কার্পাসডাঙ্গা ফাড়ির এএসআই মাসুদ রানার বিরুদ্ধে

294

যুবককে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দামুড়হুদা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়ির বিরুদ্ধে মাদকদব্য ও চোরাচালান উদ্ধারের পর টাকার বিনিময়ে তা ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে হরহামেশাই। গত বুধবার রাতেও রেজাউল ইসলাম নামের এক যুবককে আটকের পর অস্ত্র ঠেকিয়ে ক্রসফায়ার এবং অস্ত্র মামলার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়ির এএসআই মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। তাকে বাড়ি থেকে তুলে ফাড়িতে নিয়ে মারধর এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা আদায় করেন ওই এএসআই। টাকা নেয়ার পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে রেজাউরকে। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশি হয়রানি আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দামুড়হুদার কুড়ুলগাছি গ্রামের হযরত আলির ছেলে রেজাউলের বাড়িতে হাজির হয় কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়ির এএসআই মাসুদ রানা ও এক কনস্টেবল। সেখান থেকে হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে রেজাউলকে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়িতে তুলে নিয়ে আসে। বাড়ির লোকদের শাসিয়ে আসে এ ঘটনা কাউকে না বলতে। ভুক্তভোগী যুবক রেজাউল জানান, গত বুধবার রাত ১২টার দিকে আমার নিজ বাড়ি থেকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ধরে নিয়ে কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে হুমকি-ধামকি আর নির্যাতন চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। টাকা না দিলে অস্ত্র ও মাদক মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা, এমনকি ক্রসফায়ারেরও হুমকি দেয় আমাকে। টাকা আদায়ের জন্য যোগাযোগ করা হয় পরিবারের সাথে। মামলা বা ক্রসফায়ারের ভয়ে বুধবার রাতেই ৭ হাজার হাজার টাকা দেয় আমার পিতা। এ ঘটনা কাউকে না বলার ভয় দেখায় আমাকে। পরে রাত ২টার দিকে আমাকে ছেড়ে দেয় ওই পুলিশ কর্মকর্তা।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু এলাকাবাসী জানান, সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়ি কর্তৃক মাদকদব্য উদ্ধারের পর টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া নিত্যদিনের ঘটনা। এসব কারণে আটক করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়সহ পুলিশি হয়রানি ও আতংকে সর্বদায় ভীতিগ্রস্ত থাকেন তারা। আর এএসআই মাসুদ রানার ভয়ে তো রাতে সাধারণ মানুষের শান্তিতে ঘুমানোর কায়দা নেয়। যে কোন সময় এসে ধরে নিয়ে গিয়ে যে কোন মামলা দিয়ে হয়রানি করে সাধারণ মানুষদের। এজন্য আমরাও চরম আতঙ্কে থাকি। এর অবসান কবে হবে জানি না। আর কতদিন এভাবে পুলিশের অত্যাচার সইতে হবে কে জানে। আমরা এর র্তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই মাসুদ রানা জানান, যুবক রেজাউল ইসলামকে আটক করেছিলাম আমি। তবে তার কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়নি। তার পিতার কাছে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। পরে তাকে রেজাউলের অভিযোগের কথা জানালে তিনি কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ (আইসি) এসআই আসাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ জানান, এ ধরণের কোন অভিযোগ এখনও পায়নি। তবে, এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। অভিযুক্ত এএসআই মাসুদ রানা দোষি হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সীমান্তবর্তী এলাকা কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্প পুলিশ কর্তৃক সংঘটিত এই জাতীয় আচরণের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোন ধরণের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণেও ভয় পাচ্ছে ভুক্তভোগী যুবক রেজাউল ও তার পরিবার।