চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৩০ আগস্ট ২০১৭

কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৩০, ২০১৭ ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বিকল্প শিশুখাদ্য বিপণন নিয়ে বিধি প্রণয়ন

শিশুদের মায়ের দুধের বিকল্প ও বাড়তি খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন করা হয় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। এ-সংক্রান্ত বিধিমালা জারি করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সময় লাগল তিন বছর ১০ মাস। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে বিধিমালা জারি করতে এত সময় কেন লাগল, তা বোধগম্য নয়। আইন প্রণয়ন করার পর যত দ্রুত সম্ভব বিধিমালাটি জারি করা উচিত ছিল। বিধিমালা না থাকায় আইনটি এতদিন পরিপালন হচ্ছিল না।
দেরিতে জারি করা হলেও বিধিমালায় যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে, তাতে সুচিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে। এজন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ধন্যবাদ পেতেই পারে। বিধিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য ও সেসব শিশুখাদ্য ব্যবহারের সরঞ্জাম আমদানি, স্থায়ীভাবে উৎপাদন, বিপণন, বিক্রি বা বিতরণের জন্য নিবন্ধন নিতে হবে। মন্ত্রণালয়কে খেয়াল রাখতে হবে, নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ হয়। সব শর্ত পূরণ করলে তবেই নিবন্ধন দিতে হবে। আইন অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ করেছে, এমন কোম্পানি ব্যতীত অন্যগুলোকে বাজারে থাকতে দেয়া যাবে না। নিবন্ধনের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠান যেন বাজারে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য উৎপাদন বা বিপণনে জড়িত থাকতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আবার শুধু নিবন্ধন দিলেই হবে না, কোম্পানিগুলো শর্ত মেনে চলছে কিনা, তাও নিয়মিত নজরদারি করতে হবে। মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য-সংক্রান্ত প্রলোভনমূলক প্রচারণা নিষিদ্ধ করা এ বিধিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এটি যুক্ত করে সঠিক কাজই করেছে মন্ত্রণালয়। আমরা দেখি যে, বিকল্প শিশুখাদ্য বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করে। এতে বুকের দুধের পরিবর্তে শিশুকে বাজার থেকে কিনে গুঁড়ো দুধসহ বিকল্প খাদ্য খাওয়ায় অনেকে। মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় কিংবা অর্থায়নে অনেক সময় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যেখানে গর্ভবতী নারী, শিশুর মা, মাতৃদুগ্ধ প্রদানকারীসহ শিশুর পরিচর্যাকারীদের শিশুস্বাস্থ্য-বিষয়ক নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া হয়। বিশেষ করে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্যের পুষ্টির মান বা তার ঝুঁকিমুক্ততা সম্পর্কিত অথবা শিশুর শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষের প্রলোভনসংবলিত নানা রকম বিভ্রান্তিকর বার্তা দেয়া হয় সেখানে। বিধিমালায় এ ধরনের কার্যকলাপের বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া শিশুখাদ্য বা সরঞ্জামাদি বিক্রির পরিমাণের ওপর কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের কর্মচারী অথবা কোনো বিক্রেতাকে কমিশন, আর্থিক সুবিধা বা উপহারসামগ্রী দেয়া যাবে না। এগুলো অত্যন্ত ভালো ও যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।

বিধিমালা জারি করতে দীর্ঘ সময় লাগলেও এর বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ করা হবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। আইন না মানলে যে দ-ের বিধান ও কোনো কোম্পানির খাদ্যের কারণে শিশুর মৃত্যু হলে যে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তা অবশ্যই প্রতিপালন করতে হবে। বিধিমালায় শিশুখাদ্য নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়ার জন্য যে জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে, তার দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই আমরা।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।