চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে

জীবননগর উপজেলার ৮ ইউনিয়ন বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবু খান
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২, ২০২২ ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিশিরাতের সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে : সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান শরীফ

 

প্রতিবেদক, আন্দুলবাড়ীয়া: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা তিনটায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে উৎসবমুখর পরিবেশে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের তালে তালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও উদ্বোধক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। অনুষ্ঠান থেকে শান্তির প্রতীক পাঁয়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। এদিকে, দীর্ঘ ১১ বছর পর এ ইউনিয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্যতা দেখা য়ায়। সর্বশেষ ২০১১ সালে জীবননগর উপজেলার ইউনিয়নগুলোর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন খান খোকনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি এ দেশের গণমানুষের দল, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। গণতান্ত্রিকভাবে ভোটের মাধ্যমে আপনাদের নেতা নির্বাচিত করবেন। আপনার স্লোগান থাকবে আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দিব। ইউনিয়নে ইউনিয়নে শক্তিশালী কমিটি গঠনে আপনার পছন্দের নেতাকে ভোট দিয়ে কমিটি নির্বাচিত করুন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ কারো প্রতিপক্ষ থাকবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে। প্রতিহিংসার নীতি পরিহার করে নির্বাচনের পর আপনারা সকলে হাতে হাত, কাঁেধ কাঁধ মিলিয়ে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। যদি কোনো ইউনিয়নে ভোট নয়, সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিটি উপহার দেন, আমরা সে কমিটিকে সাধুবাদ, স্বাগত ও ধন্যবাদ জানাবো।

সম্মেলনের উদ্বোধক জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। দলকে শক্তিশালী করতে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। আর দলের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সকলেই মনে রাখবেন, কমিটিতে দলের ত্যাগী ও বলিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের স্থান দেওয়া হবে, মুখ দেখে কোনো ব্যক্তিকেই পদ-পদবি দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত না, তাদের কাছে জনগণের কোনো মূল্য নেই। জনগণ বাঁচল কি মরল সেটি তাদের কাছে কোনো বিবেচ্য বিষয় না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার। তার জন্য প্রয়োজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। তাই দেশ ও জনগণ বাঁচাতে তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই নিশিরাতের সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, খাঁজা আবুল হাসানাত, আবুল হোসেন তোয়া, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য এমদাদুল হক ডাবু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন, উথলী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সীমান্ত ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন মঈন, বেগমপর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ, জীবননগর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হাজি নোয়াব আলী, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মালিতা ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান ঝণ্টু।

সম্মেলনে আলোচনা পর্ব শেষে আন্দুলবাড়ীয়া, উথলী, সীমান্ত, হাসাদাহ, রায়পুর, মনোহরপুর ও কেডিকে ইউনিয়নের মধ্যে উথলী ও সীমান্ত ইউনিয়নের কমিটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সমন্বয়ের মাধ্যমে গঠন করা হয়। বাকি ইউনিয়নগুলোতে গোপন ব্যালেটের মাধ্যমে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একমাত্র বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন অনিবার্যকারণবশত স্থগিত রাখা হয়েছে।

নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান খান বাবু। প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আতিয়ার রহমান, ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদে আজিম খান ও সহসভাপতি পদে রফু উদ্দিন। হাসাদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শাহাজান আলী, সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুস সালাম, সহসাধারণ সম্পদক সামসুল আলম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান। সীমান্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ওসমান গণি, সহসভাপতি বিপলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বদর উদ্দিন বাদল, সহসাধারণ সম্পাদক নবাব ইমরান হোসেন টিটু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আযূব আলী। উথলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম রেজা, সহসভাপতি ইউনুছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন জাহিদ, সহসাধারণ সম্পাদক নাসির হায়দার হিরক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবর রহমান।

রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান। এ ইউনিয়নে সাধারণ সম্পাদক পদে মতিয়ার রহমান ও আনিছুর রহমান স্বপন উভয় ৩৪ ভোট পাওয়ায় পদটি স্থাগিত ঘোষণা করা হয়। কেডিকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মনোয়ার হোসেন মাস্টার, সহসভাপতি বজলুর রহমান টুটু, সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলীম ও সহসাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। নির্বাচিত কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা যুবদলের অন্যতম নেতা সাইফুল ইসলাম ও আবু তালেব।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।