চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২২ এপ্রিল ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কাণ্ডজ্ঞানহীন সেই করোনা রোগী ও তাঁর ছেলেকে পাঠানো হলো কুর্মিটোলা হাসপাতালে

সমীকরণ প্রতিবেদন
এপ্রিল ২২, ২০২০ ৯:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কাণ্ডজ্ঞানহীন সেই রোগীকে তাঁর ছেলেসহ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ বিভাগ। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা দেড়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা করোনা কন্ট্রোল রুমের একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাঁদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুরে করোনা শনাক্ত হওয়া শহীদ উদ্দীন (৬৫), তাঁর ছেলে প্যারা মেডিকেল রাসেল আহমেদসহ তাঁদের সংস্পর্শে থাকা পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীদের স্বাভাবিক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ওই এলাকা লকডাউন করে পুলিশি প্রহরা আরও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, করোনা পজেটিভ ওই ব্যক্তি কিডনিজনিত অসুস্থতা নিয়ে গত ৯ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সে সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্সসহ যেসব স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত শহীদ উদ্দীনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা কোভিড-১৯ ক্যাম্পেইনের মেডিকেল টিম ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এর আগে করোনা শনাক্ত হওয়া শহীদ উদ্দীনের নমুনা পুনরায় সংগ্রহসহ তাঁর স্ত্রী আম্বিয়া বেগম (৫৫) ও ছেলে রাসেলের নমুনাও সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম গবেষণাগারে পাঠিয়েছে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হওয়া শহীদ উদ্দীন ও তাঁর ছেলে রাসেল আহমেদ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কোভিড-১৯ ক্যাম্পেইন সদর হাসপাতাল কোর টিমের চেয়ারম্যান চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী ৯ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত কিডনিজনিত অসুস্থতা নিয়ে শহীদ উদ্দীন হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ১২ এপ্রিল তাঁকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ উদ্দীনের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে নিকডু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা পরীক্ষার জন্য ১৬ এপ্রিল তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ পাঠায়। ১৮ এপ্রিল শহীদ উদ্দীনের পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ এলে নিকডু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরবর্তীতে করোনা শনাক্ত রোগীকে মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে না নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন বেগমপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে নিয়ে চলে আসে এবং সব তথ্য গোপন করে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকাতে চলাচল করতে থাকে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকারি নিদের্শনা মেনে দর্শনা থানাধীন প্রতিটি এলাকায় লকডাউন চলমান ছিল। যেহেতু এখন আমাদের এলাকায় একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় চলাচল করেছে। যে কারণে এলাকায় লকডাউন আরও জোরদার করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের না হওয়ার নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি পাহারা।’
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা সদরের বেগমপুর গ্রামে শহীদ উদ্দিন (৬৫) নামের এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর গত সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গোটা জেলাজুড়েই তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই দিনই আক্রান্ত শহীদ উদ্দিনের ছেলে প্যারামেডিকেল রাসেল আহমেদ (অভি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বাবা করোনা আক্রান্তের কথা স্বীকার করে একটি স্ট্যাটাস দেন। কিন্তু আক্রান্ত ওই ব্যক্তি তথ্য গোপন করে তিন দিন নিজ গ্রামে স্বাভাবিক চলাফেরা করার কারণে সাধারণ গ্রামবাসী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ওই ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার আসলেই কাণ্ডজ্ঞানহীন। বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের গোচরীভূত হলে তিনি সোমবার রাতেই সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে ওই এলাকা লকডাউন ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামিম কবির জানান, ‘চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় আমি একটি মেডিকেল টিমকে নিয়ে বেগমপুর গ্রামে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, ওই রোগী ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ হাপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তাঁর মধ্যে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির উপসর্গ প্রত্যক্ষ হওয়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজ কর্তৃপক্ষ তাঁর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর-এ পাঠায় এবং রোগীকে মুগ্ধা হাসপাতালে রেফার্ড করে। কিছুটা সুস্থ অনুভব করলে সেখানে না যেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। প্রশাসনের সহায়তায় তাঁর বাড়িটিকে লকডাউন করা হয়েছে। যেহেতু তিনি একজন কিডনি রোগী, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাঁকে উন্নত ও যথাযথ চিকিৎসার জন্য স্কোর্য়াড টিমের মাধ্যমে ঢাকায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।