চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৬ ডিসেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কালীগঞ্জের মাঠে মাঠে হলুদের ছোয়া

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৬, ২০২০ ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রিয়াজ মোল্যা, কালীগঞ্জ:
কৃষকের বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে গেছে। যার সুগন্ধে প্রাণ জুড়ায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফসলি জমিতে হলুদ ফুলে ছেয়ে যাওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে ঝিনাদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় সরিষার ফলন গত বছরের চেয়ে দ্বিগুন পাওয়ার স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা। কম সময়ে ও স্বল্প পুঁজি ব্যয়ে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকেরা সরিষা চাষে ঝুঁকছেন। মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণ করায় ফলন বাড়ার পাশাপাশি সরিষা চাষিদের হচ্ছে বাড়তি আয়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে দেখা যায়, বিঘার পর বিঘা জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এখন মাঠে হলুদ রঙের সরিষা খেতে হলুদের হাতছানি। ফুটন্ত ফুল হতে মধু সংগ্রহে পরিশ্রম করে যাচ্ছে মৌমাছি। গুন গুন শব্দে হলুদ সরিষা খেতে মৌমাছির আনাগোনা এবং মধু আহরণের দৃশ্য বড়ই চমৎকার।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি অফিস কর্তৃক ৬ শ জন কৃষকের কাছে সরিষার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রদর্শনী প্লট আছে ৩৫ জন কৃষকদের। যা সরকারি প্রণোদনা হিসেবে কৃষকদের বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছিল। আর বিঘা প্রতি ৬-৭ মণ সরিষা পাবেন কৃষকেরা।
কালীগঞ্জ উপজেলার দুলালমুন্দিয়া গ্রামের সরিষা চাষি আবুল হোসেন জানান, আমন ধান ঘরে তোলার পর বেশ কিছু সময় জামি ফাঁকা পড়ে থাকে। তাই স্বল্প সময়ে বাড়তি আয়ের চিন্তা করে প্রতিবছর ৩-৪ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে থাকেন। বারোপাখিয়া গ্রামের কৃষক অশরাফ হোসেন জানান, গত বছর বিঘাখানেক জমিতে সরিষা চাষ করে বেশ লাভবান হন। কম খরচে লাভ বেশি, সে কারণে এই মৌসুমে আড়ায় বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন এবং হলুদ সরিষা ফুলের শোভিত প্রকৃতিতে কৃষকের প্রাণ জুড়িয়ে যায়।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদুল ইসলাম জানান, বারি সরিষা-১৪ ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আমন ধান ঘরে তোলার পরেই কৃষকেরা ওই জমিতে সরিষা চাষ করে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার মাঠে সরিষা দানা বাধতে শুরু করেছে। এই ফসল ঘরে তোলার পর আবার ওই জমিতেই কৃষক বোরো আবাদের খরচের জোগান দেয়। সরিষা আবাদের কারণে চাষ, সার ও কীটনাশক ওষুধ বেশি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে অল্প খরচ ও কম পরিশ্রমেই সরিষার জমিতে বোরো আবাদে লাভবান হয় কৃষক।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিকদার মো. মোহায়মেন আক্তার জানান, উপজেলার প্রতিটি এলাকা সরিষা চাষের জন্য উপযোগী। কম খরচে লাভ বেশি, সে কারণে কৃষকরা সরিষা চাষে বেশ ঝুঁকে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলার ১ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। অল্প সময়, স্বল্প ব্যয় আর লাভ বেশি সে কারণে উপজেলার সব ধরনের কৃষকের কাছে সরিষার চাষ বেশ জনপ্রিয়। এজন্য কৃষি বিভাগ সরিষা চাষিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে আসছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।