চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৫ জানুয়ারি ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কালীগঞ্জের নলভাঙ্গা গ্রামে মেয়েকে উত্যোক্তের ঘটনা যেকোন সময় আদালতে দাখিল করা হবে চার্জশিট

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ৫, ২০১৭ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Sahanur-Pictureঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নলভাঙ্গা গ্রামে মেয়েকে উত্যোক্তের ঘটনায় বাবা শাহানুর বিশ্বাসের দুই পা কাটার বিষয়ে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষ করেছে পুলিশ। যে কোন সময় আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হবে। পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে গত ২২ নভেম্বর হাই কোর্ট দ্বৈত বেঞ্চ স্বতঃ প্রণোদিত হয়ে একটি রুল জারি করেন। ৭২ ঘন্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করার জন্য নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। একই সাথে গত ২৭ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দিতেও ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার ও কালীগঞ্জ থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আদেশ জারি করা হয়।  এরপর বিষয়টি সারাদেশে আলোচনার শীর্ষে উঠে আসে। ২৩ নভেম্বর মামলার ১৬ আসামীর মধ্যে প্রধান আসামী যুবলীগ নেতা কামাল মেম্বরসহ ১৩জন ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৩য় আদালতে আত্মসর্মপণ করেন। এর আগে ৩জন পুলিশের হাতে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। আত্মসর্মপণকারী সকলেই আজো জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার তদন্তের বিষয়ে তদন্তকারী কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই মো: নজরুল ইসলাম বলেন, থানায় দায়ের করা পৃথক দুইটি মামলার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের মেডিকেল সার্টিফিকেট পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হবে। তদন্তকালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারামারির ঘটনাটি প্রমানিত হয়েছে এবং দন্ডবিধি ৩২৬ ধারাসহ অন্যান্য ধারায় আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশীটে  অভিযোগ আনা হচ্ছে পা হারানো শাহানুরের মেয়ে শারমিনকে উত্যোক্ত করার বিষয়টি তদন্তকালে প্রমানিত হয়নি বলে দাবী করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেছেন, আদালত একটি ও থানাতে দায়ের ২টি মামলাতেও বাদিরগণ শারমিনকে উত্যোক্ত করার অভিযোগ করেননি। শারমিনও তদন্ত কারীর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করেননি বলে জানান এসআই মো: নজরুল ইসলাম। তদন্তকারী কর্মকর্তা সুত্রে জানা গেছে, ২/৩ বছর আগে থেকেই ঢাকাতে এক খালার বাসায় বসবাস করেছেন শারমিন। গত ১৬ অক্টোবর সকালে গ্রামের বর্তমান মেম্বর স্থানীয় যুবলীগ নেতা কালামের অনুসারিরা সুযোগ পেয়ে প্রতিপক্ষ সাবেক মেম্বর মসিউরের সর্মথক শাহানুর আলম ও তার ছেলে শাহিনের ওপর হামলা চালায়। তাকে এমনভাবে রড দিয়ে পোটানো হয় যে শাহানুরের দুই পা কেটে ফেরতে হয়। ঘটনাটি ঘটে একই দিন পৃথক সময় ও স্থানে। প্রথমে তাকে যশোর মেডিকেল ও পরে ঢাকাতে নেয়া হয়। এ ঘটনার ২২ দিন পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার দুই পা কেটে ফেলেন চিকিৎসকরা। শারমিনের অবশ্য বলেছেন গ্রাম্য বখাটেরা উত্যোক্ত করার কারনে গ্রাম ছাড়তে হয়েছে তাকে। পুলিশের তদন্তে শারমিনের একাধিক বিয়ের তথ্য বেরিয়ে আসে। প্রথম স্বামী যশোরের নাটুয়া পাড়ার মো: তরিকুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌতুকের মামলার মিটমাট হওয়ার পরে দ্বিতীয় বিয়ে হয় ঝিনাইদহের মহেশপুরের কানাইডাঙ্গা গ্রামে। স্বামী বিল্লাল হোসেন থাকেন মালোয়েশিয়াতে। টেলিফোনে তাদের বিয়ে হয়। নলভাঙ্গা গ্রামে শাহানুর বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ নজরদারী করছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলামের দেয়া তথ্য মতে ১৯৯৯ সালে শাহানুর অস্ত্রসহ যশোরে আত্মসর্মপণ করেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ অন্তত ৬টি মামলা ছিল।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।