্রতিপিচ ৫০ টাকা দরে বেশ কিছু চারা বিক্রিও করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এ জাতের আখ কড়া মিষ্টি। প্রতিটি আখ ১৮ থেকে ২০ ফুট লম্বা হয়। প্রথম দিকে ছাড়া তেমন একটা খরচ নেই। কিন্তু অন্য ফসলের চেয়ে এটি অনেকটা সৌখিন ও লাভজনক চাষ। এলাকাতে অনেক কৃষক আগামীতে চাষ করবেন বলে চারা অর্ডার দিয়ে রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে অবস্থিত মোবারকগঞ্জ চিনিকল। ফলে তাদের পূর্বপুরুষেরা মাঠে চিনিকলের আওতায় বিভিন্ন জাতের আখের চাষ করে আসছেন। যে আখের সুনামও রয়েছে। কিন্তু মুখে খাওয়া আখের তাঁরা চাষ বুঝতেন না। অথচ এ এলাকার সকল বাজারে অন্য জেলা থেকে মুখে খাওয়া গ্যান্ডারি আখ এনে চড়া দামে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রথমে তিনি ইউটিউব থেকে এই আখের জাত সম্পর্কে জেনে চাষে উৎসাহিত হন। শিয়াল এ আখের প্রধান শত্রু। এছাড়াও গবাদি পশুতো আছেই। এগুলোর হাত থেকে রক্ষা করতে প্রথমেই খেতের চারপাশে মজবুত করে ঘিরতে বেশ পয়সা ব্যয় হয়।
এছাড়াও সার, সেচ, জিআই তারসহ যাবতীয় খরচ বাবদ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। পরে আর তেমন একটা খরচ নেই বললেই চলে। অথচ প্রতিবিঘা হতে প্রায় আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকার আখ পাওয়া সম্ভব। আগামী দুই থেকে আড়াই মাস পর এই আখ বিক্রির উপযোগী হবে। প্রতি পিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করতে পারবেন। আগামী বছর তিনি কমপক্ষে ৫ একর জমিতে এ আখ চাষ করবেন বলে জানান তিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মোহাম্মদ মেহায়মেন আক্তার বলেন, তিনিও রায়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন অপুর গ্যান্ডারি দেখেছেন। আখ চাষ সম্পর্কে চিনিকলের কৃষি বিভাগ ভালো বলতে পারবেন। তবে মুখে খাওয়া আখ হওয়ায় আমরাও বেশ পরামর্শ দিয়েছি। এটা খুব লাভজনক।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।