চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২২ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড চুয়াডাঙ্গা; বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

পাঁচ ঘন্টার পর সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ২২, ২০২২ ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে আলমডাঙ্গাতে ছুটে গেলেন ডিসি আমিনুল ইসলাম খান

 

নাহিদ হাসান, আলমডাঙ্গা: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চুয়াডাঙ্গাসহ আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়েকটি অঞ্চল। এছাড়া দীর্ঘ পাঁচঘণ্টা পর সড়ক পথে কুষ্টিয়া টু আলমডাঙ্গা ও রেলপথে খুলনার সাথে ঢাকা ও রাজশাহীর যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোড়ে ভয়াবহ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয় আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম। আলমডাঙ্গার কৃষকরা যখন অশনির প্রভাবে হওয়া বৃষ্টিপাতের ফলে নষ্ট হওয়া ধান কোনোমতে গোছাতে ব্যস্ত ঠিক তখনই ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে আবারো আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়। কিছু সময়ের আঘাতেই লণ্ডভণ্ড কালিদাসপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর, জগন্নাথপুর, ডম্বলপুর, গ্রামসহ উপজেলার খাদিমপুর, কুমারী ও হারদী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। ঝড়ে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে কয়েকশ বাড়িঘরের চালা উড়ে যায়। বিদ্যুতের খুঁটিসহ উঠতি ফসল, ধান, পানবরজের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

এসময় আলমডাঙ্গা-হালসার মাঝামাঝি স্থানে রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে ট্রেনের সিগনাল অচল হয়ে পড়ে। এতে ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আলমডাঙ্গা স্টেশনের অদূরে নকশীকাথা মেইল ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনকে যাত্রা থামিয়ে দীর্ঘ সময় পার করতে হয়। পাঁচ ঘণ্টা পর বেলা পৌনে এগারোটার দিকে লাইনের উপর ভেঙ্গে পড়া গাছ অপসারণের পর খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মুখে দেখা যায় স্বস্তির ছাপ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণকে আলমডাঙ্গার স্টেশন মাস্টার নাজমুল হুসাইন বলেন, ‘শনিবার ভোরে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে আলমডাঙ্গা-হালসার মাঝামাঝি জায়গায় রেললাইনের ওপর বেশ কিছু গাছ ভেঙে পড়ে। এতে সারা দেশের সঙ্গে খুলনার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে গাছগুলো অপসারণ করা হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

অপরদিকে, কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা সড়কের দুই ধারের গাছ কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে ভেঙে পড়ায় সড়ক পথে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। পরে আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা করে সড়কের গাছ অপসরণ করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঘর হারিয়ে কালিদাসপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের খাল পাড়ার আজাদ হোসেন বলেন, ‘আমার বসতবাড়ি বলতে একটি মাত্র আধাপাকা ঘর ছিল। কিন্তু তাও আবার এই কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেল। এখন আমি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় থাকব? গাছতলা ছাড়া যে আমার আর কোনো থাকার জায়গা রইলো না।’

শ্রীরামপুর খালপাড়ার নিকবার হোসেন বলেন, ‘আমি অসুস্থ মানুষ আমার উপার্জনের একটি মাত্র অবলম্বন আমার এই ছোট্ট চায়ের দোকান। আমি সকালে দোকান খুলতে এসে শ শ শব্দ শুনতে পাই। হঠাৎ এক দমকা বাতাসে আমার দোকানের চাল উড়ে যায় ও দোকানের পাশে থাকা বড় বটগাছটি আমার দোকানের উপর পড়ে মুহূর্তেই দোকান মাটির সাথে মিশে যায়। এখন আমি কিভাবে আমার সংসার চালাবো?

একই ইউনিয়নের রেল জগন্নাথপুরের জাহিদুল আলী বলেন, ‘আমার পাশের বাড়ির টিনের চাল উড়ে এসে পড়ে আমার রান্না ঘরে লাগানো থাকা বিদ্যুতের মিটারের ওপর পড়ে। এসময় বিকট শব্দে মিটার উপরে ছিটকে পড়ে পাশের পানিভর্তি ধানক্ষেতে। এসময় আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমরা রক্ষা পাই।’

এরশাদপুর গ্রামের প্রান্তিক চাষী খলিল হোসেন বলেন, ‘বাপুরে এবার এই বোরো ধান আমার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, একেতো আমি অসুস্থ মানুষ কোন কাজ করতে পারি না। তার উপর শ্রমিকের যে দাম, এবার ধান ফোলার পর থেকেই মাঝে মাঝে বৃষ্টি ও বাতাসের ফলে ধান জমিতে পড়ে চারা বের হয়ে গেছে, যদিও বা অনেক ধারদেনা করে জমির ধান কেটেছি তারপর আবার এই বৃষ্টিতে ধান ভিজে গেল এ ধানে আর চাল হবে না। এ বছর মনে হয় আধাবেলা খেয়েই দিন পার করতে হবে আমার ও আমার পরিবারকে।’

অন্যদিকে, কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে কালিদাসপুর ইউনিয়নে হাজির হয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। এসময় তাঁর সাথে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রনি আলম নুর ও কালিদাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল হক মিকাসহ বিভিন্নপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ডিসি আমিনুল ইসলাম খান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাথে কথা বলেন ও তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা আলমডাঙ্গা উপজেলার ইউনিয়নের উপর কালবৈশাখীর তাণ্ডবের খবর পেয়ে সরোজমিনে দেখতে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাশ শুরু হয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে যেন সঠিকভাবে সরকারি সহায়তা সঠিক ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে তুলে দেওয়া যায়।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।