কারখানা মালিককে জরিমানাসহ মালামাল ধ্বংস

137

আলমডাঙ্গায় রাসায়নিকদ্রব্য ব্যবহার করে ডেইরি ও ফিস ফিড তৈরী
আলমডাঙ্গা অফিস:
রাসায়নিকদ্রব্য ব্যবহার করে ডেইরি ও ফিস ফিড তৈরীর প্রক্রিয়া করায় আলমডাঙ্গায় শিপন আলী নামের একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় শিপনের গোডাউনে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় ও মালামাল তৈরীর উপকরণ ধ্বংস করা হয়। গতকাল রোববার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ন কবির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ গ্রামের মোশারেফ হোসেনের ছেলে শিপন আলী প্রায় একমাস আগে আলমডাঙ্গার বাস টার্মিনালের অদূরে একটি গোডাউন ভাড়া নেন। সে ওই স্থানে মেশিন বসিয়ে এসিড জাতীয় রাসায়নিকদ্রব্য ডলোমাইন্ড চুন ও মাটি জাতীয় পদার্থ মজুদ করে। সেখানে ভেজাল সার তৈরী হচ্ছে বলে প্রশাসনের কাছে সংবাদ আসে। এই সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সেখানে কাজ করা ৫ জন শিশু শ্রমিককে আটক করে। এ সময় পুলিশ বেশকিছু মালামাল জব্দ করে। শিশু শ্রমিকরা না বুঝে ওই কারখানায় কাজ করায় তাদের স্বজনদের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়। পরে এ কারখানার মালিক শিপনকে পুলিশ আটক করে। আটকের পর তাকে জিজ্ঞানাবাদ করলে সে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি এবং তার কারখানার অনুমোদন কপিসহ মৎস ও পশুখাদ্য উৎপাদনের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি শিপন। এসময় মৎস কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, মৎস কর্মকর্তা কামরুন্নাহার আখি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় সংবাদ দেও য়া হয় সহকারী কমিশনার ভূমি হুমায়ন কবিরকে। পরে অবৈধভাবে রাসায়নিক জাতীয় দাহ্য পদার্থ ও ডলোমাউন্ড চুন ব্যবহার করে মৎস ও পশুখাদ্য উৎপাদনের প্রক্রিয়া করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে শিপন আলীর বিচার করা হয়। বিচারে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও এসব মালামাল ধ্বংস করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি হুমায়ন কবির জানান, ‘পরিদর্শনকালে আমরা দেখি রাসায়নিক জাতীয় বিস্ফোরকদ্রব্য আছে। তা ছাড়া মাছের খাবার তৈরীর কোনো উপকরণ ছিল না। তাই আমরা অপরাধীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫২ ধারায় জরিমানাকরা এসব মালামাল ধ্বংস করি।’